বাংলাদেশকে বিশ্বে নতুন মর্যাদায় উন্নীত করেছেন শেখ হাসিনা
শামিম আনসারি । শুক্রবার, ২০ মে ২০২২ । আপডেট ০৯:৪০
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী বিশ্বনেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্রান্তিলগ্নে বাঙালি জাতিকে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে তিনি নিয়ে গেছেন কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। দূরদর্শী নেতৃত্বে নবীন বাঙালি জাতিকে পৌঁছে দিয়েছেন সমৃদ্ধি ও অতুলনীয় উন্নয়নের এক ধারাক্রম। অসাম্প্রদায়িক, উদার, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে এনে দিয়েছে এক আধুনিক ও অগ্রসর রাষ্ট্রনায়কের স্বীকৃতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিলো বাংলার স্বাধীনতা ও বিশ্ব দরবারে বাঙালির মাথা উঁচু করা তথা সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা। তার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তার অসমাপ্ত কাজ অর্থাৎ সোনার বাংলা তথা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্নপূরণ করে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
শেখ হাসিনা- বাংলার মানুষের একমাত্র আশা-ভরসাস্থল। যিনি দুঃসময়ে জাতিকে পথ দেখিয়েছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ও দেশি-বিদেশি ঘাতকচক্র সপরিবারে হত্যা করে। সেই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। তবে তাদের দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে তৎকালীন সরকারের হুমকি উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে ভারত থেকে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। দেশে ফেরার পর থেকে শেখ হাসিনা টানা চার দশক ধরে সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন এদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারি, প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে। সেই সঙ্গে তার যোগ্য নেতৃত্বে চার বার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া দলটি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে শেখ হাসিনাকে এই দীর্ঘ সময় দলের প্রধানের দায়িত্বে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। নানা চড়াই-উৎড়াই, কারাবরণ, মৃত্যুর মুখোমুখী হওয়াসহ অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছেন। শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বের ফলেই আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ রেখে চার বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেয়েছে এবং বর্তমানে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতাসীন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের এই সময়ের শাসন আমলেই দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন মাত্রা সূচিত হয়েছে। শেখ হাসিনার শাসনামলেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ ডিজিটাল দেশে পরিণত হয়েছে।
চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংকটের এই ক্রান্তিকালেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো যেখানে করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে সেখানে শেখ হাসিনার পদক্ষেপে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ ভালো আছে। করোনা সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ওয়াল্ড ইকোনমিক ফোরাম, দি ইকোনমিস্ট, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বসসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। কমনওয়েলথের মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য গভীর অনুপ্রেরণাদায়ী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, এমজিডি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গসমতা, কৃষি দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলে পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচক বৃদ্ধি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি ও পরিশ্রমের ফসল। এছাড়া চলমান রয়েছে পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ, দেশের মেগা প্রকল্পগুলো।
শেখ হাসিনা আজ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ, বুদ্ধিমত্তায় প্রখর; সহনশীলতা ও দৃঢ়তা এবং ধৈর্য যেন তার চরিত্রগত ধর্ম। ভালোবাসায় ও সহমর্মিতায়ও তিনি বাংলার মানুষের প্রিয় এক ভগিনী, অতি আপনজন এবং একজন মমতাময়ী মা। তাই তো আজ তিনি বাংলাদেশের জনগণের হয়ে বিশ্বনন্দিত। বিশ্বনেতারাও তার নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনে সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তেনিয় গুতেরেস শেখ হাসিনার নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। এটা আমাদের জন্য বেশ গৌরবের ও আনন্দের। ডিজিটাল বাংলাদেশ-এখন বাস্তব। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আজ মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। নারীর ক্ষমতায়নে নেয়া নানা উদ্যোগও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। প্রায় ১১ লাখ নির্যাতিত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ইতোমধ্যে তিনি শান্তি, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, দারিদ্র্য বিমোচন, উন্নয়ন এবং দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ভূষিত হয়েছেন অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ পদক, পুরস্কার আর স্বীকৃতিতে। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ় মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাঁকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। তিনিই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, আশা-ভরসার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে শেখ হাসিনা তার সততা, আত্মত্যাগ, দূরদর্শিতা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে বিশ্বনেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার নেতৃত্বেই উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে মানুষ।
ইউডি/সুস্মিত

