সশরীরে নেই, বঙ্গবন্ধু আছেন হৃদয়ের মণিকোঠায়
খন্দকার আনিসুজ্জামান । সোমবার, ২৮ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১২:৫৩
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাট ধরেই আসে বাঙালির স্বাধীনতা, জন্ম নেয় বাংলাদেশ। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে হায়েনার দল কেড়ে নেয় তার প্রাণ। ঘাতকরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল; কিন্তু পারেনি। জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু আরও শক্তিশালী ও তেজস্বী। তিনি চিরভাস্বর হয়ে আছেন প্রতিটি বাঙালির আদর্শে, প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায়।
গোটা বাঙালি জাতি শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, কৃতজ্ঞচিত্তে আজ স্মরণ করে জাতির পিতাকে। বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির নেতা ছিলেন না; ছিলেন বিশ্বের নিপীড়িত-নিষ্পেষিত মানুষের নেতা। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বঙ্গবন্ধুর নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের ত্রাণকর্তা হিসেবে সুখ্যাতি রয়েছে। মহাত্মা গান্ধী, বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র বসু, মহামতি লেনিন, হো চি মিন, মাও সে তুং, কামাল আতাতুর্ক, জোসেফ ব্রজ টিটো, ফিদেল কাস্ত্রো, ইন্দিরা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলা প্রমুখ মুক্তিকামী নেতার মতো চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু।
স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু বেশিদিন দেশগঠনের কাজ করে যেতে পারেননি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী ও উচ্চাভিলাষী বিশ্বাসঘাতক অফিসারের হাতে সপরিবারে নিহত হন।
বাংলাদেশে আজ দৃশ্যমান অনেক উন্নতি হয়েছে বটে। একই সঙ্গে সংঘাত, সন্ত্রাস এবং ‘মাইম্যান’ সৃষ্টির প্রবণতা দ্রুত বেড়ে চলেছে। সবাই যেন টাকার পাহাড় গড়ে তোলার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। পদ-পদবির দাম্ভিকতায় দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলতেও যেন তাদের অনীহা। সততা, ন্যায়নীতি, মানবতা যেন আজ তুচ্ছ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে যেখানে থাকবে না মানুষে মানুষে হানাহানি, হিংসা-বিরোধ আর মানবিক অবক্ষয়। সেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ মিলিত হবে এক প্রীতির বন্ধনে।

