স্যার আইজ্যাক নিউটন: বিজ্ঞান জগতে এক অবিনশ্বর নাম
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৫:১০
নিউটন ও আপেল এর গল্প আমরা ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি। এরপর যত বয়স বেড়েছে তার সাথে সাথে নিউটন এর আবিষ্কার, মধ্যাকর্ষণ শক্তি, নিউটনের সূত্র,নিউটনের প্রথম সূত্র, নিউটনের ভরবেগ ইত্যাদি বিষয় গুলির সাথে পরিচয় হয়েছে। বিশ্বের বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন মো. সাইফুল ইসলাম অনিক।
স্বয়ং বিশ্ব বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক আইনস্টাইন স্যার আইজ্যাক নিউটনকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন। তার জ্ঞানের গভীরতা সম্বন্ধে ভক্তরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেছিলেন, জ্ঞান সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে এতোকাল শুধুমাত্র কয়েকটা নুড়ি পাথর কুড়িয়েছি, আসল সমুদ্রের রহস্য কিছুই তেমন জানতে পারিনি।
আইজ্যাক নিউটন কে ছিলেন?
আইজ্যাক নিউটন ছিলেন প্রখ্যাত ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রাকৃতিক দার্শনিক এবং আলকেমিস্ট। অনেকের মতে, নিউটন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী। ১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে তার বিশ্ব নন্দিত গ্রন্থ ফিলসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা প্রকাশিত হয় যাতে আইজ্যাক নিউটন সর্বজনীন মহাকর্ষ এবং গতির তিনটি সূত্র বিধৃত করেছিলেন। এই সূত্র ও মৌল নীতিগুলোই চিরায়ত বল বিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে, আর তার গবেষণার ফলে উদ্ভূত এই চিরায়ত বলবিজ্ঞান পরবর্তী তিন শতক জুড়ে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার জগতে একক আধিপত্য করেছে।
জন্ম ও পরিবার
বিশ্বের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন ১৬৪২ সালের ২৫শে ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কশায়ার অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন একজন কৃষক।
শৈশবকাল
স্যার আইজ্যাক নিউটন মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থাতেই তার পিতা মারা যান। পুত্রের জন্মাবার পূর্বেই স্বামী মারা যাওয়ায় নিউটনের মা খুব আঘাত পান। দুঃখ ভুলতে স্বামীর নামানুসারেই তিনি পুত্রের নাম রাখেন আইজ্যাক নিউটন। নিউটনের মায়ের নাম ছিলো হ্যানা নিউটন। নিউটনের দাদার নাম ছিলো রবার্ট নিউটন। পৈতৃক সূত্রে নিউটন যথেষ্ট বিষয় সম্পত্তির মালিক হন।
অল্প বয়সে স্বামীর মৃত্যু হলে নিউটনের মা স্থানীয় গির্জার এক ধনী পাত্রীকে বিয়ে করেন। এই ঘরে আরো এক ছেলে ও দুই মেয়ে জন্মায়। মা হ্যানা বড় ছেলে নিউটনকে সংসার দেখাশুনার ভার দিলেন। কিন্তু নিউটনের ভালো লাগতো পড়াশুনা। তিনি রাতদিন প্রায় সারাক্ষণ পড়াশুনায় নিমগ্ন থাকতেন। সংসারের কাজকর্মে মোটেই মনোযোগ দিতে পারতেন না। এছাড়া জ্ঞান হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি নিয়ে তিনি গবেষণা করতেন। কিছু আবিষ্কার করতে হবে, এই ছিলো তার নেশা। তিনি অঙ্কন বয়সে একটা জলঘড়ি নির্মাণ করেন— প্রতিবেশিরা তা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলো। তারা প্রায়ই এটা দেখে যেতো।
শিক্ষাজীবন ও এম. এ. পাস
স্যার আইজ্যাক নিউটন ১৬৬৪ সালে ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজ থেকে বি. এ. পাস করেন। এই সময় থেকেই শুরু হয় তার উদ্ভাবনী শক্তির চরম বিকাশ। আধুনিক বিজ্ঞানকে পরীক্ষামূলক প্রমাণের সাহায্যে গ্যালিলিওর পর পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেন স্যার আইজ্যাক নিউটন। ১৬৬৭ সালে তিনি এম. এ. পাস করেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে স্যার আইজ্যাক নিউটন আলোকবিদ্যা, গতিবিদ্যা এবং গণিতেও তার ভবিষ্যত শ্রেষ্ঠত্বের সূচনা করেন। তার প্রিয় বিষয় ছিলো অংক, জ্যোতির্বিদ্যা এবং বলবিদ্যা।
নিউটনের অনুপ্রেরণা
স্যার আইজ্যাক নিউটন ইতালীয় বিজ্ঞানী গ্যালিলিও দ্বারা অনুপ্রাণিত হন নানাভাবে। গ্যালিলিও আবিষ্কৃত দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মতো আর একটি প্রতিবিম্বিত দূরবীন তিনি তৈরি করেন। দূরবীনের সাহায্যে তিনি মহাকাশের গ্রহ–নক্ষত্রের গতিবিধি লক্ষ্য করতে পারতেন, যা তার গবেষণার সহায়ক হতো।
নিউটন ও আপেলের গল্প
এক গরমের দিন বিকেল বেলা নিউটন তার গ্রামের বাড়ির বাগানে চুপচাপ বসে আছেন। এমন সময় পাশের আপেল গাছ থেকে একটা। আপেল খসে তার পায়ের কাছে পড়লো। নিউটন হঠাৎ ভাবতে লাগলেন আপেলটা মাটিতে পড়লো কেন? উপরেও তো উড়ে যেতে পারতো।
মধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কার
গভীর চিন্তার পর তার মনে হলো নিশ্চয় পৃথিবী এই ফলকে তার দিকে আকর্ষণ করছে। তাই ফলটা এভাবে মাটিতে পড়েছে। পরে গভীর গবেষণার পর তিনি আবিষ্কার করেন এই আকর্ষণ শক্তি। এর ফলে তিনি আরো আবিষ্কার করেন মধ্যাকর্ষণ শক্তি। পৃথিবী শুধু নয়, গ্রহ–নক্ষত্ররা একে অপরকে আকর্ষণ করে। নিউটনের এই আবিষ্কার বিশ্বের এক অত্যাশ্চর্য ঘটনা হিসাবে পরিগণিত।
আইজ্যাক নিউটন এর গ্রন্থ
স্যার আইজ্যাক নিউটনার বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলে অর্জিত সিদ্ধান্ত গুলো ‘প্রিন্সিপিয়া নামক এক বইতে সন্নিবেশিত করে তা পুস্তকাকারে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে ১৬৮৭ সালে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ প্রিন্সিপিয়া তিন খন্ডে প্রকাশিত হয়।
আইজ্যাক নিউটন এর মৃত্যু
নিউটন ছিলেন চিরকুমার। ১৭২৭ সালে ৮৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। স্বয়ং বিশ্ব বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক আইনস্টাইন স্যার আইজ্যাক নিউটনকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন। বর্তমান বিশ্বের বিজ্ঞানের এতো উৎকর্য তার আবিষ্কারের জন্যই হয়েছে। তার নানাবিধ সূত্র ও আবিষ্কার যদি না হত তাহলে বিশ্ব এতো দ্রুত এতো উন্নতি লাভ করতে পারতো কিনা সন্দেহ হয়েছে।
ইউডি/অনিক

