বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন ভাবনার ব্যাপ্তি ছিল কালজয়ী
ওয়াহিদুজ্জামান খোকন । বুধবার, ২৫ মে ২০২২ । আপডেট ১০:১০
আধুনিক যুগে যে কয়জন মহান বাঙালি তাদের মেধার উৎকর্ষতা, প্রজ্ঞা, সময়োপযোগী ও গতিশীল নেতৃত্বে এবং সুনিপুণ চিন্তা-ভাবনরার আলোকচ্ছটায় বাঙালি জাতিকে ঐক্যবন্ধ করে অধিকার আদায়ের নিরবচ্ছিন্ন প্রেরণা যুগিয়েছেন, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বেড়াজাল ছিন্ন করে তিনি বাঙালি জাতিকে শুধু একটি দেশই উপহার দেননি; সদ্য স্বাধীন হওয়া একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো কেমন হবে-তারও একটি যুগোপযোগী রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।
১৭৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেই বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মনোনিবেশ করেন। একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী শাসনতন্ত্র রচনা করার উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাঠামো তৈরিতে আত্মনিয়োগ করেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু বৈষম্যহীন সমাজ ও কল্যাণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে গেছেন।
বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করেন আদর্শবান নাগরিকের মাধ্যমইে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কাঠামো তৈরী করতে হবে, রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি তিনি উপলব্ধি করেছিলেন নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্তের সমন্বয়ে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাঠামো হতে হবে পরিকল্পিত। বিশেষ করে, কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়ন দর্শন ছিল স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে প্রথাগত কৃষিকে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিক কৃষিতে রূপান্তর করা। ফলশ্রুতে কৃষি খাতে আয় বৃদ্ধি পাবে, ক্রমবর্ধমান গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। গ্রামীণ দরিদ্রতা হ্রাসের মাধ্যমে আয় বণ্টনে সমতা আনয়ন ত্বরান্বিত হবে। দেশীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে ফলশ্রুতিতে বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং শস্য, মাছ প্রাণিজাত দ্রব্য, ফল, সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব উন্নয়ন পরিকল্পনা যেমন গ্রহণ করেছিলেন তেমনি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। উপরন্তু জনসাধারণকে উদ্ধুদ্ধ করেছিলেন উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য, সোনার বাংলা বির্নিমাণে সক্রিয় অংশীদার হওয়ার জন্য। তারই ধারাবাহিকতার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নের বাস্তবতার তিনি অর্থনৈতিক কাঠামো একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড় করানো নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। সফলতাও পেয়েছিলেন তিনি।
ইউডি/সুস্মিত

