কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খান: বাইশ গজ থেকে রাজনীতি সাফল্য যার সর্বএই

কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খান: বাইশ গজ থেকে রাজনীতি সাফল্য যার সর্বএই

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১২:৪০

ক্রিকেটের মহানায়ক ইমরান খান একদিনের ক্রিকেটে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের একজন সফল অধিনায়কই নন, বরং পাকিস্তানের সর্বকালের একজন সেরা অলরাউন্ডার হিসাবে বিশ্ববিখ্যাত। তার সফল নেতৃত্বেই পাকিস্তান ১৯৯২ সনে ক্রিকেটে বিশ্বকাপ জয় করে। প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট নেয়ার কৃত্বিত অর্জন করেন কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ইমরান খান। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন সাইফুল ইসলাম।

ক্রিকেটার হবেন এমন কথা স্বপ্নেও ভাবেননি ইমরান খান। একুশ বছর বয়স পর্যন্ত ক্রিকেটের প্রতি বিন্দুমাত্র আকর্ষণ ছিল না ইমরানের। এমনকি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলা দেখতে গিয়েও ওয়েস হলের বোলিং তার মনে দাগ কাটতে পারেনি। অন্য আর পাঁচটা খেলার থেকে ক্রিকেট যে একেবারে আলাদা এই সত্যটা তখন তিনি উপলব্ধি করতে পারেননি

সংক্ষেপে ইমরান খান
ইমরান খান হলেন পাকিস্তানের সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় এবং অধিনায়ক। খেলোয়াড় জীবন শেষে তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তার প্রতিষ্ঠিত দলের নাম তেহরিক-ই ইনসাফ। তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। তার অধিনায়কত্বে পাকিস্তান ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জয় করে।

ক্রিকেটীয় পরিবারে জন্ম তার
ইমরান খান ১৯৫২ সালের ৫ অক্টোবর পাকিস্তানের লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম হয়েছিল পাকিস্তানের এমন এক পরিবারে, যে পরিবার থেকে বিশ্বসেরা অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছেন। জাহাঙ্গীর খান, মজিদ খান, জাভেদ জামান এমনই কয়েক জনের নাম। বাড়ির আত্মীয় স্বজনরা একত্রিত হলেই ক্রিকেটের গল্প হত।

আউট হওয়াটাকে মানতে পারতেন না
একুশ বছর বয়স থেকেই ইমরান লাহোরের জমান পার্কে ক্রিকেটের চর্চা শুরু করেছেন। গুরু হিসাবে পেয়েছিলেন আত্মীয় জাভেদ জামানকে। ইমরান তার থেকে অনেক বড়দের সাথে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছিলেন। তখন ইমরান কেমন খেলতেন, একথা তার আত্মজীবনীর পাতায় লেখা আছে। ইমরান অকপটে স্বীকার করেছেন “আমার বলগুলো প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের চেয়ে আমাদের ফিল্ডারদেরই ভয়ের কারণ হত। আর আমার ফিল্ডিং যে কোনো সহখেলোয়াড়ের বিরক্তির কারণ হত। ব্যাট করতে নেমে কয়েকটা বল কোনোরকমে খেলে যেতাম, তারপর আউট হওয়া মাত্র আমি রেগেমেগে ব্যাট ছুঁড়ে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতাম। অনেক রকম যুক্তি দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করতাম যে, এটা আসলে একটা নো বল ছিল, অর্থাৎ আমি আউট হইনি। আউট হওয়াটাকে কিছুতেই সহজে মানতে পারতাম না।”

স্কুল ও কলেজ জীবন
স্কুল কলেজে ভালো খেলে নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। ঊনিশ বছরের কম বয়সী পাকিস্তান দলে সুযোগ পেলেন ইমরান। খেলতে হবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ভাবতে অবাক লাগে তিনি কিন্তু বোলার হিসাবেই সুযোগ পেয়েছিলেন। তখন তার বয়স ষোলো কিংবা সতেরো বছর। ডাক পড়ল টিনটোরিট ট্রায়ালে। অন্য যারা এসেছে, তাদের বয়সের কথা ভেবে ইমরান অবাক হলেন। কলার তুলে টুপি পরে দারুণ কায়দা করে ব্যাট করতে গিয়ে ইমরান মাত্র ১২ বল খেলার সুযোগ পেলেন। পায়ে ছিল নতুন বুট। তা নিয়ে ছুটতে অসুবিধা হয়েছিল। ভাবলেন ১২ বলেই উনি বুঝিয়ে দেবেন কত বড়ো খেলোয়াড়। তারপর এল বলের পালা, দুটি বল করার পর নির্বাচক যখন তাকে দাঁড়াতে বললেন, তখন ইমরান আল্লাহকে স্মরণ করেছিলেন। ভেবেছিলেন এখন তাকে বকুনি খেতে হবে। কিন্তু নির্বাচক সবাইকে অবাক করে বললেন, দেখ, কী ভাবে বল করতে হয় তা শিখে নাও ইমরানের কাছ থেকে।

ইমরান খানের ক্রিকেট জীবন
এই মুহূর্তটাকে ইমরানের মনে হল জীবনের সব থেকে সেরা মুহূর্ত। ব্যাটসম্যান হিসাবে নয়, বোলার হিসাবে ইমরান নির্বাচিত হলেন। তখন ইমরান খানকে নীচের দিকে ব্যাট করতে হত। প্রথম ইনিংসে পরপর চারটি উইকেট নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও ৩টি উইকেট দখল করলেন। এবার আর তাকে থেমে থাকতে হয়নি। ব্যাটে, বলে, ফিল্ডিং-এ পারদর্শিতা দেখিয়ে ইমরান খান হয়ে উঠলেন বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। টেস্ট খেলায় ইমরান খান সাড়ে তিনশোর বেশি উইকেট লাভ করেন।

১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ
১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ইমরান খান ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহন করেন। তিনি একদিনের ক্রিকেটে প্রায় সবগুলো ট্রফি জয়ের এক অনন্য গৌরব অর্জন করেন।

বর্তমানে ইমরান খান
২০১৮ সালের নির্বাচনে ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন। পরবর্তীতে ক্ষমতার মেয়াদ পূর্ণ হবার আগেই দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল অনাস্থা ভোটে হেরে তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে অপসারিত হন। এরআগে, ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৯৬ সালে রাজনীতির ময়দানে আসেন ইমরান খান। দুর্নীতি বিরোধী স্লোগানে ১৯৯৬ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠা করেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। পরের বছর ১৯৯৭ সালে তিনি নির্বাচনে দুটি কেন্দ্র থেকে দাঁড়ালেও দুটিতেই হেরে যান। তবুও থেমে যান নি তিনি। ২০০২ সালে নির্বাচনে জয়ী হন ইমরান খান।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading