অনলাইন জুয়া রোধে দরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা
সালেকিন হায়দার । বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২ । আপডেট ০৮:২৫
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আসছে অনলাইন জুয়ার বিষয়টি। এতে করে যেমন অনেকেই সর্বস্বান্ত হচ্ছে, তেমনি ঘটছে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়া। অনেকে ঘরে বা অফিসে বসেই সরাসরি অনলাইনে জুয়া খেলছেন। আবার অনেকেই জুয়ার বিভিন্ন অ্যাপস মোবাইল ফোনে ডাউনলোড করে জুয়া খেলছেন। আমরা মনে করি, যখন অনলাইন জুয়া ছড়িয়ে পড়ছে, তখন সামগ্রিক বিষয়গুলো আমলে নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই।
তথ্য মতে, ১৭৬টি জুয়ার সাইট বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)- এটি ইতিবাচক। তদুপরি এটাও আমলে নেওয়া দরকার, ১৭৬টি জুয়ার সাইট বন্ধ করে দেওয়া হলেও বন্ধ হয়নি অনলাইন জুয়া। জানা যাচ্ছে যে, শহরের ও গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষের অনেকেই লুডু খেলার অ্যাপস মোবাইল ফোনে ডাউনলোড করে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলছেন। আবার অনেকেই বাজি ধরে খেলছেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের এই বিষয়টিও আমলে নেওয়া দরকার, বাজি এক ধরনের জুয়া। যা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা মনে করি, যা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ তা যদি ঘটতে থাকে তবে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। ফলে আইনের প্রয়োগ যেমন ঘটাতে হবে, তেমনিভাবে সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী হতে হবে। জুয়ার কুফল সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।
খবরের মাধ্যমে এমনটি উঠে আসছে যে, বিভিন্ন এলাকায় অনলাইনে জুয়া খেলার চিত্র চোখে পড়ছে। এছাড়া ঢাকার রাস্তায় ফুটপাতের বিভিন্ন জায়গায় জটলা করে মোবাইল ফোনে লুডুর মাধ্যমে জুয়ার খেলার বিষয়টি আলোচনায় আসছে। ১০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার হাজার টাকা পর্যন্ত লুডুর মাধ্যমে জুয়া খেলা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, গ্রামেও একই চিত্র। শুধু লুডু নয়। মোবাইল ফোনে ক্যারম খেলার অ্যাপস ডাউন লোড করেও বাজি ধরে জুয়া খেলার ঘটনা ঘটছে। নিম্ন আয়ের মানুষর অবসরে বা কাজের ফাঁকে এমন জুয়া খেলছেন। যাদের অধিকাংশই জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেকেই সামান্য বেতনের প্রায় পুরো টাকাই হেরে যাচ্ছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় নেওয়া দরকার, চলতি বছরে খোদ ঢাকাতেই অনলাইনে জুয়া খেলে ঋণের দায়ে তিনজনের আত্মহত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে এই জুয়ার কারণে।
আমরা বলতে চাই, সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা এবং আইনের প্রয়োগ ও সচেনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা। উলেস্নখ্য, গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে অনলাইন জুয়াড়িদের বিশাল নেটওয়ার্ক আছে। প্রথম দিকে কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে খেললেও শেষ পর্যন্ত জুয়ায় আসক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। আসক্তরা ঘরে বসেই বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে অনলাইনে দেশে ও বিদেশে জুয়া খেলছেন। এছাড়া দেশে পরিচালিত অধিকাংশ জুয়ার সাইট পরিচালিত হচ্ছে বিদেশ থেকে। ফলে সার্বিক বিষয়গুলোকে এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা বলতে চাই, দেশে সব ধরনের জুয়া আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। ফলে এইভাবে অনলাইন জুয়ার প্রসার ঘটবে মানুষ আসক্ত হয়ে পড়বে এবং ঘটতে থাকবে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা- এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যখন জানা যাচ্ছে যে, জুয়াড়িদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। পাশাপাশি জুয়ার সাইট বন্ধ করে বিটিআরসির সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশের সাইবার বিভাগ কাজ করছে- তখন অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়া- এই বিষয়টিকে সহজ করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমলে নিতে হবে যে, সম্প্রতি পাঁচজন অনলাইন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বক্তব্য মতে, দেশে প্রতিদিন জুয়ার বিভিন্ন অনলাইন সাইটে গড়ে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়- যা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার। এছাড়া ঘটছে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সঙ্গত কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা তৎপর থাকবে এমনটি কাম্য।
লেখক- কলামিস্ট।
ইউডি/সুস্মিত

