ভুলে ভরা এনআইডি সংশোধনের প্রক্রিয়া জোরদার করুন

ভুলে ভরা এনআইডি সংশোধনের প্রক্রিয়া জোরদার করুন

জান্নাতুল ফারিহা । শুক্রবার, ২২ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১০:০০

বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। সন্তানকে স্কুলে ভর্তির সময় মা-বাবার এনআইডি লাগে। এমনকি মৃত্যুর পরও মৃত ব্যক্তির পরিবারের নানা কাজে লাগে তার এনআইডি নম্বর। অপরাধী শনাক্ত করতেও এনআইডি জরুরি। কিন্তু এখনো সব ভোটারের কাছে তা না পৌঁছায় অনেকেই নানা হয়রানির মধ্যে পড়ছেন। অনেকে বিদেশে যেতে পারছেন না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন না। এমনকি নিজের নামে মোবাইল সিম পর্যন্ত কিনতে পারছেন না। এনআইডি না থাকায় অনেকেই পাচ্ছেন না সরকারি কোনো সেবা। ফলে এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দেশের নাগরিকদের। যদিও ছবিসহ ভোটার তালিকা করার প্রায় এক যুগ অতিবাহিত হয়েচে কিন্তু এখন পর্যন্ত নাগরিকদের তথ্য হালনাগাদ করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ খাতে কোটি কোটি টাকা খরচের পরও ২৫ শতাংশ ভোটার এখনো পাননি পরিচয়পত্র। যারা পেয়েছেন তাদের অনেকের পরিচয়পত্রে রয়েছে অসঙ্গতি। কিন্তু সংশোধন করতে গেলেই পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের ঘোষণা দিলেও তা সব সময় কাজ করছে না। এ বিষয়ে নেই কোনো প্রচারণাও।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জানেন না বেশিরভাগ ভুক্তভোগী। আবেদন প্রক্রিয়া জানা না থাকায় বেশিরভাগ ভুক্তভোগীই এনআইডি সংশোধন করতে চলে আসছেন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ে। অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন করা যায়। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো প্রচারণা নেই। অনলাইনে আবেদন করে তদবির না করলে কাজ হয় না। আবার জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার চেয়ে ছেলের বয়স বেশি এমনও ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া গেছে। নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম কিংবা গ্রামের নামের ভুল সংশোধনী নিয়ে মাস ও বছরের পর বছর মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা নিয়ে নাগরিকদের ভোগান্তির শেষ নেই। দিনের পর দিনে ইসির দরবারে ঘুরে সেবা না পেয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন অনেকেই। পরিস্হিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও অসহায় হয়ে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের অনেকেই এনআইডি সেবা পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছেন। ভুলে ভরা জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। বলেছেন, তার মনে হয় জাতীয় পরিচয়পত্রে কোটি কোটি ভুল আছে। আ-কার, ই-কার, ঈ-কার নিয়ে মানুষ বিপদে পড়ছে। নির্বাচন কমিশন ভুল সংশোধনের চেষ্টা করছে। তিনি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে ৪০-৫০ জন বন্ধুবান্ধবের নাম সংশোধন করে দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওই কথা বলেন। সংলাপে দলটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া তাঁর বক্তব্যে এনআইডি সংশোধনে হয়রানির বিষয়টি আনেন।

সিইসি বলেন, এনআইডিতে ভুলের পরিমাণটা এত বেশি হয়ে গেছে, সংশোধনে বিলম্ব হচ্ছে। বিলম্বের পেছনে করোনাও একটা বড় কারণ। করোনার কারণে দুই বছর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। মা-বাবার নামে ভুল, অনেকে হঠাৎ করেই নাম থেকে একাংশ বাদ দিতে চাচ্ছেন, এ রকম হাজারো দাবি আসছে প্রতিদিন। জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির ভুলের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নাগরিকদের নাম ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব যাঁদের দেওয়া হয়েছিল তাঁরা যে তা পালনে যোগ্যতার পরিচয় দিতে পারেননি ভুলে ভরা জাতীয় পরিচয়পত্র তারই প্রমাণ। এনআইডির ভুল সংশোধনের আবেদন জানিয়েও মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর নাগরিকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার করোনাকালকে সংশোধনে বিলম্বের জন্য দায়ী করেছেন। স্বীকার করতেই হবে, করোনাকালে প্রতিটি বিষয়ের কাজকর্মে স্থবিরতা এসেছিল। কিন্তু নাগরিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি জরুরি বিষয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষা কোনোভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়। আমরা আশা করব, জনভোগান্তির অবসানে নির্বাচন কমিশন সক্রিয় হবে, সম্ভাব্য সবকিছু করবে।

লেখক- সাংবাদিক।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading