সম্ভাবনাময় খেলনা শিল্পের প্রসার প্রয়োজন
রেজাউল করিম খোকন । রবিবার, ২৪ জুলাই ২০২২ । আপডেট ০৯:৩৫
২০২০-২১ সালে প্লাস্টিক খাতের রপ্তানি ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এই সেক্টর থেকে রপ্তানির পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে দেশে পাঁচ হাজার ৩০টি প্লাস্টিক শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে ৯৮ শতাংশ এসএমই প্রতিষ্ঠান। প্রায় এক দশমিক পাঁচ মিলিয়ন লোকবল এ খাতের সাথে যুক্ত। ২০২০-২১ সালে প্লাস্টিক খাতের রপ্তানি ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এই সেক্টরে রপ্তানির পরিমাণ এক দশমিক শূন্য বিলিয়ন ডলার। প্লাস্টিক খেলনা সেক্টর নন-ট্রাডিশনাল রপ্তানি খাত হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। বিভিন্ন বয়সের শিশুদের বিনোদনের জন্য খেলনা ব্যবহার করা হয়। দিন দিন বাড়ছে এসবের চাহিদা। বাংলাদেশের খেলনা ইতোমধ্যে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় পা রেখেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারে আমাদের পণ্যের চাহিদা বেশ ভালো।
১৯৯৮ সালে মাত্র সাতটি খেলনার মেধাস্বত্ব নিবন্ধন (পেটেন্ট) করা হয়। সেটা এখন মোট দুই হাজার পাঁচশ ৫৮টি। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে দেশ থেকে মোট প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানির ২৯ শতাংশ আয়ই এসেছে খেলনা থেকে। এই সময়ে খেলনা রপ্তানিতে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ শতাংশ। বাংলাদেশের প্লাস্টিক রপ্তানি মোটামুটি ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে। করোনার মধ্যে গত ২০২০-২১ অর্থবছরেও প্লাস্টিক খাতের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ শতাংশ। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে খেলনা রপ্তানিতে বাংলাদেশের আয় ছিল মাত্র এক কোটি ৫২ লাখ ডলার। আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) খেলনা রপ্তানিতে আয় হয়েছে তিন কোটি ৭১ লাখ ডলার, অর্থাৎ গত ছয় বছরে বিশ্ববাজারে খেলনা রপ্তানিতে বাংলাদেশের আয় প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে।
রপ্তানিমুখী খাত হলেও প্লাস্টিক শিল্পকে উচ্চ হারে করপোরেট কর দিতে হয়। এটা আগামী বাজেটে কমানো প্রয়োজন। সম্ভাবনাময় এ খাত আরো একটু সহযোগিতা পেলে দ্রুত এগিয়ে যাবে। প্লাস্টিক খাতের উপখাত খেলনায়ও বাংলাদেশ বেশ ভালো করছে। দেশে খেলনার ব্যবহার বেড়েছে। এখন প্রায় আমদানি করতে হয় না। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত খেলনা রপ্তানিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ছিল। করোনাকালে রপ্তানির গতি একটু কমলেও এবার আবার ভালো করছে। দেশে প্লাস্টিকের খেলনার মতো নতুন নতুন রপ্তানি খাত তৈরি হচ্ছে। এটা আরো বাড়াতে হবে। রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে তৈরি পোশাক ১২ শতাংশ করপোরেট কর দিয়ে থাকে। সে জন্য সরকার অন্যান্য রপ্তানিমুখী খাতেও করপোরেট কর কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটেও সেটার বাস্তবায়ন দেখা যাবে। হয়তো এখনই সব খাতে ১২ শতাংশ করা হবে না। তবে কমে আসবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারে, এমন পণ্য বানাতে হবে। খেলনাশিল্পের কোয়ালিটি বাড়ানোর পাশাপাশি দামও কমাতে হবে। উদ্যোক্তারা প্রতিটি খেলনায় ভিন্নতা ও নতুনত্ব নিয়ে আসায় অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারে আমাদের পণ্যের চাহিদা বেশ ভালো। ১৯৯৮ সালে মাত্র সাতটি খেলনার মেধাস্বত্ব নিবন্ধন (পেটেন্ট) করা হয়। সেটা এখন মোট দুই হাজার পাঁচশ ৫৮টি। ২০২২ সালে নিবন্ধন হয়েছে ৭১টি পণ্যের। খেলনা ও ক্রোকারিজ পণ্যের নিবন্ধন বাবদ অদ্যাবধি সরকারি কোষাগারে দুই কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি জমা পড়েছে। ২০২১-২২ সালে (জুলাই-এপ্রিল) মোট প্লাস্টিক রপ্তানি একশ ২৮ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার এবং খেলনা রপ্তানি ৩৭ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার বা মোট প্লাস্টিক রপ্তানির প্রায় ২৯ শতাংশ। ১২ মাসের গড় রপ্তানি হবে যথাক্রমে একশ ৫৫ মিলিয়ন ডলার এবং ৪৪ মিলিয়ন ডলারের প্লাস্টিক এবং খেলনা। ২০২১-২২ সালে গড় বৃদ্ধির হার ২২ শতাংশ। প্লাস্টিকের খেলনা একটি ইনোভেটিভ পণ্য। উদ্যোক্তারা যখন খেলনা তৈরি করেন তখন প্রতিটি খেলনায় ভিন্নতা ও নতুনত্ব থাকে।
খেলনা শিল্প উন্নয়নে বিকাশের জন্য সরকারের সব রকমের সহযোগিতা লাগবে। যেহেতু প্লাস্টিক খাত একটি শ্রমনির্ভর এবং প্রচুর পরিমাণে মহিলা শ্রমিকের কাজের সুযোগ আছে তাই এই সেক্টর একদিন গার্মেন্টসের মতো রপ্তানীতে বড় ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা আছে। আমাদের এখানে কয়েকবছর আগেও কম মূল্যের প্লাস্টিকের খেলনার প্রায় পুরোটাই ছিল আমদানি নির্ভর। কিন্ত গত কয়েক বছরে অবস্থা অনেকটা বদলেছে। বর্তমানে এ সব খেলনার বিরাট একটি অংশই তৈরী হচ্ছে বাংলাদেশে। আরো আগে থেকেই পুরান ঢাকা এবং আশেপাশের কিছু এলাকায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প হিসেবে খেলনা তৈরির বিভিন্ন কারখানা গড়ে উঠছে। মূলত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং ব্যস্ততম খেলনার বাজার পুরান ঢাকার চকবাজারে। বেশ কয়েক বছর আগেও প্লাস্টিকের খেলনার প্রায় পুরোটাই আসত চীন ও তাইওয়ান থেকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে ভালো একটি জায়গা দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশে তৈরী খেলনা সামগ্রী। বাংলাদেশে ছোটদের জন্য খেলনা তৈরির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীন চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির জন্য বিভিন্ন ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা প্রয়োজন। খেলনা প্রস্তুতকারী দেশীয় বিভিন্ন কারখানা এবং প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং পৃষ্ঠপোষকতা করা হলে এই শিল্প দ্রুত বিকশিত হয়ে বিরাট অবদান রাখতে পারে দেশীয় অর্থনীতিতে।
লেখক- কলামিস্ট।
ইউডি/সুস্মিত

