অরক্ষিত রাতের মহাসড়ক: নিরাপত্তা জোরদার কাম্য

অরক্ষিত রাতের মহাসড়ক: নিরাপত্তা জোরদার কাম্য

সাজ্জাদ মাহমুদ খান । বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১১:০০

প্রতিনিয়ত সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে, ঝরে যাচ্ছে তরতাজা প্রাণ। এছাড়া নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। সঙ্গত কারণেই এমন পরিস্থিতিতে সড়ক নিরাপদ করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, দেশব্যাপী ৭৩টি থানা এবং ফাঁড়ির মাধ্যমে মহাসড়কের ডাকাত দলের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তথ্য মতে, চলতি মাসের ৪ তারিখে ডাকাত দলের সদস্যদের তালিকা করে ১৪ আগস্টের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশ পাওয়ার পর সেই মোতাবেক সংশ্লিষ্টরা ডাকাতদের তালিকা তৈরি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তরে জমা দিয়েছে। জানা যাচ্ছে, এবার এ তালিকা হাতে নিয়ে সাঁড়াশি অভিযানে নামছে হাইওয়ে পুলিশ। অভিযানের অংশ হিসেবে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আমরা বলতে চাই, যখন ডাকাতি রোধে এবং মামলা মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া হয়েছে বাড়তি আরও ১০টি নির্দেশনা এবং ওই নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পর পুলিশের সব ইউনিট নড়েচড়ে বসেছে। গোপনে ডাকাতদের অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বাড়িতে। ইনকোয়ারি স্স্নিপের মাধ্যমে ডাকাতদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। ডাকাতরা কারাগারে না বাইরে সে বিষয়টিও এ ধরনের তদন্তে বেরিয়ে আসছে- তখন সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে সেই মোতাবেক পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া ডাকাতি রোধে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি, সামগ্রিক বিষয় আমলে নেওয়া এবং নিদের্শনার যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে- আর তা মহাড়কের নিরাপত্তার প্রশ্নেই জরুরি।

আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে। মহাসড়কের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে নানা ধরনের উদ্যোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কিন্তু এটা মনে রাখা দরকার, সড়কের উন্নয়ন তখনই ফলপ্রসূ হবে, যখন যাতায়াত নিরাপদ হবে, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে। ফলে মহসড়ককে নিরাপদ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক এমনটি কাম্য। বলা দরকার, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে যাতে যাত্রী তোলা না হয় সে ব্যাপারে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত রুটের বাইরে যাতে কোনো বাস চলাচল না করে সে বিষয়টিকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। ফলে এসব বিষয় সামনে রেখে উদ্যোগ জারি রাখতে হবে।

সম্প্রতি বাসে ডাকাতির একাধিক ঘটনায় তোলপাড় হলে পুলিশ সদর দফতর, হাইওয়ে পুলিশ, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ একাধিক বৈঠক করে ডাকাতি বন্ধে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছে। বৈঠকগুলোতে উপস্থিত থাকা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ডাকাতি বন্ধে তারা প্রতিটি বাসে পুশ বাটন নামে একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস লাগানোর পরিকল্পনা করছেন। যাতে বাসে ডাকাত সদস্যরা হানা দিলে ওই বাসটিকে সহজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শনাক্ত করতে পারে। একই সঙ্গে বাসগুলোতে জিপিএস লাগানো, আইপি ক্যামেরা বসিয়ে মনিটরিং করা, হাইওয়ে পুলিশের পেট্রলিং বাড়ানো, দূরপাল্লার বাস ছাড়ার আগে যাত্রীদের ভিডিও করে রাখার কার্যক্রম জোরদার, যাত্রীদের এনআইডি ও মোবাইল নাম্বার সংরক্ষণ করা, ডাকাতদের একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরি করা, বাসের রুট পারমিট চেক করা। ডাকাতরা সাধারণত বাস নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিভিন্ন সড়কে ঘুরে বেড়ায়। এক্ষেত্রে এক রুটের বাস অন্য রুটে দেখলে চেক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, মহাসড়কের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে সারাদেশের থানা এবং ফাঁড়িতে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপরাধী চক্রের সদস্যরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীবেশে বাসে ওঠে। তারা সুযোগ বুঝে ডাকাতি, দস্যুতা এবং নারী নির্যাতনের মতো অপরাধে লিপ্ত। আমরা মনে করি, বাস ডাকাতি দস্যুতা নারী নির্যাতনের মতো সাম্প্রতিক ঘটনা আমলে নেওয়া এবং এর আগেও যেসব আনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে- সেগুলোকে সামনে রেখে কঠোরভাবে নিদের্শনার বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। মানুষ তার গন্তব্যে যাওয়ার লক্ষ্যে বের হয়ে, যদি সড়কে জিম্মি হয়- সর্বস্ব হারায়, নারী নির্যাতনের শিকার হয়, তবে এসব ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রার আগে যাত্রীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ বাধ্যতামূলক করা, নতুন যাত্রী ওঠানোর সময় ছবি তোলা ও তা সংরক্ষণ করতে বাস মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়াসহ- যেসব বিষয় আলোচনায় আসছে তা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলেই প্রতীয়মান হয়।

আমরা বলতে চাই, হাইওয়ে এবং জেলা পুলিশের মোবাইল পেট্রোলিং টিম যথাসময়ে যথাস্থানে কর্তব্য পালন করছে কিনা তা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিবিড়ভাবে তদারকি করবেন- এই বিষয়ও জানা যাচ্ছে, এর ফলে যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। সামগ্রিকভাবে, যেসব নিদের্শনা এসেছে সেগুলোকে সামনে রেখে সব ধরনের পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে মহাসড়কের নিরাপত্তা জোরদার হোক এমনটি কাম্য।

লেখক: কলামিস্ট।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading