‘উন্নয়ন অভিযাত্রা’য় আওয়ামী লীগের সম্মেলন আজ
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ০৭:৪৫
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন আজ। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে লটির এবারের সম্মেলন অনেক গুরুত্ব বহন করে। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ঐতিহাসিকসোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে বিনয় দাসের প্রতিবেদন
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়: আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন আজ। এবারের সম্মেলনে লটি ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাশে গড়ার প্রত্যয় তুলে ধরবে। এই বিষয়টি সামনে রেখেই সম্মেলনের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘উন্নয়ন অভিযাত্রায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়’। এবারের জাতীয় সম্মেলনে সারাদেশ থেকে প্রায় ৭ হাজার কাউন্সিলর এবং লক্ষাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শুরু হবে কাউন্সিল অধিবেশন। এই অধিবেশনে লের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাক নির্বাচন করা হবে। লের নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে ১১টি উপ-কমিটি কাজ করেছে। প্রথা অনুযায়ী সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান লীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ও সদস্যসচিব সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পদ্মা সেতুর ওপরে নৌকার আদলে তৈরি ৮০ ফুট বনাম ৪৪ ফুট মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে সম্মেলনের জন্য। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কিছুটা কৃচ্ছ্রতা সাধনের লক্ষ্যে সম্মেলনে সাদামাটা আয়োজন করা হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০১৯ সালে সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০ ও ২১ ডিসেম্বর। সর্বশেষ সম্মেলনের বাজেট ছিল ৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এবারের সম্মেলনের জন্য বাজেট ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা অনুমোদন করেছে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি।
রোজ গার্ডেন থেকে সোহরাওয়ার্দী-ফিরে দেখা: আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানে বাঙালি জাতির সংগ্রাম ও গৌরবের ইতিহাস। এ রাজনৈতিক লটি এদেশের সুীর্ঘ রাজনীতি এবং বাঙালি জাতির আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও তরুণ মুসলিম লীগ নেতাদের উদ্যোগে ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন পুরান ঢাকার কেএম লেনের বশির সাহেবের রোজ গার্ডেনের বাসভবনে একটি রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী ল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। মুসলিম লীগের প্রগতিশীল নেতা-কর্মীরা সংগঠন থেকে বেড়িয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী মুসলিম লীগ। প্রথম সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রথম কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক। ১৯৫২ সালে শামসুল হক অসুস্থ হয়ে পড়লে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিবুর রহমান। পরের বছরই (১৯৫৩ সাল) তাকে সাধারণ সম্পাক নির্বাচিত করা হয়।’ পরবর্তীতে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের ায়িত্ব পালন করেন তিনি। ’৬৯-এর গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসক-শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাঙালির যে জাগরণ ও বিজয় সূচিত হয়, সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগ এবং এই আন্দোলনের পথ ধরেই বাঙালি জাতি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা, ৩ নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর নেতৃত্ব শূন্যতায় পড়ে আওয়ামী লীগ। এর পর লের মধ্যে ভাঙনও খো দেয়। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। তার নেতৃত্বে দ্বিধা-বিভক্ত আওয়ামী লীগ আবার ঐক্যবদ্ধ হয়। তিন শক ধরে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পরিচালিত হচ্ছে। এই সময়ে আদোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি তিন বার রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পেরেছে দলটি।
‘দায়িত্ব বদলালেও লের জন্যই কাজ করবো’: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কে কোন দায়িত্বে, সেটা বড় কথা নয়। দায়িত্ব বদলালেও এই লেই আছি, দলের জন্যই কাজই করবো। শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্মেলন নিয়ে এক সংবা সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষাও নেবো, যেখানে ভুল আছে আমরা সম্মিলিতভাবে আগামীতে চেষ্টাও করবো। কাজ করতে গেলে ভুল-ত্রুটি হবেই। আই এম নট পারফেক্ট লিডার। আমি মনে করি, একেবারে পারফেক্ট হওয়া সম্ভব না। ভুল-ত্রুটি তো থাকবেই। সাফল্য আছে, ভুল-ত্রুটিও আছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্যান্ডামিকের জন্য একটা বছর, তারমধ্যেও আমাদের সহকর্মীরা অনেক সহযোগিতা করেছে, কাজ করেছে। সহযোগী সংগঠনগুলোও কাজ করেছে। আমরা ইনেকটিভ ছিলাম না। আমাদের সাংগঠনিক কিছু কার্যক্রম স্থগিত ছিল। আমি মনে করি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন এবং বঙ্গবন্ধুর জš§শতবার্ষিকী উদযাপন আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। অনেক দিন পর উপজেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন বেশি সংখ্যক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্তরে অবদান যথেষ্ট এবং তারা দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হলো রুলিং পার্টি। গত ১৪ বছর ধরে একাধারে রুলিং পার্টি। রুলিং পার্টির কিছু সমস্যা থাকে। যেমন আজকে যিনি এমপি আছেন, তিনি আবারও থাকতে চাইবেন। আবার নতুন আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে। ুই আকাঙ্ক্ষার মধ্যে একটা কনফ্লিক্ট সবসময় থাকে। এই বিষয়গুলো পৃথিবীর সব দেশেই আছে, এখানেও আছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ফতর সম্পাক বিপ্লব বড়ুয়া, সংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
ইউডি/সুপ্ত/কেএস

