বিএনপি কার্যালয়ে তল্লাশি : অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি ও লুটের অভিযোগ

বিএনপি কার্যালয়ে তল্লাশি : অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি ও লুটের অভিযোগ

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৪:১৫

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির ঘটনায় নগদসহ অর্ধকোটি টাকার বেশি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত ও লুট হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি তল্লাশির সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেছেন, ‘৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির ঘটনায় নগদ অর্থসহ ক্ষতি ও লুট হওয়া সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৫০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা। কোনো অফিস বা ঘর তল্লাশির সময় মালিকপক্ষ এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে রাখার সাধারণ আইন অগ্রাহ্য করে পুলিশ যা করেছে তা হানাদার বাহিনীর আচরণকে স্মরণ করিয়ে দেয়।’

রোববার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘পুলিশ তাদের মামলায় বলেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা নাকি ইট-পাথর, বাঁশের লাঠি এবং ককটেল নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করেছে। বিপুল ও মারাত্মক সব আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত কয়েক হাজার পুলিশকে ইট-পাথর, বাঁশের লাঠি ও তাদের ভাষায় ককটেল দিয়ে আক্রমণ করার মতো হাস্যকর অভিযোগ জনগণ বিশ্বাস করে না। পুলিশের এজাহারেই বলা হয়েছে, তারা ৭ ডিসেম্বর বিকেলে মোট ১৭৯টি টিয়ারগ্যাস ও ৪৬০টি শটগানের গুলি ছুড়েছে এবং ছয়টি সাউন্ডবোমা নিক্ষেপ করেছে। প্রকৃতপক্ষে এ সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি।’

তিনি বলেন, ‘এর বিপরীতে তাদের ওপর আক্রমণকারী বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যবহৃত অস্ত্র হিসেবে আলামত দেখানো হয়েছে ফুটপাত ও রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া ৫ বস্তা ইটের টুকরা, যা শহরের যেকোনো সড়ক থেকে যেকোনো সময় সংগ্রহ করা যায়; ৮০টি বাঁশের লাঠি, যা শহরের বহু স্থানে প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য রাখা হয় ও লাল টেপে মোড়ানো কথিত ককটেলের ভগ্নাংশ, যা ব্যবহৃত টিয়ারগ্যাসের শেল কিংবা পথের আবর্জনারও অংশ হতে পারে।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এমন অসম যুদ্ধের বিবরণ ছোটদের গল্প কিংবা স্বৈরাচারী শাসকদের প্রেসনোটেই শুধু দেখা যায়। তথাকথিত ক্রসফায়ারের গল্পের মতোই এসব গল্প এখন শুধুই কৌতুকের খোরাক এবং অক্ষমের আর্তনাদ।’

তিনি বলেন, ‘দলের মহাসচিবকে অফিসের নিচে বসিয়ে রেখে এবং অন্য নেতাদের কয়েকটি কক্ষে আটকে রেখে অসংখ্য টিয়ারগ্যাস, গুলি, সাউন্ডবোমা নিক্ষেপ করে গোটা এলাকাকে রণক্ষেত্র বানিয়ে পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা ও সদস্য দলীয় কর্মীর মতো প্রতিপক্ষকে হেয় ও বিপদাপন্ন করতে চেয়েছে। এজন্য সাদা ব্যাগে করে তারা নিজেরাই ককটেল নিয়ে মহাসচিবের ও জাসাস কার্যালয়ের টয়লেটে মোট ১৫টি ককটেল রেখে তা উদ্ধারের যে নাটক করেছে, মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে তা দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়েছে।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘অফিস থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক, নথিপত্র, ব্যাংকের কাগজপত্র, নগদ অর্থ লুট করা প্রকৃতপক্ষে একটি ডাকাতির ঘটনা। ৭ ডিসেম্বর বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি হামলার পর পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর ও মালামাল লুটে অংশ নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ এ ঘটনার পর গত কয়েক দিনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনা জনগণের তীব্র ঘৃণা ও অনাস্থার শিকার পতনোন্মুখ সরকারের স্বৈরাচারী কায়দায় টিকে থাকার ব্যর্থ প্রয়াস বলেই দেশবাসী মনে করে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading