শেখ হাসিনা: দেশের অর্থনীতির গতিপথ বদলের কারিগর
কামরুল হুদা । রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২ । আপডেট ০৯:২০
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৬ জানুয়ারি ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। সেই থেকে টানা তিন মেয়াদে দেশ পরিচালনা করে একযুগ পূর্তি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। বিগত একযুগে বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। আমি এ নিবন্ধে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা জিডিপি প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। একসময়ের খাদ্য ঘাটতির দেশ সরকারের উদার কৃষিনীতির কারণে খাদ্য সংকট মোকাবেলা করে খাদ্য রপ্তানির সক্ষমতাও অর্জন করেছে। কৃষির আধুনিকায়ন, নতুন নতুন বীজ উদ্ভাবন, পর্যাপ্ত সার ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ এবং সর্বোপরি প্রতিবছর কৃষিতে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার ফলে খাদ্য শস্য উৎপাদন, শাকসবজি-ফলমূল, মাছ ও গবাদিপশু উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে।
বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষির অবদান ১৬.৬ %। ‘জাতীয় কৃষিনীতি’ ও ‘ডেল্টাপ্লান: ২১০০’ তৈরি করা হয়েছে। সরকার কৃষকদের জন্য সর্বমোট ৪৯৯টি ‘কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র’ (এআইসিসি) স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করার উদ্দেশ্যে হাওর ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের জন্য ৭০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৫০ শতাংশ হারে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ভর্তুকি প্রদান করে সরকার। কৃষি উৎপাদনে যার সুফল পাচ্ছে জনগণ। তারই কারণে বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়, ধানে চতুর্থ, মাছে চতুর্থ, আলুতে সপ্তম, আমে সপ্তম, পেয়ারায় অষ্টম এবং খাদ্যশস্য উৎপাদনে দশম স্থান অধিকার করতে সক্ষম হয়েছে।
শিল্পোন্নয়নের বিকাশের ক্ষেত্রে প্রথম দরকার ছিল বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে সবিশেষ গুরুত্ব দেয় সরকার। ২০০৫-০৬ সালে যেখানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট, সেখানে ২০২১ সালে দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ হাজার মেগাওয়াট। বাংলাদেশকে এখন বিশ্বের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোও সম্মানের চোখে দেখে। প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ইকোনমিস্টের ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান নবম। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনিক লিগ টেবল আগামী ১৫ বছরে বিশ্বের কোন দেশের অর্থনীতি কি হবে সে বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছে, ২০৩৫ সালে বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান হবে ২৫তম, যা এখন ৪১তম। চীন থাকবে প্রথম, দ্বিতীয় হবে ভারত।
সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ২০০৯-২০১৯ পর্যন্ত এক দশকে বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শতকরা ১৮৮ ভাগ। যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীন ও ভারতের চেয়েও বেশি। চীনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭৭ ভাগ ও ভারতের ১১৭ ভাগ। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া ৯০, মালয়েশিয়া ৭৮, অস্ট্রেলিয়া ৪১, মেক্সিকো ৩৭, ইতালি ৮, জার্মানি ১৫, মিশর ৫১ এবং ব্রাজিল ১৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৩৩ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশকেও টপকে যাবে বাংলাদেশ। গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ ১২টি দেশকে টপকে গেছে। আগামী ১৫ বছরে টপকে যাবে আরও ১৭টি দেশকে।
দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। তিনিই বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিপথ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এখন বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই উদাহরণ। অর্থনীতি ও আর্থ-সামাজিক বেশিরভাগ সূচকে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সবগুলো দেশকে।
দেশি-বিদেশি অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অসংখ্য মেগা প্রকল্প। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত আত্মমর্যদাশীল সোনার বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন, আজ তারই সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সে পথেই দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
ইউডি/সুস্মিত

