পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকুক
জুনায়েদ হায়দার । সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১২:০৫
আমাদের দেশে প্রতিনিয়তই পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, এমন ঘটনা যদি ঘটতেই থাকে, তবে তা আশঙ্কাজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। পত্রপত্রিকায় নানা সময়েই পানিতে ডুবে মৃত্যু খবর প্রকাশিত হয়। যেখানে শিশু থেকে শুরু করে বড়দেরও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে- যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সঙ্গত কারণেই সংশ্লিষ্টদের এটা আমলে নেওয়া সমীচীন যে, বিভিন্ন সময়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এছাড়া শিশুদের ডুবে মৃত্যুর ঘটনা পত্রপত্রিকায় আসে মাঝে মধ্যেই। ফলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে উদ্যোগী হতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
লক্ষণীয়, এর আগেও আমাদের দেশে বিভিন্ন সময়েই পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর নানা কারণই বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের দিকে খেয়াল রাখা তথা অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতার বিকল্প নেই। আমরা মনে করি, সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণাও আবশ্যক। শিশুর অন্যতম ঘাতক এই পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রথমেই এগিয়ে আসতে হবে পরিবারকে। শিশুরা জলাধারের কাছে যেন যেতে না পারে সেই খেয়াল রাখা এবং সতর্কতার বিষয়টি জরুরি। এছাড়া এটাও বলা দরকার, গ্রামীণ নারীরা বিভিন্ন সময় গৃহস্থালি নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। তাদের শিশুরা এই সময়ের মধ্যেই চলে যায় বাড়ির পাশে পুকুর বা ডোবার ধারে। তখনও কিন্তু ঘটে যায় এমন দুর্ঘটনা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর ৪৩ শতাংশের কারণ পানিতে ডুবে মারা যাওয়া। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্সটিটিউট অব হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন (আইএইচএমই) এর ২০১৭ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ স্টাডি শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ১৪ হাজার ২৯ জন মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এ রিপোর্ট অনুযায়ী পানিতে ডুবে মৃত্যুর দিক থেকে কমনওয়েল্থ দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে পানিতে ডুবে মৃত্যু নিয়ে কোনো তথ্যব্যবস্থা না থাকায় এর প্রকৃত চিত্র উঠে আসে না। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সমষ্টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা থেকে পানিতে ডুবে মৃত্যুর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। সাধারণত পানিতে ডুবে মৃত্যুর সবগুলো ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৭ সালে প্রকাশিত প্রিভেন্টিং ড্রাওনিং: অ্যান ইমপ্লিমেন্টেশন গাইডে স্থানীয় পর্যায়ের মানুষজনকে সম্পৃক্ত করে দিবাযত্ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। এছাড়া পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি ও জাতীয়ভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করার উপরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সুপারিশ করেছে।
মনে রাখতে হবে, সাঁতার না জানার কারণেও অনেক শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। প্রাপ্তবয়স্কদেরও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সঙ্গত কারণেই সাঁতার শেখার বিষয়টিকেও প্রাধান্য দেওয়া জরুরি। আমরা বলতে চাই, এমন বিষয়ও এর আগে সামনে এসেছে যে, এক থেকে চার বছর বয়সি শিশুদের ৭৫ শতাংশ বাড়ির ২০ মিটারের মধ্যে পানিতে ডুবে মারা যায়। আর এর বড় কারণ হচ্ছে, পরিবারের অসচেতনতা। ফলে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা আমলে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে পরিবারের সচেতনতার বিষয়টি অগ্রগণ্য। এ কথা ভুলে যাওয়া যাবে না, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে, তাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে দেশ। ফলে শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সচেনতার বিকল্প নেই। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে করণীয় নির্ধারণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ করা। পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক এমনটি কাম্য।
লেখক- সাংবাদিক।
ইউডি/অনিক

