চীনে ফের করোনার প্রাদুর্ভাব, দ্রুত সংক্রমণশীল ধরন মিলল ইন্ডিয়ায়
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৫:০২
বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর চীনে আবারও করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। র্যাপিড টেস্টিং কিটের তীব্র সংকটের মধ্যে দেশটির ঝেনজিয়াং, আনহুই ও চংগিংয়ের মতো প্রদেশে নতুন নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ নীতিতে করোনার মৃদু উপসর্গ বা উপসর্গ নেই এমন ব্যক্তিদের কাজে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
চীনের স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েবোতে এই নীতি সম্পর্কিত ঘোষণার হ্যাশট্যাগ সোমবারের পর থেকে ৩৩ মিলিয়ন বার পড়া হয়েছে। তবে সেখানে নাগরিকদের ক্ষোভ ও হতাশা ঝাড়তে দেখা গেছে।

কমেন্টে একজন লিখেছেন, ‘গত তিন বছরে কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এখন হঠাৎ করেই বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে অসুস্থ হলেও আপনাকে কাজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলো। আমাদের জীবন পিঁপড়ার চেয়ে মূল্যহীন।’ এই কমেন্টে দুইশ লাইক পড়েছে।
হাজার লাইক পড়েছে এমন একটি কমেন্টে লেখা হয়, ‘কয়েক মাস আগেও পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হলে অফিসগামী লোকজনকে আটক করা হতো।’

এ ছাড়া চীনের কিছু প্রবাসী নাগরিক, যারা হোটেলে সংক্ষিপ্ত কোয়ারেন্টাইন শেষে বাড়িতে ফিরেছেন, তারাও নতুন করে করোনার দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দেখে বিস্মিত হচ্ছেন।
চীনের অন্য একটি স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘গত কয়েক বছর বিদেশে থাকার সময় আমার কখনো করোনা হয়নি। কিন্তু দেশে আসার পরই করোনায় আক্রান্ত হই। আমার পরিচিত সবাই জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে এবং করোনা সংক্রমিত হচ্ছে। তাই সম্প্রতি যদি আপনি দেশের বাইরে থাকেন, তবে এখন দেশে আসবেন না।’

চীনকে কাবু করা করোনার উপধরন মিলল ইন্ডিয়ায়
প্রতিবেশী দেশ ইন্ডিয়ায় ওমিক্রন ধরণের দ্রুত সংক্রমণশীল বিএফ-৭ উপরধন শনাক্ত হয়েছে।
দেশটির গুজরাট ও ওডিশা রাজ্যে এই উপধরন শনাক্ত হয়। ইন্ডিয়ায় বর্তমানে কোভিড বিধিনিষেধ পালনে বাধ্যবাধকতা নেই। তবে জনসমাগমস্থলে আবারো মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির সরকার।
গুজরাটে নতুন উপধরন বিএফ.৭–এ আক্রান্ত দুজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এনডিটিভিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অক্টোবর-নভেম্বরে সেখানে অমিক্রনের বিএফ.১২ উপধরনও শনাক্ত হয়েছিল। সূত্র: এনডিটিভি

বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে ইন্ডিয়ার সব বিমানবন্দরে দৈবচয়নের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
জনসমাগমস্থলে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
ইন্ডিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৪০৮। করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার ৬৭৭।

সম্প্রতি ‘শূন্য কোভিড নীতি’ থেকে সরে এসেছে চীন। এই উপধরনের কারণে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে চীনে। দেশটিতে আবারো সংক্রমণ বাড়ায়, উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এছাড়া চীনে বর্তমানে করোনা সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি। তবে, চীনে করোনার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি দেশটির সরকার।
ইউডি/এ

