খুলনার ডিসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

খুলনার ডিসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার , ২৫ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১৯:২০

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার হরি ও ভদ্রা নদীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদে আদালতের আদেশ অমান্য করায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মনিরুজ্জামান তালুকদারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) এ বিষয়ে এক আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন হিউম্যান রাইডস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মনজিল মোরসেদ। তিনি আদেশের বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ডুমুরিয়ার উপজেলার ভদ্রা ও হরি নদী তীরের ১৪টি অবৈধ ইটভাটাসহ সকল অবৈধ স্থাপনা ৬০ দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হরি ও ভদ্রা নদীর জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটা উচ্ছেদের জনস্বার্থে রিট করেন।

উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া ইট ভাটাগুলো হচ্ছে-ডুমুরিয়া কুলবাড়িয়া, বরাতিয়া ও ভদ্রাদিয়া মৌজার ভদ্রা নদীর তীরবর্তী এসবি ব্রিকসের প্রতিষ্ঠানের মালিক ফজলুর রহমান। একই মৌজা ও নদীর তীরে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপির মালিকানাধীন কে.পি.বি ব্রিকস, কুলবাড়িয়া বরাতিয়া ও খর্ণিয়া মৌজার ভদ্রা তীরের এজাজ আহমেদের সেতু-১ ব্রিকস, শাহজাহান জমাদ্দারের নূরজাহান-১ ব্রিকস, হুমায়ুন কবির ভুলুর কে.বি-২ ব্রিকস, কুলবাড়িয়া বরাতিয়া ভদ্রা নদী তীরে শাহজাহান জমাদ্দারের শান ব্রিকস, রানাই মৌজার ভদ্রা নদীর তীরে মো. সোবাহান সানার এফএম ব্রিকস, রানাই মৌজার হরি নদী তীরের জাহিদুল ইসলামের কে.বি ব্রিকস, ইসমাইল হোসেন বিশ্বাসের আল-মদিনা ব্রিকস, মশিউর রহমানের মেরি ব্রিকস, আব্দুল লতিফ জমাদ্দারের জে.বি ব্রিকস, আমিনুর রশিদের লুইন ব্রিকস, চহেড়া মৌজার হরি নদী তীরে গাজী আব্দুল হকের সেতু-৪ ব্রিকস এবং রুদাঘরা মৌজার হরি নদী তীরের গাজী ইমরানুল করিরের টিএম.বি ব্রিকস।

হাইকোর্ট রুল জারি করে হরি ও ভদ্রা নদীর সীমানায় সিএস, আরএস রেকর্ড অনুসারে জরিপ করে দখলদারদের তালিকাসহ ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে খুলনা জেলা প্রশাসন ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা খুলনা পওর বিভাগ-১, পাউবো খুলনাকে আহ্বায়ক এবং সার্ভেয়ার, খুলনা পওর বিভাগ-১, ডুমুরিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার এবং বটিয়াঘাটা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে সদস্য করা হয়। কমিটিকে যৌথভাবে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত। জেলা প্রশাসন গত অক্টোবরে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করে।

প্রসঙ্গত, এ দুটি নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে ইতোপূর্বে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading