জাতিসংঘ অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে : প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে : প্রধানমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২ । আপডেট ১৭:৫০  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সকল সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান যেমন আরও সুদৃঢ় করেছে, তেমনি বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করবে। তিনি বলেন, সামগ্রিক বিবেচনায় এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত সফল বলে আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ব্রিটেন ও আমেরিকায় তার সদ্য সমাপ্ত রাষ্ট্রীয় সফর সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে প্রতিবারের মত এবারও বাংলায় বক্তব্য রাখেন।

আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট ও বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ফলে সৃষ্ট খাদ্য ও জ্বালানি সঙ্কট ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির জন্য অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে অধিক পারস্পরিক সংহতি প্রদর্শন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। এ সকল সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশসমূহ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টা-নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট ও বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান সঙ্কট নিরসনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শান্তি ও উন্নয়ন ভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

প্রযুক্তিগত বিভাজন দূর করার উপর গুরুত্বারোপ: প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং অর্জিত সাফল্যের কথা তুলে ধরে অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু কার্যক্রমের প্রসারের জন্য তিনি বিশ্ব নেতৃন্দকে আহ্বান জানান এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে সকলের ন্যায্য ও সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত বিভাজন দূর করার উপরও গুরুত্বারোপ করেন।বিশ্ব শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার এবং অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আমাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ব্রিটেন ও আমেরিকায় তার সদ্য সমাপ্ত রাষ্ট্রীয় সফর সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী: শেখ হাসিনা বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মিয়ানমার হতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে আসছে। মানবিক কারণে নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্টীকে বাংলাদেশ সাময়িক আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে সম্মানের সঙ্গে ও নিরাপদে তাদের নিজ দেশে ফিরতে পারে সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিন্তু মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার জন্য জাতিসংঘকে কার্যকর ও জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন বাংলাদেশে সন্ত্রাস দমনে আমেরিকা কি নাখোশ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা তারা কতটুকু তুলবে জানি না, তবে যাদের দিয়ে এ দেশের সন্ত্রাস দমন হয়েছে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার অর্থ কী? সন্ত্রাসীদের মদত দেওয়া? এটাই প্রশ্ন আমেরিকার কাছে। তাহলে কি তারা সন্ত্রাস দমনে নাখোশ? ৪০ বছর ধরে তালেবানের সঙ্গে যুদ্ধ করে সেই তালেবানকেই ক্ষমতা দিয়ে চলে এলো যুক্তরাষ্ট্র। ৪০ বছর তো তারা রাজত্ব করলো। তাহলে তাদের ব্যর্থতার কথা বলে না কেন। র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমেরিকা নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন সময় নানা রকম ঘটনা ঘটায়। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশেরই কিছু লোক স্থানীয়ভাবে সেখানে থাকে। তারা সেখানের সিনেটরদের কাছে বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকে। এসব তথ্য দিয়ে একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে। যারা এসব করে তারা কিন্তু এক একটি অপকর্ম করেই দেশ ছাড়া। র‌্যাবের ওপর তারা যখন নিষেধাজ্ঞা দিলো, আমার প্রশ্ন হচ্ছে র‌্যাব সৃষ্টি করেছে কে? এটি তো আমেরিকার পরামর্শে হয়েছে। তারাই তো র‌্যাব সৃষ্টি করতে পরামর্শ দিয়েছে। র

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ব্রিটেন ও আমেরিকায় প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত রাষ্ট্রীয় সফর সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি

৫ মাসের খাদ্য কেনার রিজার্ভ রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতিসংঘে বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথা হয়েছে; তাঁরা প্রত্যেকে বলেছে, ২০২৩ সাল বিশ্বে দুর্যোগ ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। আপনারা জানেন, এমনিতে আমাদের দেশ দুর্যোগপূর্ণ দেশ। বিশ্বব্যাপী এমনিতে অর্থনৈতিক সংকট। তাই আমরা দেশের নাগরিক দলীয় নেতাকর্মী সবাইকে বলে রেখেছি, আগামী বছর হবে খাদ্য সংকটের বছর। সেজন্য কোন জায়গা ও জলাশয় যেন খালি না থাকে। সেজন্য আমরা খাদ্য সংকট মেটাতে কৃষিখাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এ জন্য সকল প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের রিজার্ভ রয়েছে। আমাদের পাঁচ মাসের খাদ্য কেনার রিজার্ভ রয়েছে। আমরা যতই ঋণ নেই না কেন, কোনো ঋণ পরিশোধ ছাড়া থাকেনি। আমাদের বাজেটের দিক থেকে কোনো সংকট নেই। যেসব প্রকল্পগুলো দ্র্রুত শেষ করা যায় সেগুলো আগে নিয়েছি। এক্ষেত্রে প্রকল্পগুলোকে তিনভাগে ভাগ করেছি।

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading