তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি

তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:৩০

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রের্কড করা হয়েছে। চলতি শীত মৌসুমে সারা দেশে যা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। পঞ্চগড়েও তা সর্বনিম্ন। গত দুই সপ্তাহ ধরে এই জেলায় তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে ওঠা-নামা করছে।

সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য কমে আসায় তাপমাত্রা আরো কমে আসবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী সোমবার থেকে হালকা বৃষ্টিপাতসহ আকাশ মেঘলা থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে তেঁতুলিয়া অফিস। সেক্ষেত্রে তাপমাত্রা আরো কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানুয়ারির প্রথম থেকে পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলোতে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের হিসেবে সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস মানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাদের হিসাবে টানা কয়েকদিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে মাঝারি এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

পঞ্চগড়ে বইছে কনকনে উত্তরের শীতল বাতাস। সকাল পর্যন্ত ভারী কুয়াশা ঝরতে থাকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোটার মতো। সেই সঙ্গে আছে উত্তরের কনকনে শীতল বাতাস। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে জেলার দুঃস্থ ও খেটে খাওয়া লোকজন। কনকনে শীতে সাধ্যমতো গরম কাপড় গায়ে জড়িয়েই তারা বেরিয়েছে কাজে। অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

উত্তরের সীমান্ত জনপদ পঞ্চগড়ে শীতের তাণ্ডব দেশের সব রেকর্ড ভেঙেছে। ঘন কুয়াশা এবং পাহাড় থেকে নেমে আসা হিমেল হাওয়া বইতে থাকায় সীমান্তবর্তী এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রাকে স্থবির করে ফেলেছে। অব্যাহত শীতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় অচল হতে বসেছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল এবং খেটে খাওয়া মানুষজন পড়েছে বিপাকে।

একদিকে কর্মহীন হয়ে পড়া, অপরদিকে শীতজনিত বিভিন্ন রোগবালাই মানুষকে অসহায় করে ফেলেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের দুর্ভোগ চরমে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মো. মনোয়ারুল ইসলাম জানান, রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শিশু ডায়রিয়া ও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাদের চিকিৎসা এবং সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ রোগীকে মেঝেতে ভর্তি করতে হচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলছেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির ১৪ তারিখ পর্যন্ত তেঁতুলিয়ায় যে তাপমাত্রা বিরাজ করছে তা দেশের সর্বনিম্ন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। শেষ জানুয়ারিতে একাধিক শৈতপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে নেমে যেতে পারে।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর শীত প্রবণ এই এলাকার মানুষের কথা ভেবে সরকারিভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুরক্ষিত রাখা হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে বরাদ্দ চেয়ে বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। শীতার্ত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার জন্য সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তেঁতুলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আনিস জানান, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করে এই উপজেলায়। পাহাড়ি হিমেল হাওয়া বইতে থাকায় কর্মজীবি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন। শীতের সুরক্ষার পাশাপাশি অভাবি মানুষের খাদ্য নির্ভরতা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading