ইন্ডিয়ায় দক্ষিণী সিনেমার জয়রথ টিকবে তো?
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১২:৪০
ভিনদেশি দর্শকের কাছে দশকের পর দশক ধরে ইন্ডিয়ার চলচ্চিত্র মানেই ছিল বলিউডের হিন্দি সিনেমা। বহু ভাষার এ দেশে অন্য ভাষার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ‘আঞ্চলিক’ তকমাতেই ছিল খুশি। সেই ধারা কি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে? সম্প্রতি কন্নড় ভাষায় নির্মিত ‘কেজিএফ চ্যাপ্টার ২’ মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি আরও কয়েকটি ভাষাতেও ‘ডাব’ বা ভাষান্তর করে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পুরো ইন্ডিয়াতে সাড়ে চার হাজার প্রেক্ষাগৃহে এ সিনেমা মুক্তি পায়। এমন সংখ্যা সাধারণত সালমান খানের মত হিন্দি অধ্যুষিত বলিউড সুপারস্টারদের সিনেমার ক্ষেত্রেই দেখা যেত আগে।
দারুণ শুরুর পর এখন ‘কেজিএফ ২’ বক্স-অফিসের অন্যতম সফল সিনেমা হতে চলেছে। ‘কেজিএফ ২’ মূলত ‘কেজিএফ’-এর সিক্যুয়েল। একটি সোনার খনির দখল নিতে লড়তে থাকা একজন গ্যাংস্টারকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে সিনেমার কাহিনী। তেলেগু ভাষার সিনেমা ‘আরআরআর’ মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই মুক্তি পেয়েছে কেজিএফ ২। ‘আরআরআর’ এখনও সিনেমা হলগুলোতে দর্শক টানছে এবং এর শুরুটাও ছিল বেশ ভালো। কয়েক মাস আগেই মুক্তি পায় তেলেগু ভাষার আরেক চলচ্চিত্র ‘পুষ্পা’। এ সিনেমাও হিন্দিভাষী অঞ্চলে ভালো ব্যবসা করেছে। পুষ্পার সংলাপ, গান ও নৃত্যভঙ্গী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর অনুকরণে ইনস্টাগ্রামে প্রচুর ‘রিল’ প্রকাশ করেছেন দর্শকরা।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা লিখেছে, বহু দশক ধরে অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতা ‘প্যান-ইনডিয়ান’ বা ‘সর্ব-ভারতীয়’ চলচ্চিত্র নির্মাণের চেষ্টা করে আসছেন, যা দেশের সব এলাকার দর্শকদের টানতে পারবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ভারতের বিভিন্ন এলাকার সংস্কৃতি ও ভাষার বৈচিত্র্য।তামিল পরিচালক মনি রত্নম ও সংকরের মত হাতেগোনা কয়েকজন এ চেষ্টায় স্বল্প সময়ের জন্য সফলতার মুখ দেখেছিলেন। বৃহত্তর ‘জাতীয়’ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয়কে উপজীব্য করে, নাটকীয় ভালোবাসার গল্প শুনিয়ে কিংবা বড় তারকাদের নিয়ে বিশাল প্রযোজনার মাধ্যমে সাফল্য পেয়েছেন তারা।
কিন্তু সেসব উদ্যোগ ধারাবাহিকতা পায়নি। অন্যদিকে বলিউডের সিনেমার বাজেট যেমন বড় থাকে, এর দর্শকগোষ্ঠীও থাকে বিস্তৃত, কারণ হিন্দি ভারতের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ভাষা। এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যাওয়ার ঝুঁকি অন্য ভাষায় নির্মিতারা খুব বেশি নিতে পারেননি। চলচ্চিত্র সমালোচক অনুপমা চোপড়া বলেন, দক্ষিণী চলচ্চিত্র শিল্প অসাধারণ চমৎকার সব সিনেমা নির্মাণ করছে এবং এটা খুবই ভালো খবর যে সেগুলো নতুন দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে পারছে। আমি মনে করি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিগুলোর মধ্যে এই মিথস্ক্রিয়া ইন্ডিয়ার সিনেমার জন্য সুফলই বয়ে আনবে। বার্তা সংস্থা লিখেছে, দর্শক-চাহিদার দিক দিয়েও কিছু পরিবর্তন আসছে বলিউডে। মাল্টিপ্লেক্স ও শহুরে দর্শকদের টানতে বলিউডের নির্মাতারা ‘লার্জার-দ্যান-লাইফ হিরো’ কেন্দ্রিক সিনেমা নির্মাণ কমিয়ে দিয়েছেন। বলিউডে এই সময়ে গল্পের বৈচিত্র্য ও অভিনয়ের দক্ষতার উন্নতি হলেও, প্রচলিত দর্শক শ্রেণির একটি বড় অংশ নিজেদের বঞ্চিত ভাবতে শুরু করেছেন।
ইউডি/সুপ্ত

