বিপিএলে’র ৯ম আসর শুরু ৬ জানুয়ারি: কনকনে শীতে ব্যাট-বলের উত্তাপ
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:২০
নতুন বছরের শুরুতেই (৬ জানুয়ারি) পর্দা উঠছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর নবম আসরের। দেশজুড়ে বইছে কনকনে শীত। আর এমন সময়ে ব্যাট-বলের উত্তাপ ছড়াতে প্রস্তুত ৭টি সাতটি ফ্র্যাঞ্চাইজির দেশি-বিদেশি ক্রিকেটাররা। বিপিএল’র এবারের আসরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আরেফিন বাঁধনের প্রতিবেদন
দেশি-বিদেশি তারকাদের বইবে মিলনমেলা: শেষ দুই কিংবা তিন আসরের চেয়ে এবারের বিপিএলের আসরে বেশি সংখ্যক বিদেশি তারকাদের অংশগ্রহণ চোখে পড়বে। সাকিব-তামিম-লিটনদের সঙ্গে দেখা যাবে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও উইন্ডিজের তারকা ক্রিকেটারদের। এছাড়াও আফগানিস্তানেরও বেশ ক’জন তারকা দলে নিয়েছে দলগুলো। পাকিস্তানের রিজওয়ান-আফ্রিদি-ইফতেখারা অংশগ্রহণ করায় জৌলুস বাড়বে বিপিএলের বলাই যায়। বিপিএলের শুরুর দিকে বিশ্বের নামি ক্রিকেটাররা আগ্রহ প্রকাশ করে খেলতে এসেছিলেন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লীগটির ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে তাদের আর দেখা মেলে না। অষ্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা নিউজিল্যান্ডের তারকাদের দেখো মেলে কালে-ভাদ্রে। অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক তাদের নিজস্ব অবস্থান বিচারের মাধ্যমে দু’একজন বড় তারকাকে হাজির করে এই আসরে।
প্রাইজমানি বাড়ল দ্বিগুণ: এবারের আসরে দ্বিগুণ পরিমাণ বাড়ছে প্রাইজমানি। টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের প্রাইজমানি বাড়ছে পাঁচগুণ। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন এই খবর। তিনি জানান, এবার চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২ কোটি টাকা। রানার্সআপ পাবে ১ কোটি। এভাবে করে সবমিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি টাকার মতো প্রাইজমানি থাকবে।গত আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স পেয়েছিল ১ কোটি টাকার প্রাইজমানি। রানার্সআপ ফরচুন বরিশাল পেয়েছিল ৫০ লাখ টাকা। একদম দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে এই প্রাইজমানি।

ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানায় এতো রদবদল: ২০১২ সালে বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবেই যাত্রা শুরু হয়েছিল বিপিএল। শুরুর দিকে আইপিএলের পরের অবস্থানে বিবেচিত হওয়া টুর্নামেন্টটি এখন পিএসএল, বিগব্যাশের সঙ্গেও তুলনায় যেতে পারছে না। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের বিনিয়োগ ফেরানোর ব্যবস্থা করা ও স্থায়ী হওয়ার সুযোগও দেওয়া হয় না। তাই দল নিয়ে লম্বা পরিকল্পনা করতে পারেন না তারা। ফলে বছর বছর নতুন নতুন মালিক, নতুন নতুন নামে ফ্র্যাঞ্চাইজি আসায় টুর্নামেন্টটি এখনও দাঁড়াতে পারছে না। সাতটি ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশগ্রহণে শুরু হবে এবারের বিপিএল। এবারও ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় পরিবর্তন এসেছে। দলের মালিকানা দেওয়া হয়েছে রূপা ফ্র্যাব্রিকসকে। ঢাকা ছাড়া বাকি ছয়টির মধ্যে বরিশালের মালিকানায় আছে ফরচুন বরিশাল স্পোর্টস লিমিটেড, খুলনার মালিকানায় মাইন্ড ট্রি লিমিটেড, সিলেটের মালিকানায় ফিউচার স্পোর্টস লিমিটেড, রংপুরের মালিকানায় টগি স্পোর্টস লিমিটেড (বসুন্ধরা গ্রুপ), চট্টগ্রামের মালিকানায় ডেল্টা স্পোর্টস লিমিটেড ও কুমিল্লার মালিকানা রয়েছে কুমিল্লা লেজেন্ডস লিমিটেড।
নতুন তারকাদের উঠে আসার হাতছানি: ঘরোয়া এই আসর থেকে নতুন খেলোয়াড় তো বের হয়-ই না। টাইগারদের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি কাপ্তান সাকিব আল হাসান সম্প্রতি এই প্রসঙ্গে বলেছিলেন, বিপিএলের প্রতিটি আসর থেকে অন্তত দুইজন করে ক্রিকেটার বের হওয়া উচিত। কিন্তু আমার দেখামতে, সাইফউদ্দিন ও শেখ মেহেদি ছাড়া বিপিএলের আট আসর থেকে আর কাউকে বের হতে দেখিনি। এটা একটা বড় হতাশার জায়গা। অথচ ইন্ডিয়ার আইপিএল ও পাকিস্তানের পিএসএল থেকে উঠে আসা ক্রিকেটাররা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের দারুণ ভাবেই মেলে ধরেছেন।

খেলা হবে তিন ভেন্যুতে: এবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এই তিন ভেন্যুতে বিপিএলের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। মোট ম্যাচ হবে ৪৬টি। মাত্র তিনটি ভেন্যুতে খেলা পরিচালনা করা নিয়ে বিসিবির প্রতি অভিযোগের কমতি নেই। কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত বিসিবির।
ইউডি/কেএস

