টানা ২৬ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত চালক ‘ঘুমিয়ে পড়েছিলেন’

টানা ২৬ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত চালক ‘ঘুমিয়ে পড়েছিলেন’

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৫:৩০

পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার কাছে দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুলেন্সটি চালাচ্ছিলেন রবিউল ইসলাম (২৮)। তার বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে বলছে, তিনি টানা ২৬ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। রোগী নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) ভোর পৌনে ৪টার দিকে চলন্ত ট্রাককে ধাক্কা দিলে ছয়জনের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় নিহতরা হলেন- বরিশালের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মাসুদ রানা (৪০), স্বাস্থ্যকর্মী- পটুয়াখালীর দশমিনা আদমপুর গ্রামের রাজ্জাক মল্লিকের ছেলে ফজলে রাব্বি (২৮), রোগী- আমেরিকা প্রবাসী লতিফ মল্লিকের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে লুৎফুন্নাহার লিমা (৩০), ঢাকার খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় কাওসার হাওলাদারের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৬) ও গাড়িচালক মাদারীপুর জেলার মোস্তফাপুর গ্রামের হিরু মৃধার ছেলে জিলানি (২৮)।

গণমাধ্যমকর্মী মাসদু রানা যে প্রতিষ্ঠানের জেলা প্রতিনিধি ছিলেন তার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কাজী আফরোজ জানান, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগী জাহানারা বেগমকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন মাসুদ রানা। রাত ৩টার দিকে জাজিরায় পদ্মা সেতু টোলপ্লাজার কাছে গতিনিরোধক পার হতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন অ্যাম্বুলেন্সের চালক। এ সময় সেখানে থেমে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাকের পেছনে সজোরে আছড়ে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সটি। এতে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে ঘটনাস্থলেই ওই ছয় জনের মৃত্যু হয়।

ঘটনাস্থলে থাকা পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুরুজ মিয়া বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে- অ্যাম্বুলেন্সের চালক ঘুমিয়ে পড়েছিল। এ কারণে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থামিয়ে রাখা ট্রাকের পেছনে আছড়ে পড়ে ছয় জন নিহত হয়। ঘটনার পরপরই ট্রাক রেখে পালিয়ে গেছে চালক ও হেলপার। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে আটকের চেষ্টা চলছে।’

শিবচর হাইওয়ে থানার পরিদর্শক আবু নাঈম মোহাম্মদ মোফাজ্জেল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার ২০০ থেকে ৩০০ মিটার সামনে ভোররাতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা জেনেছি, অ্যাম্বুলেন্সের চালক রবিউল টানা ২৬ ঘণ্টা ডিউটিতে ছিলেন। এ কারণে তিনি ক্লান্ত ছিলেন।
‘সম্ভবত গাড়ি চালাতে চালাতে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এ কারণে চলন্ত ট্রাককে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় অ্যাম্বুলেন্সটি’, বলেন তিনি।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মাসুদুল হাসান বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ওই ছয় জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, তারা আগেই মারা গেছেন।’

হাইওয়ে পুলিশের ফরিদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সচালক রবিউলের মরদেহ তার স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের স্বজনেরা এলে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading