ইন্ডিয়া-আমেরিকা যৌথ মহড়া: চীনকে নাক না গলানোর হুশিয়ারি
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৪:৪৫
চলতি সপ্তাহে উত্তরাখণ্ডে ইন্ডিয়া ও আমেরিকা যৌথভাবে সামরিক মহড়া চালায়। আর তাতেই আপত্তি জানায় চীন। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে যে চুক্তি হয়েছিল, ওই সামরিক মহড়ার কারণে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে দাবি করে চীন। তবে চীনের এই দাবিকে অন্যায্য দাবি করে আমেরিকার পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘ইন্ডিয়া-আমেরিকার যৌথ সামরিক মহড়া চীনের নাক গলানোর বিষয় নয়।’
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) ইন্ডিয়ায় নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত জানান, আগামীতেও ইন্ডিয়ার আঞ্চলিক প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমর্থন করবে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি জি-২০ সম্মেলনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাক্ষাতে ইন্ডিয়া সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই জানান।
আমেরিকার রাষ্ট্রদূত এলিজাবেথ জোনস বলেন, ‘আমি আমার ইন্ডিয়ার প্রতিপক্ষদের বলতে চাই যে, আমাদের দুই দেশের সামরিক মহড়ায় তাদের নাক গলানোর প্রয়োজন নেই।’ এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে এনডিটিভি।
ইন্ডিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান এই রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, গত সাত বছরে ইন্ডিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য দ্বিগুণ হয়ে ১৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এরপরে আলাদাভাবে আর ইন্ডিয়া-আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তির কোনও প্রয়োজন নেই।
চলতি সপ্তাহেই উত্তরাখণ্ডের আউলিতে যৌথ সামরিক মহড়া চালায় ইন্ডিয়া-আমেরিকা। ইন্দো-চীন সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে এই সামরিক মহড়া ইন্ডিয়া-চীনের সীমান্ত চুক্তিকে লঙ্ঘন করেছে বলেই দাবি করে চীন।
পাল্টা জবাবে বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইন্ডিয়া নিজের ইচ্ছেমতো যেকোনও দেশের সঙ্গে সামরিক মহড়া চালাতে পারে। এই বিষয়ে ইন্ডিয়া তৃতীয় কোনও দেশকে মন্তব্য করার অধিকার দেয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, এই যৌথ সামরিক মহড়ার সঙ্গে ১৯৯৩ ও ১৯৯৬ সালের চীনের সঙ্গে হওয়া চুক্তির কোনও সম্পর্ক নেই। চীন নিজে যে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, তা মনে রাখা উচিত।
ইউডি/এআই

