জলবায়ু পরিবর্তন: প্রভাব, প্রোপাগান্ডা এবং উত্তরণের উপায়
মারিয়া ইয়াসমিন। সোমবার, ১৪ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৭:২৫
বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ’ অথবা ‘সামষ্টিক আত্মহত্যা’র মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নেয়ার মতো কঠিন পছন্দের মুখোমুখি হয়েছে মানুষ। মিশরে জাতিসংঘের কপ২৭ জলবায়ু সম্মেলনে মানব সভ্যতার উদ্দেশে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার প্রভাবে বিধ্বস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতি ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে যাওয়া ঠেকাতে ইতোমধ্যে কার্বন নির্গমন হ্রাসের আহ্বান এসেছে এই সম্মেলন থেকে।
বিশ্বের সামনে এখন যেসব হুমকি রয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন সেগুলোর একটি। বিশ্বে ইতোমধ্যেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, অনেক স্থানে বিপর্যয়ও স্পষ্ট। তবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এখনো খুব বেশি ফল মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের সব দেশকে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এটা সত্য, উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটেছে। এর প্রভাবে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, নদীভাঙনসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম শিকার হবে। চলতি বছর দফায় দফায় বন্যা, মে মাসে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাত, অতিবৃষ্টি, নজিরবিহীন জোয়ারে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনা এবং গত কয়েক বছরের বন্যা-ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ পরিস্থিতি এ সত্যতাই প্রমাণ করে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়েছে।
আগামী ২৫ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তারা বা তাদের পরিবার তাদের বাড়ি থেকে বাস্তুচ্যুত হবে বলে মনে করে এমনদের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বব্যাপী সমীক্ষা করা হয়েছিল। সমীক্ষায় ৩৪টি দেশের মধ্যে ভারত শীর্ষে রয়েছে। ইন্ডিয়ায় জরিপে অংশ নেয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৫%) মনে করেছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী ২৫ বছরে তাদের নিজস্ব বসবাসের জায়গা থেকে অন্যত্র সরে যেতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সমস্যার কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতনতা প্রকাশ করে ৩৪টি দেশের মধ্যে ইন্ডিয়াসহ তুরস্ক (৬৪%) এবং মালয়েশিয়া (৪৯%) সমীক্ষার সর্বোচ্চ ৩ দেশ। ইন্ডিয়ায় সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৬% জানিয়েছে তারা আশংকা করছে যে আগামী ১০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তন তাদের এলাকায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গড়ে ৩৫% বলে যে সম্ভবত তারা বাস্তুচ্যুত হবে। ৫৬% অনুভব করেছে যে তারা যেখানে বাস করে সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন ইতিমধ্যেই মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বব্যাপী ৭১% মনে করে আগামী ১০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুতর প্রভাবের আশংকা করছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও তার প্রভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে আগামী দশকগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে সংঘাত বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। জলবায়ু পরিবর্তন ও তার প্রভাবে উষ্ণতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ খাদ্য ও পানীয়জলের সংকটে পড়েছেন এবং দিন দিন এই সংকটের আওতা বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
লেখক: কলামিস্ট
ইউডি/আতা/সুপ্ত

