অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাবেই বাংলাদেশ
সায়মা জাহান সরকার । বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ । আপডেট ১২:৫৫
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম ভিত্তি ছিল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার আর্থসামাজিক বৈষম্য। ১৯৪৭ সালের ইন্ডিয়া-পাকিস্তান বিভক্তির মাধ্যমে দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের জন্ম হলেও পাকিস্তানের অধিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে করা হয় একটি অবহেলিত উপনিবেশ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ভয়াল কালরাতে পাকবাহিনী নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালির উপড় ঝাপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চ ভোর রাতে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে পোড়াজমিতে পরিণত করে পূর্ব পাকিস্তানকে।
সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে দেখা দেয় নানা সমস্যা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেখা দেয় চরম অস্থিরতা। একসময় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শুরু হলো একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের কাজ। যখনই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই স্বপরিবারে নিহত হন স্বাধীনতার মহানায়ক। স্তব্ধ হয়ে যায় উন্নয়ন। দেখা দেয় সেনা ছাউনিতে বিশৃঙ্খলা। নানা চড়াই -উৎরাই পাড়ি দিয়ে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সংসদীয় গণতন্ত্র। নতুন করে স্বপ্ন দেখে বাংলার জনগণ। ঘুরে দাঁড়ায় অর্থনৈতিক চাকা যা বর্তমানেও অব্যাহত।
১৯৪৭ সালের পর আমরা নানা ধরনের খনিজ দ্রব্য আবিষ্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও সাশ্রয়ের স্বপ্ন দেখে এসেছি। সেক্ষেত্রে একটি স্বপ্ন পুরণ হয়েছে। ১৯৬২ সালের ২৩ আগস্ট তিতাস গ্যাস আবিষ্কৃত হয়। ১৯৬৮ সালের ১লা এপ্রিলে সেই গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। এবং বর্তমানে ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে এবং ২০১৮ সালের জুলাই মাসে বিদ্যুৎ, জ্বালানী এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সংসদে তথ্য দিয়েছেন, উত্তোলন যোগ্য নিট মজুদের পরিমাণ ১২.৫৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। গত কয়েক দশকে দেশে বহু রাস্তা ও ব্রিজ হয়েছে। যোগাযোগের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু। শীঘ্রই চালু হবে আমাদের বহুল আকাঙ্খিত স্বপ্নের পদ্মাসেতু।
দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সাধারণ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রযুক্তিক্ষেত্রেও আমাদের সফলতা উল্লেখ করার মতো। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদের ভাষ্য, ‘বর্তমানে দেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের আয় ১০০ কোটি ডলার। ২০২১ সাল নাগাদ এ আয় ৫০০ কোটি ডলারে উত্তীর্ণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা প্রযুক্তির বিকেন্দ্রীকরণ করছি। এ জন্য দেশব্যাপী ২৮টি হাইটেক পার্ক করা হয়েছে। এখানে আমাদের সবার একটাই ইচ্ছা, তা হলো অর্থনৈতিক-সামাজিক উন্নয়নে প্রযুক্তি ব্যবহার করা।
তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের উন্নতির প্রশংসা ইতোমধ্যে সারা বিশ্ব থেকেই আসছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্সের (উইটসা) মহাসচিব জেমস পয়জ্যান্টস বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ ভালো করছে এবং যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই উইটসা ঢাকাকে বেছে নিয়েছে বিশ্ব সম্মেলন করার জন্য। বাংলাদেশের ভিশন ২০২১ রয়েছে, যার মাধ্যমে আইসিটিতে এগিয়ে চলেছে। যেকোনো দেশের সফলতার মূল বিষয় হলো নেতৃত্ব। বাংলাদেশের তা আছে।
চিকিৎসা ও ঔষধশিল্পেও রয়েছে অভূতপূর্ব সাফল্য। ওষুধ শিল্পের বিকাশ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে চাহিদার শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি ওষুধ আমদানি করতে হতো। দেশে মানসম্পন্ন ওষুধ নিশ্চিত করার জন্য ওষুধ উৎপাদন, বিপণন এবং আমদানি-রফতানি অধিকতর কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে ওষুধ প্রশাসন পরিদফতরকে অধিদফতরে উন্নীত করেন। দেশীয় চাহিদার শতকরা প্রায় ৯৮ ভাগ ওষুধ বর্তমানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের ১৪৫টি দেশে ওষুধ রফতানি হচ্ছে।
গত ছয় বছরে ওষুধ রফতানি বেড়েছে পাঁচ থেকে ৩১ বিলিয়নে। যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যতদূর এগিয়েছে নিঃসন্দেহে তা ছিল আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানের এ ধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। যদি তা সম্ভব হয় স্বাধীনতার হীরক জয়ন্তীতে আমরা আমাদের স্বাধীনতার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।
ইউডি/অনিক

