দারিদ্র্যের অবসান ঘটানোই টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত
আরাফাত রহমান । রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১০:০০
২০১৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ‘২০৩০ এজেন্ডা’ গৃহীত হয়। সারা বিশ্বের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে ‘২০৩০ এজেন্ডা’ এমন একটি কর্ম-পরিকল্পনা- যা বিশ্ব শান্তি জোরদার করবে এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যসহ সব ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটাবে। অতি দারিদ্র্যসহ সব ধরনের দারিদ্র্যের অবসান ঘটানোই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, আর এটাই হলো টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা বৈশ্বিক লক্ষ্যসমূহ হলো ১৭টি আন্তঃসংযুক্ত বৈশ্বিক লক্ষ্যগুলোর একটি সংগ্রহ- যা সবার জন্য একটি ভালো এবং আরও টেকসই ভবিষ্যৎ অর্জনের পরিকল্পনা হিসাবে তৈরি করা হয়েছে। জাতিসংঘ লক্ষ্যগুলো প্রণয়ন করেছে এবং ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা’ হিসেবে লক্ষ্যগুলোকে প্রচার করেছে।
এসডিজি ১ হলো সর্বত্র সব ধরনের দারিদ্র্যের অবসান। এসডিজি ১ অর্জন করলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্যের অবসান ঘটবে। এ লক্ষ্যের অগ্রগতি পরিমাপ করার জন্য সাতটি লক্ষ্য এবং ১৩টি সূচক রয়েছে। পাঁচটি ফলাফল লক্ষ্য হলো: চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ; সমস্ত দারিদ্র্য অর্ধেক হ্রাস; সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন; মালিকানা, মৌলিক সেবা, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক সম্পদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করা। এসডিজি-২ হলো: ‘ক্ষুধার অবসান, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টিমান অর্জন এবং টেকসই কৃষির প্রসার’। এসডিজি-২ এর অগ্রগতি পরিমাপের জন্য আটটি লক্ষ্য এবং ১৪টি সূচক রয়েছে। পাঁচটি ফলাফল লক্ষ্য হলো: ক্ষুধা নিবারণ এবং খাদ্যের প্রাপ্তি ব্যবস্থা উন্নত করা; সব ধরনের অপুষ্টির অবসান ঘটানো; কৃষি উৎপাদনশীলতা; টেকসই খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা এবং স্থিতিস্থাপক কৃষি পদ্ধতি; বীজের জিনগত বৈচিত্র্য, গাছপালা চাষ করা এবং গৃহপালিত প্রাণী পালন; বিনিয়োগ, গবেষণা এবং প্রযুক্তি।
এসডিজি-৩ হলো- ‘সব বয়সি মানুষের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ’। লক্ষ্যমাত্রার দিকে অগ্রগতি পরিমাপ করার জন্য এসডিজি-৩ এ ১৩টি লক্ষ্য এবং ২৮টি সূচক রয়েছে। প্রথম নয়টি লক্ষ্যমাত্রা হলো ফলাফল লক্ষ্য।
এসডিজি-৪ এর ১০টি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে- যা ১১টি সূচক দ্বারা পরিমাপ করা হয়। সাতটি ‘ফলাফলভিত্তিক লক্ষ্য’ হলো: বিনামূল্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা; মানসম্পন্ন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় সমান প্রবেশাধিকার; সাশ্রয়ী মূল্যের কারিগরি, বৃত্তিমূলক এবং উচ্চ শিক্ষা; আর্থিক সাফল্যের জন্য প্রাসঙ্গিক দক্ষতাসহ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি; শিক্ষায় সব বৈষম্য দূর করা; সার্বজনীন সাক্ষরতা; টেকসই উন্নয়ন এবং বিশ্ব নাগরিকত্বের জন্য শিক্ষা।
এসডিজি-৫ হলো ‘লিঙ্গ সমতা অর্জন এবং সব নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন’। এসডিজি-৫ এর লক্ষ্য নারী ও মেয়েদের সমান অধিকার, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য বা কোনো সহিংসতাসহ বৈষম্য ছাড়াই মুক্তভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ প্রদান করা। এসডিজি-৬ হলো ‘সবার জন্য পানি ও স্যানিটেশনের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা’। এসডিজি-৭ হলো : ‘সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি সহজলভ্য করা’। এসডিজি-৮ হলো: ‘সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান এবং শোভন কর্মসুযোগ সৃষ্টি এবং স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন’। এসডিজি-৯ হলো: ‘অভিঘাতসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়নের প্রবর্ধন এবং উদ্ভাবনার প্রসারণ’। লক্ষ্য ১০: আন্তঃ ও আন্তঃদেশীয় অসমতা কমিয়ে আনা। এসডিজি- ১১ হলো: ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, অভিঘাতসহনশীল এবং টেকসই নগর ও জনবসতি গড়ে তোলা’।
এসডিজি-১২ হলো ‘পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন ধরন নিশ্চিত করা’। এসডিজি-১৩ হলো: ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি কর্মব্যবস্থা গ্রহণ’। এসডিজি-১৪ হলো: ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য সাগর, মহাসাগর ও সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার’। এসডিজি-১৫ হলো : ‘স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা প্রদান এবং টেকসই ব্যবহারে পৃষ্ঠপোষকতা, টেকসই বন ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ প্রক্রিয়ার মোকাবিলা, ভূমির অবক্ষয় রোধ ও ভূমি সৃষ্টি প্রক্রিয়ার পুনরুজ্জীবন এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস প্রতিরোধ’। এসডিজি-১৬ হলো: ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার প্রচলন, সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করা এবং সব স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিতাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণ’। এসডিজি ১৭ হলো ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব উজ্জীবনকরণ ও বাস্তবায়নের উপায়সমূহ শক্তিশালী করা’।
লেখক: কলামিস্ট।
ইউডি/সিফাত/সুপ্ত

