টেকসই উন্নয়নের জন্য জনস্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে
আসলাম শিকদার । শুক্রবার, ২৪ জুন ২০২২ । আপডেট ১০:২৫
বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা। একটি দেশের জনগণের স্বাস্থ্য, গড় আয়ুসহ অনেক কিছুই নির্ভর করে সে দেশের পরিবেশের ওপর। বর্তমানে দেশে পরিবেশের যে অবস্থা তা শুধু চিন্তিত হওয়ারই নয়, বরং উদ্বিগ্নেরও বিষয়। পরিবেশ সুরক্ষায় সর্বপ্রথম দেশের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতাই পারে পরিবেশকে সুন্দর ও নির্মল রাখতে। ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে সবাইকে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে, যতই গাছ কাটা বৃদ্ধি পাবে, পরিবেশ ততই হুমকির মুখে পড়বে। জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা আমাদের পরিবেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারব। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি করে পরিবেশ সুরক্ষায় সবার উচিত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষার জন্য সবাইকে কিছু না কিছু কাজ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে যেমন তৎপর থাকতে হবে, তেমনি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি বায়ুদূষণ, পানিদূষণ ও শব্দদূষণ। বৃক্ষ যেমন পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে সহায়তা করে, তেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও রক্ষা পেতে সহায়তা করে। কিন্তু আমরা নির্বিচারে গাছ কেটে বন উজাড় করে ফেলছি। নিষিদ্ধ পলিথিনজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার, অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্যসহ বিভিন্ন কারণে ক্রমেই আমাদের চারপাশের মাটি বিনষ্ট ও দূষিত হচ্ছে। শহরের কলকারখানার বর্জ্য, গ্রামাঞ্চলের ময়লা-আবর্জনা, কাঁচা পায়খানা, মলমূত্র যাতে খাল-বিল বা নদীর পানিতে না মেশে সেদিকে জনসাধারণকে খেয়াল রাখতে হবে। বাহ্যিকভাবে শব্দদূষণ তেমন কোনো ক্ষতিকারক মনে না হলেও তা মানুষের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। এসব সমস্যার সমাধান, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং সব জনসাধারণের সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
আমরা যত শিক্ষিত ও সভ্য হচ্ছি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় যেন তত অসচেতন হয়ে পড়ছি। নির্বিচারে গাছ কাটছি। বন উজাড় করছি। মাদক, শব্দদূষণ ও গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়া নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। ময়লা-আবর্জনা ফেলছি যত্রতত্র। জীবন বাঁচাতে এসব ক্ষেত্রে কঠোর সচেতনতা দরকার। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় আমরা সচেতন নই। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। এসব ময়লা-আবর্জনা পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের লোকজন দেখেও দেখে না। যথাসময়ে পরিষ্কার করে না। পরিবেশ সুরক্ষায় এলাকাবাসীকেও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। স্থানীয় সরকারের কর্তাব্যক্তিদের সক্রিয় হতে হবে। মানুষের অসচেতনতার কারণে বাড়িয়ে দিচ্ছে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থের হুমকি। ব্যবহার করার পর অবশিষ্ট ঔষুধ ফেলে দিচ্ছে যেখানে-সেখানে। এতে করে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে ও অ্যান্টিবায়োটিকগুলো জীবাণু অপ্রতিরোধী হয়ে উঠছে। পলিথিনের ব্যবহার বেড়েছে, পলিথনসহ খাবারের উচ্ছিষ্ট নিয়ে ফেলছে বাড়ির পাশের কোনো ড্রেনে। মশা জন্ম নিচ্ছে, ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু অথবা ম্যালেরিয়া।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাষ্ট্রকেই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা অনেক কিছুর ওপর নির্ভরশীল। যেমন-ধূমপান, পানীয় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য উচ্চ কর ও জরিমানার ব্যবস্থা রাখা দরকার। পলিথিন, শব্দদূষণ ইত্যাদি রোধ করতে হবে। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত পুরনো যানবাহন রাস্তা থেকে অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের সব শিল্প ও কলকারখানার বর্জ্য পরিশোধন (ইটিপি) ব্যবস্থা চালু করতে বাধ্য করতে হবে। সড়ক-মহাসড়কে জরাজীর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে, উচ্চ শব্দের ভেঁপু বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে, শহরাঞ্চলের ময়লা ও আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। পস্নাস্টিক ও পলিথিন দ্রব্য যেখানে-সেখানে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে, গ্রামাঞ্চলের ময়লা-আবর্জনা, মলমূত্র যাতে খাল-বিল বা নদীর পানিতে না মেশে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রতি বছর বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করতে হবে, বনাঞ্চল সংরক্ষণ করতে হবে। সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ মানবজীবনকে সুন্দর করে, তাই পরিবেশ যাতে সুন্দর থাকে, মানুষের বাস উপযোগী হয়, সেদিকে আমাদের প্রত্যেককেই লক্ষ্য রাখতে হবে।
লেখক- সাংবাদিক
ইউডি/সুস্মিত

