‘আকাশে যত তারা, সিটি করপোরেশনে তত ধারা’
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ২১:৩০
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বাসিন্দাদের ট্যাক্স দিতে করপোরেশনের অফিসে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আকাশের যত তারা, সিটি করপোরেশনের তত ধারা।’ তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় কিছু অসৎ ব্যক্তি রয়েছে।’
‘সিটি করপোরেশনের অসৎ ব্যক্তিরা আপনাদের এসব ধারা দেখাবে। সুতরাং আপনারা এসব ধারার মধ্যে যাবেন না। আপনারা অনলাইনে গিয়ে আপনাদের ট্যাক্স দেবেন। সিটি করপোরেশনে আপনাদের আসতে হবে না।’
সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশান-২-এ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি মেয়র এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এই মাসে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক উদ্বোধন করতে পেরে ডিএনসিসি কৃতার্থ।’
রাজধানী ঢাকা সকলের উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে, চার নেতার জীবনের বিনিময়ে যে দেশ আমরা পেয়েছি, সেই দেশকে কি সত্যি আমরা ভালোবাসি? এই দেশকে যদি আমরা সত্যি ভালোবাসতাম, তাহলে আজ খাল দখল হতো না, মাঠ দখল হতো না, রাস্তার মধ্যে আমরা ময়লা ফেলতাম না। আসুন সবাই মিলে সবার ঢাকা, সুস্থ সবল আধুনিক ঢাকা গড়ি।’
গুলশান, বননী, নিকেতন লেকে মাছ ছাড়তে না পারার আক্ষেপ করে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘আমাদের বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্যগুলো সরাসরি সিটি করপোরেশনের ড্রেনে অথবা চোরাই পথে লেকে পড়ছে। এতে পানি দূষিত হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ; বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ও সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন; রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা; ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা প্রমুখ।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কটি আগে গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক নামে পরিচিত ছিল। মহান স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পার্কটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে।
প্রায় সাড়ে আট একর জায়গার ওপর অবস্থিত পার্কটি নতুন করে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এতে লাগানো হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার দেশি গাছ। এছাড়া পার্কটিতে বাসিন্দাদের হাঁটার জন্য আধুনিক রাস্তা করা হয়েছে। আছে শিশু ও বড়দের খেলার জায়গা ও মাঠ, জিমনেসিয়াম, টয়লেট এবং রেইন ফরেস্ট। বাইরে থেকে যাতে পথচারীরা পার্কটির সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারেন এজন্য নিচু করে প্রাচীর দেওয়া হয়েছে।
ইউডি/এ

