মানসম্মত শিক্ষা প্রসারে অন্তরায় গাইড বই-কোচিং

মানসম্মত শিক্ষা প্রসারে অন্তরায় গাইড বই-কোচিং

মহসিনা মান্নান । শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ০৭:৩০

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার আকস্মিক ঘোষণায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মানসিক চাপ বাড়বে; গাইড বই ও কোচিং আরও জনপ্রিয় হবে এবং এ কার্যক্রমে শিক্ষা খাতে বৈষম্য বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। মহামারির কারণে শিশু দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকায় তাদের মধ্যে যে অস্থিরতা সক্রিয় হয়ে উঠেছিল; এ ঘোষণায় সেই অস্থিরতা পুনরায় সক্রিয় হতে পারে। কারণ যেসব শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেবে তারা দুই শিক্ষাবর্ষের মাঝে বিনোদনের সুযোগ পাবে না। দীর্ঘদিন দেশের শিক্ষাবিদরা বলে আসছেন, আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষাদান বাঞ্ছনীয়। এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষাবিদদের দিকনির্দেশনার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

গাইড-বইনির্ভরতা ও মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তির বিকাশের লক্ষ্যে চালু হয়েছিল সৃজনশীল পদ্ধতি। কিন্তু ওই পদ্ধতি চালু হওয়ার পর গাইড-বইনির্ভরতা কমেনি, কোচিংয়ের চাহিদাও কমেনি। গত কয়েক যুগের প্রচেষ্টার ফল হলো এখনো অভিভাবকরা সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন গাইড বই; দৌড়াচ্ছেন এক কোচিং থেকে অন্য কোচিংয়ে। এ অবস্থায় আবারও পরিবর্তন আসছে শিক্ষাক্রমে। আগামী বছর থেকে চালু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়নে জোর দেওয়ার কথা রয়েছে। জানা যায়, নতুন শিক্ষাক্রম চালু হলে শ্রেণিতে প্রথম-দ্বিতীয় হওয়া, নম্বর ও গ্রেডিংয়ের পেছনে দৌড়ানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতার অবসান হবে। যেহেতু এ পদ্ধতির শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষকের সক্রিয়তা অনেক বেশি বাড়বে, সেহেতু দেশে গাইড বই ও কোচিং বাণিজ্য কমবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ঘোষণায় স্পষ্ট হলো, ঢাকঢোল পিটিয়ে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হলেও দেশে কোচিং বাণিজ্য ও গাইড বইয়ের দৌরাত্ম্য কমছে না। গত কয়েক দশকে শিক্ষাকে পুঁজি করে দেশে যে সুবিধাভোগী গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে, পুনরায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে সেই গোষ্ঠীর অনৈতিক কর্মকাণ্ড বৈধতা পাবে। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করা দরকার। তা না করে আকস্মিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে শিক্ষার্থীদের উপকার হোক বা না হোক, কোচিং ও গাইড বই আরও জনপ্রিয় হবে। এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে দেশের ৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, শিক্ষা নিয়ে এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করে, যা বাঞ্ছনীয় নয়। আমরা মনে করি, এ বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এর পরিবর্তে আকস্মিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে শিক্ষা খাতে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, তা দূর করে এ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কাজটি সহজ হবে না।

লেখক: কলামিস্ট।

ইউডি/আতা/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading