তরুণদের ঘরছাড়ার প্রবণতা: সরকারের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

তরুণদের ঘরছাড়ার প্রবণতা: সরকারের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

সারমিন সুলতানা । রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২২ । আপডেট ১৭:৩০

নব্য জেএমবির মতো জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ সমমনারা ফিরছে নতুন প্ল্যাটফর্মে। নব্য জেএমবিসহ অধিকাংশ জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধ হওয়ায় ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’ নামে নতুন প্ল্যাটফর্ম যাত্রা শুরু করে ২০১৭ সালে। এর নামকরণ হয় ২০১৯ সালে। ২০১৭ সাল থেকেই তরুণদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে এই নতুন মঞ্চে ভেড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়। তাদের পরিকল্পনা ও কতজন তরুণ উদ্বুদ্ধ হয়ে এ পস্ন্যাটফর্মে ভিড়েছে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা না গেলেও ঘরছাড়া তরুণদের ভোলার চরাঞ্চলে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশের কুমিলস্না ও অন্য অঞ্চল থেকে বাড়ি ছেড়ে কথিত হিজরত করে ঘর ছেড়েছে অর্ধশতাধিক যুবক। যাদের মোটিভেশন, প্রশিক্ষণসহ সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেএমবি, নব্য জেএমবি, হিজবুত তাহরীরসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন থেকে আসা নেতৃস্থানীয়রা। এ ধরনের ঘটনা আতঙ্কজনক।

আবারও উগ্রবাদে জড়িয়ে তরুণদের ঘরছাড়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানিয়েছে, উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে অন্তত ৫৫ জন তরুণ নিখোঁজ হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। কথিত হিজরতের নামে ঘর ছেড়েছে তারা। যারা নিরুদ্দেশ হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় সবাই নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’য় যোগ দিয়েছে। ইতোমধ্যে সংগঠনটির সমন্বয়কসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করার কিছু পুস্তিকা ও লিফলেটও উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন অভিযানে দেশে জঙ্গি তৎপরতা স্তিমিত হয়ে এলেও তা যে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, এসব তথ্য তারই প্রমাণ। এটি একটি উদ্বেগের বিষয় অবশ্যই।

বলার অপেক্ষা রাখে না, যে কোনো উগ্রপন্থাই খারাপ। প্রতিটি ধর্মের অন্তর্নিহিত মর্মবাণী হচ্ছে শান্তি। অশান্তি, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিত্যজ্য। দেখা যাচ্ছে, উগ্রপন্থিরা পরিত্যজ্য একটি বিষয়কে উপজীব্য করে তাদের ভাষায় ‘জেহাদের ময়দানে’ অবতীর্ণ হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কঠোরতা অবলম্বনের পাশাপাশি তরুণরা যাতে উগ্রবাদে আকৃষ্ট না হয়, সেজন্য তাদের মোটিভেট বা উদ্বুদ্ধ করতে হবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে অতিদরিদ্ররা যেহেতু সহজেই উগ্র বা জঙ্গি মতবাদে আকৃষ্ট হয়, সেহেতু এই শ্রেণির মানুষের জন্য জঙ্গিবিরোধী উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। তরুণদের বোঝাতে হবে, বিভিন্ন উগ্রপন্থি সংগঠনের জঙ্গিরা ধ্বংস, খুন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে যেভাবে ইসলাম কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছে, তা আসলে ইসলামের পথ নয়। শান্তি ও মানবতার ধর্ম হিসাবে ইসলাম কখনই হত্যা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। জঙ্গিরা সুকৌশলে এদেশের সহজসরল দরিদ্র পরিবারের তরুণ-তরুণীদের অর্থের প্রলোভন ও ধর্মের দোহাই দিয়ে ধ্বংসাত্মক পথে নিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গিদের এ তৎপরতা প্রতিরোধ করতে হবে। র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, নিরুদ্দেশ হওয়া ৫৫ জনের মধ্যে ৩৮ জন পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় অবস্থান করছে। ধারণা করা যায়, জঙ্গিরা দেশের দুর্গম এলাকাগুলোকে আবারও তাদের গোপন তৎপরতার কেন্দ্র হিসাবে বেছে নিয়েছে। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এসব অঞ্চলে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তাই আমরা বলতে চাই, জোরদার করতে হবে গোয়েন্দা তৎপরতা।

এটা সত্য, জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রেও হাসিনা সরকার সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। তবে ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মধ্যদিয়ে নতুন করে ভয়ঙ্কর রূপ দেখা দেয় জঙ্গিরা। এরপর রাজধানীর গুলিস্তান ও মালিবাগে পুলিশকে টার্গেট করে আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপেস্নাসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণ এবং ফার্মগেট ও পল্টনে ট্রাফিক পুলিশবক্সের পাশে আইইডি রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে আইইডি বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, জঙ্গিগোষ্ঠী এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রতিটি ঘটনার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ধারণা করা হচ্ছে এসব ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। এসব ঘটনার মাধ্যমে জঙ্গিরা নতুন করে আলোচনায় এলেও সরকার এ ব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়, দেশে জঙ্গি হামলার ঝুঁকি এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এ ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।

লেখক- কলামিস্ট।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading