বঙ্গবন্ধুর হাতেই দেশের স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন শুরু

বঙ্গবন্ধুর হাতেই দেশের স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন শুরু

মহসিনা মান্নান এলমা । বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ । আপডেট ১২:৪৫

বঙ্গবন্ধুর হাতেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন শুরু হয়। স্বাস্থ্যকে সংবিধানের মূল অধিকারের অংশ হিসেবে সংযোজন, প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যকে গুরুত্বদান, গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, চিকিৎসকদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রদান, বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ গঠনসহ বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি।

দেশের স্বাস্থ্য খাতে গবেষণার জন্য তৎকালীন আইপিজিএম অ্যান্ড আর-কে (বর্তমানে শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন এবং এ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৩০০ থেকে ৫০০ বেডে উন্নীত করেন। বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

জাতির পিতা তখন অত্যন্ত দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে ১৯৭২ সালে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অব সার্জনস (বিসিপিএস) প্রতিষ্ঠা করেন। যারা পাকিস্তান থেকে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যারা বিদেশ থেকে এমআরসিপি, এফআরসিএস করেছেন, এ ধরনের ৫৪ জন ফেলো নিয়ে বিসিপিএসের যাত্রা শুরু। জাতির পিতা বিসিপিএস প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বলেই এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে ৬ হাজারের মতো ফেলো দেশে-বিদেশে কাজ করছেন। ৩ হাজারের মতো চিকিৎসক এমসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করে দেশে কাজ করেছেন- এটি দেশের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল শিক্ষার ক্ষেত্রে জাতির পিতার অনন্য অবদান বলে আমি মনে করি।

উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়াসহ পঙ্গু হাসপাতালে অর্থোপেডিক সার্জারির ওপর এমএস ডিগ্রি চালু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। এভাবে দেশে তিনি অর্থোপেডিক সার্জারির বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেন। তাছাড়া পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার ক্ষেত্রে আইপিজিএম অ্যান্ড আর-কে বঙ্গবন্ধু যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে শাহবাগে শিফট করেন, তখন শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৩০০ করা হয়। পরে জাতির পিতা এটি আরও বৃদ্ধি করে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করেন।

জাতির পিতার চিন্তা-চেতনা আমাদের চিন্তা-চেতনার চেয়ে বহুগুণে অগ্রসর ছিল। জাতির পিতা দেশের জনগণের জন্যই শাসনতন্ত্র তৈরি করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শুধু দেশকে প্রতিষ্ঠা ও শত্রুমুক্ত করে যাননি; মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা- অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কতটা জনকল্যাণমুখী ছিলেন বর্তমান সময়েও আমরা তা ভেবে অবাক হয়ে যাই।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading