কৃষকের আলোর দিশারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু
নজরুল ইসলাম সেজান । শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২ । আপডেট ০৯:০০
গোপালগঞ্জে জন্ম নেয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মুক্তিকামী,স্বাধীনতাকামী মানুষের এবং সকল প্রকার অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে চির প্রতিবাদ কণ্ঠস্বর। শুধু তাই নয় তিনি ছিলেন,বিশ্বের নিপীড়িত মানুষেরও মুক্তির পথপ্রদর্শক। তিনি মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে বাংলার আনাচে কানাছে ঘুরেছেন, কৃষক, শ্রমিক, চাষাভুসা, কামার কুমার, জেলে, তাঁতিসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে মিশেছেন, তাদের অভাব, অভিযোগ, সমস্যার কথা শুনেছেন, সমাধানে তাদের নিয়েই রাজপথে আন্দোলন করেছেন।
তাই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার পর পরই কৃষক, শ্রমিক, মজুর, ছাত্রসহ সকল স্তরের মানুষের কল্যাণে নিয়েছিলেন পৃথক পৃথক কর্মসূচি। তিনি একাদ্বারে কৃষক, শ্রমিক মুজুর, ছাত্র, শিক্ষকের, খেটে খাওয়া মানুষের নেতা। তিনি শোষণহীন সমাজ গঠনের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি বাংলার প্রত্যেক মানুষের জীবনের জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন আহার, কাপড়, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কাজের সুযোগ সৃষ্টির জন্য নিজেকে বিসর্জন দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ও সমৃদ্ধ একটি সোনার বাংলা গড়তে কৃষিশিল্পের উন্নয়ন অপরিহার্য। তিনি উপলব্ধি করতেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হতে না পারলে, মানুষের অন্ন সংস্থান করতে না পারলে সকল অর্জন ব্যর্থ হবে। তিনি বুঝেছিলেন কৃষি একটি জ্ঞাননির্ভর শিল্প। তাই শিক্ষিত জনগৌষ্ঠীকে দেশ গঠনে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করার উপর গুরত্ব দিয়েছেলন। কারণ তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, গতানুগতিক কৃষিব্যবস্থা দ্বারা দ্রুত ক্রমবর্ধমান বাঙালি জাতির খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মাশাল এখন বহন করছেন তারই সুযোগ্য কন্যা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে কৃষি খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছেন। কৃষি খাতে আবার ভর্তুকি, সার বিতরণ ব্যবস্থা, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, শস্য বহুমুখীকরণসহ অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। বর্তমানে জনসংখ্যার ক্রমাগত বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব, শিল্পায়ন নগরায়ণ, কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার, রাসায়নিক সার ও কল-কারখানার দূষিত বর্জ্যে কৃষিসম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য এ দেশের কৃষি, কৃষক, কৃষিবিদ ও কৃষিবান্ধব সরকারের যৌথ উদ্যোগে কাজ করে চলছে।
ইউডি/সুস্মিত

