মেসি নাকি এমবাপে: ‘ফাইনাল’ হাসি কে হাসবে ?
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৪:১০
গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ বিশ্বকাপ ফুটবলের কাতার সংস্করণের পর্দা নামছে আজ। দুই ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। আজ রাতে ফাইনালে কে হাসবেন লিওনেল মেসি নাকি কিলিয়ান এমবাপে? এ নিয়ে অপূর্ব ইব্রাহীমের প্রতিবেদন
আজ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি মেসি: ১৯৮৬ আসরের পর আরেকটি শিরোপার জন্য উন্মুখ লাতিন আমেরিকার দল আর্জেন্টিনা। মহাতারকা লিওনেল মেসির এটাই শেষ বিশ্বকাপ। তাই ভক্তরা স্বপ্ন দেখছেন,প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতবেন মেসি। আর্জেন্টিনা যদি আজ জয় পায় তবে, ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ যাবে মেসিদের ঘরে। আলবিসেলেস্তারা শেষবার ট্রফি পেয়েছিল ১৯৮৬ সালে। একইসঙ্গে চতুর্থ দল হিসেবে তিন বা তার বেশি বিশ্বকাপ জেতার নজির তৈরি করবে ওরা। মেসি যদি আজ একটি গোল করেন এবং এমবাপে গোল না পান, বা জুলিয়ান আলভারেজ ও অলিভিয়ের জিরুদ একটির বেশি গোল না করেন, তা হলে সোনার বুট পাবেন মেসি। আর একটি গোল করলে বিশ্বকাপে ছ’টি গোল হবে মেসির। এক বিশ্বকাপে যা হবে তার সর্বোচ্চ। পাশাপাশি আর একটি গোল করলে বিশ্বকাপে পেলের মোট গোলের সংখ্যাও ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি। প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলার হওয়ার জন্য সোনার বলও পেতে পারেন মেসি। ২০১৪ সালেও এই পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার দু’বার জিতবেন তিনি। এখনো পর্যন্ত চারবার ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন মেসি। আর একটি পেলেই এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচের সেরার পুরস্কার পাওয়ার নজির গড়বেন তিনি। ফাইনালে মাঠে নামার সাথে সাথেই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার নজির গড়বেন মেসি (২৬)। টপকে যাবেন জার্মানির লোথার ম্যাথিউসকে। ফাইনালে মেসি গোল বা অ্যাসিস্ট করলে, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বার গোলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তিনি। এই মুহূর্তে তার গোল-অ্যাসিস্ট ১৯টি (১১ গোল, ৮ অ্যাসিস্ট)। এ নিয়ে বিশ্বকাপে ষষ্ঠবারের মতো ফাইনাল খেলছে আর্জেন্টিনা। বিশ্ব সেরার মঞ্চে সর্বোচ্চ ৮ বার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলেছে জার্মানি। ২ বার রানার্সআপ হয়েছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

ইউরোপের গতি বনাম লাতিন ছন্দ: নানা কারনে মাঠের বাইরে বিভিন্ন ঘটনা-দুর্ঘটনা নিয়ে কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে সমালোচনার কমতি ছিলনা। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ফাইনালে উঠে সেই সমালোচনাকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। সবাই এখন জমাট একটি লড়াইয়ের ক্ষণ গুনছে। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স এ দুই দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচের হেড-টু-রেকর্ডে দেখা যায় ১২ বারের মোকাবেলায় ফ্রান্স জিতেছে তিনটি, আর্জেন্টিনা জিতেছে ৬টি ম্যাছে। তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তারকায় ঠাসা দু’দলেই ম্যৗাচের গতি প্রকৃতি বদলে যেতে পারে যে কোনো মুর্হূতেই। লাতিন জায়ান্টরা চাইবে তাদের শৈল্পিক ফুটবল প্রদর্শনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার প্রহরের অবসান ঘটাতে। এছাড়াও দলের সবচেয়ে বড় তারকা মেসির অধরা শিরোপার ছোঁয়া। অন্যদিকে, ইউরোপ জায়ান্ট ও বর্তমান চ্যম্পিয়ন ফ্রান্স চাইবে তাদের গতিময় ফুটবল ছকে শিরোপা ধরে রাখতে। আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসি ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, আমি প্রস্তুত, চলো আর্জেন্টিনা। আর কিলিয়ান এমবাপে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেস , টানা দুই ফাইনাল। সকল হিসেব নিকেশ মিটে যাবে আজ রাতেই। অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।

শিরোপা ধরে রাখতে মরিয়া এমবাপে: ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়তে মরিয়া ফ্রান্স। আজ আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে ৬০ বছর পর টানা দুই আসরে বিশ্বকাপের ট্রফি ধরে রাখতে পারবে ফরাসীরা। আগে এই রেকর্ড আছে কেবল ইতালি এবং ব্রাজিলের। আর ফ্রান্স সমর্থকরা এই স্বপ্ন দেখছেন দলের অন্যতম কাণ্ডারি কিলিয়ান এমবাপেকে ঘিরে। আজ ফাইনালে এক গোল করতে পারলে এই তরুণ তুর্কি এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার ক্ষেত্রে ব্রাজিলের পেলে, আর্জেন্টিনার মারিও কেম্পেস এবং কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজকে ছুঁয়ে ফেলবেন। টানা পাঁচবার ইউরোপের কোনো দেশে বিশ্বকাপ যাবে। ফরাসি প্রাণভোমরার (এমবাপে) গতি ও ড্রিবলিংও নজরকাড়া। যেভাবে বাঁদিক দিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে হানা দেন, তাতে ফাইনালে গোল পাওয়াটা তার জন্য কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এমনিতে মেসি-এমবাপে দুজনই একই ক্লাব সতীর্থ। খেলছেন প্যারিস সেন্ত জার্মেইতে। লড়াইটা তাই জমজমাট হওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে ৫ গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। ছাড়িয়ে গেছেন ২০১৮ আসরে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের পথে করা নিজের ৪ গোল। বিশ্বকাপে ১৩ ম্যাচ খেলে ২৩ বছর বয়সী এমবাপের গোল মোট ৯টি। প্রথম কোচ হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতবেন দিদিয়ের দেশম। এই রেকর্ড আছে শুধু ভিট্টোরিও পোজোর (১৯৩৪ এবং ১৯৩৮)। দেশম হবেন প্রথম ব্যক্তি যিনি ফুটবলার হিসেবে একবার এবং কোচ হিসেবে দুবার বিশ্বকাপ জিতবেন।
ইউডি/এজেএস

