পর্যটনের হাত ধরেই বদলে যেতে পারে দেশের অর্থনীতি

পর্যটনের হাত ধরেই বদলে যেতে পারে দেশের অর্থনীতি

আলতাফ হোসেন । শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১৩:০০

বাংলাদেশের এ সৌন্দর্য অবলীলায় আকৃষ্ট করবে ভ্রমণ পিপাসুদের। মানুষের অতৃপ্ত মনের সাধ, অজানাকে জানবার অদম্য ইচ্ছা এবং বিনোদনের সমস্ত উপকরণ নিয়েই আজকে গড়ে উঠেছে পর্যটন শিল্প। পর্যটন এখন শুধু ব্যক্তিগত আনন্দের খোরাক নয়, এটি এখন শিল্প। আর সংস্কৃতি হচ্ছে একটি জাতির সামাজিক গোষ্ঠীর চিন্তা, কর্ম, আচরণ ও বিশ্বাস এবং উৎসবের বহিঃপ্রকাশ। মানুষ জন্মগত ভাবে একদেশ থেকে অন্যদেশ ভ্রমণ করে অজানাকে জানার নেশায় আর প্রকৃতিগত ভাবে মানুষ চায় জাতি বা গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে। তাইতো সারা পৃথিবীতে সাংস্কৃতিক পর্যটন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ১২০ কোটির বেশি। ধারণা করা হচ্ছে ২০২৩ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬০ কোটি। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুলসংখ্যক পর্যটকের প্রায় ৭৩ শতাংশ ভ্রমণ করবেন এশিয়ার দেশগুলোতে। যেভাবে আমাদের দেশে দেশি ও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে তাতে অচিরেই এই সেক্টর একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে আমাদের এ শিল্পঅনেকটা আড়ালে পড়ে রয়েছে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ যুগোপযোগী শিল্প হচ্ছে পর্যটন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি একটি অপার সম্ভাবনাময় শিল্প। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও পর্যটনের রয়েছে অসীম সম্ভাবনা। বাংলাদেশের অপরিসীম নয়নাভিরাম সৌন্দর্য পর্যটকদের হৃদয় স্পর্শ করে। সমতল ভূমির এই দেশটিকে প্রকৃতি দুই হাত খুলে সাজিয়ে দিয়েছে। আমাদের নাতিশীতোঞ্চ আবহাওয়া পর্যটনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এমন আবহাওয়া পৃথিবীতে বিরল। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন উন্নত দেশ বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় বরফে ঢাকা থাকে; কিন্তু আমাদের সেই সমস্যা নেই। আমাদের দেশে পর্যটকরা সারা বছরই ঘুরে বেড়াতে পারে।

পর্যটন শিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়নে বর্তমান সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। গত বছর জাতিসংঘ পালন করেছে আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন বর্ষ। আমাদের এই ধারণাকে অনুসরণ করে বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচিগ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। অর্থাৎ পর্যটনের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। শুধু বিনোদনই নয়, অর্থনীতির প্রয়োজনে ও আমাদের এই শিল্পকে নিয়ে কাজ করতে হবে। সম্ভাবনার বাংলাদেশে পর্যটনের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কিছু কার্যকর পদক্ষেপ। পর্যটনের উন্নয়নে সবচেয়েবড় বাধা হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। আমাদের পর্যটন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জড়িত। তাই একটি সিদ্ধান্ত নিতে হলে অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পরবর্তী সময়ে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। থাইল্যান্ডে পর্যটন শুধু পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তাদের অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হতে হয় না।

ফলে সে দেশের পর্যটন এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। আমরাও যদি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে বের হয়ে আসতে পারি, তাহলে পর্যটনকে কাজে লাগিয়ে আয় অনেক বাড়ানো সম্ভব। তাছাড়া পর্যটনের উন্নয়নে পররাষ্ট্রনীতিমালা পরিবর্তন, ভিসা-জটিলতা দূরীকরণ, পর্যটনের স্থানগুলোর সৃজনশীল প্রচারণা, পর্যটন বিশেষজ্ঞদের গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করা, প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ (পিপিপি) নিশ্চিত করা জরুরি। এই শিল্পের উন্নয়নে সরকারের সুনজরও জরুরি। সংশ্লিষ্টদের উচিত, ২৫-৩০ বছর মেয়াদি একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা। যেখানে পর্যটনের বিকাশে একটি রোডম্যাপ থাকবে। সর্বোপরি পর্যটন এলাকার মানুষকে উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে অর্থাৎ কমিউনিটি পার্টিসিপেশন নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় মানুষকে পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরতারা যখন এটিকে নিজের শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেবে তখনই এই শিল্পের প্রকৃত উন্নয়ন সাধিত হবে। বাংলাদেশের অপরুপ সৌন্দর্য অবলীলায় আকৃষ্ট হবে দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের।

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় পর্যটনশিল্পের সংযোজন শুধু আর্থিক সুফলতা বয়ে আনবে না, সেই সঙ্গে প্রান্তিক পর্যায়ে এর সুফল ছড়িয়ে দেবে স্থানীয়দের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে পর্যটনশিল্প বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠতে পারে উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে। এজন্য প্রয়োজন সরকারের উন্নয়ন-ভাবনায় পর্যটনশিল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। পর্যটনের জন্য চাই সমন্বিত উদ্যোগ। শুধুমাত্র বিনোদনই নয়, জীবনের নানা প্রয়োজনে নানা কারণে আমরা দেশে-বিদেশে ভ্রমণ করে থাকি। সৃষ্টির অপার সম্ভারের মাঝে লুকায়িত আছে নানা রহস্য, সৌন্দর্য। সুন্দর অনুপম প্রকৃতির সান্নিধ্য লাভ ও জ্ঞান অন্বেষণে ভ্রমণের বিকল্প নেই। পর্যটন এ ক্ষেত্রে মানুষের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।

লেখক-সাংবাদিক

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading