বিশ্বব্যাপী উড্ডীন হবে দক্ষিণ এশিয়ার সম্প্রীতির ঝাণ্ডা
মুনতাসির হোসেন মিহান । শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১৩:৪৫
এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলকে দক্ষিণ এশিয়া মহাদেশ বলা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের সমন্বয়ে দক্ষিণ এশিয়া মহাদেশ আঞ্চলিকভাবে পরিবেষ্টিত। স্বাভাবিকভাবে প্রতিটি দেশের নিজস্ব দর্শন মতাদর্শ ও স্বাধীন সার্বভৌমত্ব অধিকার বিদ্যামান রয়েছে। সেই দর্শন, ভাবাদর্শ ওই দেশের মানুষগুলোর মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ফুটে ওঠে; যা দেশগুলোর স্বতন্ত্র সত্তা বহন করে দেশীয় ও বৈশ্বিক মানচিত্রে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের স্বকীয় অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি রয়েছে। সেগুলোকে কেন্দ্র করে দেশগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
একটি সুশৃঙ্খল সামাজিক ব্যবস্থাপনা দেশের ভাবমূর্তি তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে বহির্বিশ্বে স্থাপন করতে বাড়তি উপযোগিতা তৈরি করে। যে কোনো দেশের তৃণমূল বা স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যা হার কম থাকে তাহলে তা দেশের নিরাপদ অর্থনৈতিক মডেল স্থাপনে সুচারুভাবে অবতীর্ণ হয়। নিরাপদ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষার মডেল দেশের জিডিপি, জিএনপি যেমন বৃদ্ধি করে, তেমনি দেশের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা,মুদ্রা ও মূল্যস্ফীতির মধ্যকার দারুণ সমন্বয় সাধন করে এই কাঠামো ও পরিকল্পনা।
দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক কাঠামো ব্যবস্থা দেশগুলোর অর্থনীতিক সূচক, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, পেশা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি চিরায়ত অবস্থানের খুব বেশি পরিবর্তন নেই। যার দরুন এই দেশগুলোর সমাজ ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাপনের ধরন প্রায় সমমানের। ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পর্যায়ের সমাজব্যবস্থা সময়ের পরিক্রমায় পরিবর্তন হয়েছে দেশগুলোর সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সক্ষমতা ও ভিত্তি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে জড়িত। একটি দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো ব্যবস্থা দেশের প্রতিটি মানুষের মানবাধিকার চাহিদা পূরণ অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকার বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে গত মে মাসে মুদ্রাস্ফীতির হার ৭ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। রিজার্ভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জরুরি নয় এমন পণ্য আমদানি বন্ধ করতে দ্রম্নত ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। পাকিস্তানে জুন মাসে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ২১ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মালদ্বীপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি ঋণের পরিমাণ বাড়তে দেখা গেছে। এ ঋণের পরিমাণ তাদের জিডিপির তুলনায় ১০০ শতাংশের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগ্যান বলছে, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে আছে মালদ্বীপ।
পুরো বিশ্বের ন্যায় দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিতিশীল এই পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক উন্নয়ন সংস্থা সার্ককে ঢেলে সাজাতে হবে এবং কমিউনিটি এক্সচেঞ্জ নীতির মাধ্যমে প্রতিটি দেশে সার্কের কার্যক্রম গতিশীল করতে হবে। কর্মমুখী শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ নির্মাণ করে এই অঞ্চলে বেকারত্ব সমস্যা হ্রাস করতে হবে। প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্তজনিত সমস্যা সমাধান করতে হবে। বিদেশ থেকে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকৃত অর্থ আনয়নে নিয়মনীতি কিছুটা শিথিল করতে হবে। আমদানি রপ্তানির ব্যয় কমাতে উৎপাদনমুখী হয়ে পণ্য বৃদ্ধি করতে হবে। নিজেদের দেশের সীমাবদ্ধকৃত সম্পদের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করে দেশের অর্থনীতিতে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ে অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা। তাছাড়া প্রতিটি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক খাতগুলোকে গবেষণা নির্ভর করতে হবে। যাতে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথরেখা রচিত হয় দেশগুলোতে।
বিশ্ব এখন অস্থিতিশীল এক পরিস্থিতির মধ্যে সময় অতিবাহিত করছে। যার ছাপ দক্ষিণ এশিয়া মহাদেশের লক্ষণীয়। এ পরিস্থিতিকে সামাল দেয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। প্রথমত. দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক উন্নয়ন সংস্থা সার্ককে ঢেলে সাজাতে হবে এবং কমিউনিটি এক্সচেঞ্জ নীতির মাধ্যমে প্রতিটি দেশে সার্কের কার্যক্রম গতিশীল করতে হবে। প্রতিটি দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধতার পরিচয় দিতে হবে। কর্মমুখী শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গঠন নির্মাণ করে এ অঞ্চলে বেকারত্ব সমস্যা হ্রাস করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের বিশেষ পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সীমান্তজনিত সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্যকর সংলাপ আয়োজন করতে হবে। যাতে দুই দেশের মধ্যকার কূটনীতিক সম্পর্কের অবনতি না ঘটে। বিদেশ থেকে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকৃত অর্থ আনয়নে নিয়মনীতি কিছুটা শিথিল করতে হবে। যাতে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি সচ্ছল থাকে। আমদানি-রপ্তানির ব্যয় কমাতে উৎপাদনমুখী হয়ে পণ্য বৃদ্ধি করতে হবে। নিজেদের দেশের সীমাবদ্ধকৃত সম্পদের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করে দেশের অর্থনীতিতে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা। জ্বালানি সাশ্রয়ে অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাছাড়া প্রতিটি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক খাতগুলোকে গবেষণা নির্ভর করতে হবে। যাতে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথরেখা রচিত হয় দেশগুলোয়। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ঐক্য ও সম্প্রীতির ঝাণ্ডা উড্ডীন হবে বিশ্বব্যাপী। এর সুফল ভোগ করবে দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষ থেকে গোটা বিশ্ববাসী।
লেখক: সমাজ গবেষক।
ইউডি/অনিক

