গ্যাস ঘাটতির বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের সতর্কতা
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৫:২২
ইউরোপে ২০২৩ সালে গ্যাস ঘাটতির বিষয়ে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় কমিশন (ইসি)।
সংস্থাটি বলছে, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নে এ শীতের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে। তবে রাশিয়া সরবরাহ আরও কমিয়ে দিলে আগামী বছর এর ঘাটতি হতে পারে।’ এক প্রতিবেদনে এ থবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি তা সত্ত্বেও আমাদের আগামী বছর চাহিদার চেয়ে ৩০ বিলিয়ন ঘনমিটার (বিসিএম) গ্যাসের ঘাটতির শঙ্কা রয়েছে।’
জার্মানির অতি রক্ষণশীল রাজনৈতিক দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) নেতা টিনো ক্রুপাল্লা বলেছেন, ‘জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জার্মানির উচিত ইরান থেকে গ্যাস কেনা। এএফডি এমন পররাষ্ট্রনীতি চায় যেখানে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হবে। আমরা যদি রুশ গ্যাসের অভাব পূরণ করতে চাই, তাহলে আমাদের প্রত্যেক সরবরাহকারীকে প্রয়োজন পড়বে। যতটা সম্ভব স্বাধীন হতে হলে আমাদের ইরান থেকেও গ্যাস কিনতে হবে।’
প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত রেখে ইউরোপে চড়া দামে বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিস্থিতি এখন অন্যান্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। সরবরাহ কম ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে গ্যাসের চাহিদা বাড়বে। এ অবস্থায় দাম কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইউরোপের অর্থনীতিতে। শীত আসার আগে মজুত বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত সফল। অনেকে প্রায় পুরো মজুত সম্পূর্ণ করে ফেলেছে।
সাধারণত গ্রীষ্মে গ্যাসের দাম কম থাকে। সে সময় গ্যাস মজুত করতে শুরু করে সব দেশ। শীতে যখন গ্যাসের চাহিদা বাড়ে, তখন এর দাম বেড়ে যায়। চলতি বছর চুক্তিগুলোর ধরন পাল্টেছে। ইউরোপের সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহারকারী দেশ জার্মানিকে গুনতে হতে পারে বাড়তি অর্থ।
এজন্য হয়তো আমেরিকা কিংবা কাতার থেকে লিকুইড গ্যাস আমদানি করতে হবে। অন্যথায় নরওয়ে কিংবা উত্তর আফ্রিকার দেশ থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে হবে ইউরোপীয় দেশগুলোকে।
ইউডি/এ

