বিশ্বে দরবারে দেশের গৌরব নিশান উড়িয়েছেন শেখ হাসিনা

বিশ্বে দরবারে দেশের গৌরব নিশান উড়িয়েছেন শেখ হাসিনা

মতিয়াজ মজুমদার । রবিবার, ০১ মে ২০২২ । আপডেট ১৭:০৭

আপন স্বকীয়তায় সমুজ্জ্বল এক নাম শেখ হাসিনা, যে নামটি আজ সারা বিশ্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। একজন শেখ হাসিনা কিভাবে সমস্যা-সঙ্কুল দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বে দরবারে বাংলাদেশের গৌরব নিশান উড়িয়েছেন- তা আজ অবাক বিস্ময়ে দেখছে বিশ্ববাসী। আধুনিক বিশ্বের বাঘা বাঘা সব অর্থনীতিবেত্তা ও গবেষকরা আজ বিশ্লেষণে ব্যস্ত বাংলার এমন এক সূর্যকন্যার উন্নয়ন কৌশল নিয়ে, যিনি উঠে এসেছেন বাংলার কাদা-জল থেকে, সোদা মাটির মদিরতাময় গন্ধ গায়ে মেখে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান আদর্শ, দয়া, ঔদার্যবুকে নিয়ে। শেখ হাসিনার মমতাময় উদার জমিনে আজ ১৮ কোটি বাঙালির নিরাপদ শান্তিময় আবাস।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন অগ্রযাত্রা মানেই সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অব্যাহত যাত্রা; যেই যাত্রার শুরু হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। অনুন্নত আর স্বল্প আয়ের দেশকে উন্নয়নের অভিগামিতায় পৌঁছে দিতে শেখ হাসিনার চতুর্মুখী কর্মপরিকল্পনার সুফল আজ বাংলাদেশের সব জায়গায় স¤প্রসারিত। শেখ হাসিনা আসলে শত্রর আগুনের ছাই আর পাষাণ রক্তগঙ্গা বেয়ে উঠে আসা এক লৌহমানবী, যিনি বেদনার বিষে নীলকণ্ঠি হয়েও জাতিকে সমৃদ্ধির পথে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন অসীম মমতায়। শুধু টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেই নয়, গত এক যুগের পথচলায় শেখ হাসিনাকে আরও বেশি নজর দিতে হয়েছে অতি সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের প্রাসঙ্গিক ঘটনাপ্রবাহে। মানুষের পাঁচটি নাগরিক মৌলিক অধিকারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যে নতুন কর্ম প্রকল্পে সারা দেশকে ঢেলে সাজানো এবং গোছানো হয়েছে তা ক্রমাগতই উজ্জ্বল আলোকে উদ্ভাসিত। অর্জন-বিসর্জনের হরেক রকম টানাপোড়েনে এখন অবধি প্রাপ্তির পাল্লাই ভারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শনিষ্ঠ স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে যে মাত্রায় দেশ ও জাতিকে একসঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে তাতে প্রবৃদ্ধির উচ্চ মাত্রায় পৌঁছে যেতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। তবে এখন অবধি সমস্যাসঙ্কুল বিপন্ন পথ পাড়ি দিতেও সরকারকে নানা মাত্রিকে ভাবার অবকাশ থেকে যাচ্ছে। বছরজুড়ে সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও করোনার বহুল সংক্রমণে আক্রান্তই শুধু নয়, তাকে সামলাতে গিয়ে স্বাস্থ্য খাতের দুর্বিষহ চিত্রও দেখতে হয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি আর অনৈতিক কার্যকলাপকে সমূলে উৎখাত করতে হলে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরী। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর চিত্রও আশ্বস্ত হওয়ার মতোই। তার পরেও সমূহ বিপর্যয়কে ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট কর্মতৎপরতায় এগিয়ে যাওয়ার কার্যক্রম প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে। কিšদ দেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির দাপট আর সীমাহীন ঔদ্ধত্যে দেশে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে তেমন দুঃসহ যাত্রাপথকেও সামাল দিতে হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুর নিয়ে যে অশুভ পদচারণা তাতে সারা জাতি বিক্ষুব্ধ এবং প্রতিবাদ প্রতিরোধে উত্তাল। উন্নয়নের এক যুগ পূর্তির শুভক্ষণে আর বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে পা রাখার সন্ধিক্ষণে কোন হিসাব নিকাশ ছাড়াই দেশের যে অভাবনীয় উন্নয়ন তাতে কারও কোন দ্বিমত থাকার কথা নয়।

করোনা সঙ্কটকে যেভাবে মোকাবেলা করা হয়েছে তাতে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান শুধু ভালই নয় বরং দ্বিতীয় ঢেউ আসার প্রাক্কালে খুব বেশি অস্বস্তিতে এখন অবধি পড়তে হয়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি যে মাত্রায় উপেক্ষিত তার তুলনায় বাংলাদেশের মানুষের খুব বেশি যে ভুগতে হচ্ছে তা কিšদ বলা যাবে না। আমাদের জলবায়ু পারিপার্শ্বিক প্রতিবেশ, পরিশ্রমী শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকার কারণে গ্রামগঞ্জ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে করোনার থাবায় নাকাল হওয়ার মতো দুঃসহ অবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। তবে এই ব্যাধিতে অনেক মানুষ আক্রান্ত হলেও সুস্থতার হার সবাইকে স্বস্তি দিচ্ছে। উন্নয়নের বহুমাত্রিক গতিধারায় সাময়িক অবরুদ্ধতার জাল বিস্তার করলেও তাকে খুব সতর্কতা এবং সাবধানতায় নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও উঠে এসেছেন এক অনন্য উচ্চতায়, যেখানে বিশ্বের ১০০ জন ক্ষমতাধর নারীর জায়গায় সরকারপ্রধান ৩১তম। এও এক অনবদ্য সফলতা।

বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বৃহত্তর সড়ক-মহাসড়ক, সেতু আর কালভার্ট নব উদ্যমে বিনির্মাণ দেশে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার এক অভাবনীয় সাফল্য। সবচেয়ে ঈর্ষণীয় ব্যাপার হলো পন্সা সেতু। এ সেতু নির্মাণের চমৎকার চিত্র দেশের মানুষকে বিস্মিত করছে। নিজস্ব অর্থায়নে পন্সা সেতু বিনির্মাণ জাতির অহঙ্কার আর গৌরবের বিষয়।অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান ছাড়াও অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলো আধুনিক যাত্রাপথের অংশীদার হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অনমনীয় কর্মপ্রকল্পের ধারাবাহিকতায় দেশটাকে যে মাত্রায় সমৃদ্ধ করে তুলছেন সেখানে শুধু দক্ষিণ এশিয়া কিংবা বৃহত্তর এশিয়াই নয়, সারা বিশ্বের উন্নত দেশের কাতারে বাংলাদেশ তার আসনটি অচিরেই পেয়ে যেতে আর পেছনের দিকে তাকাতেও হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাজের কোনো ক্লান্তি নেই। অনীহা নেই। আছে সম্মুখে এগিয়ে যাওয়ার গতি। সততা, নিষ্ঠা ও নির্লোভ ভালবাসার কারণে শেখ হাসিনা স্থান করে নিয়েছেন কোটি বাঙালির হৃদয়ের মনিকোঠায়। বাংলাদেশের পরিবর্তনের অগ্রদূত শেখ হাসিনা হাজার বছর ধরে বেঁচে রইবেন বাঙালির হৃদয় থেকে হৃদয়ে।

ইউডি/সিফাত

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading