জনগণ বিএনপির সঙ্গে রাজপথে নেমেছে: আমান
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৮:৩০
ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, ‘দেশে আজ কথা বলার অধিকার নেই, ভোটাধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই। বিএনপির সঙ্গে জনগণ রাজপথে নেমে এসেছে। সেজন্য বিএনপি জনগণের দাবি ১০ দফা নিয়ে আন্দোলন করছে। আগামীতে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের নিজেদের সরকার গঠন করবে।’
সাতক্ষীরায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলায় কারারুদ্ধ সাতক্ষীরা-১ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান। সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ আদালতের বিচারক বিশ্বনাথ মন্ডলের আদালতে সাক্ষ্য দেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আদালতে সাক্ষ্য প্রদান শেষে ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় আগে সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে সাজা দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনার আরেকটি মামলায় বিবেকের তাড়নায় আমি সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা আদালতে এসেছি। ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি আমার সঙ্গে মিটিংয়ে ছিলেন। পরে শুনি তার নামে মামলা। আমি এই মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী সাফাই সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। এসময় আদালতে মামলার প্রধান আসামি সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৩৯ আসামি উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ জানান, আসামিপক্ষে বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমানসহ দুজন সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলায় ২৩ জন সাফাই সাক্ষ্য দিতে আসামিপক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। মামলায় কারাগারে রয়েছেন ৩৯ আসামি এবং নয়জন পলাতক। এছাড়া দুইজন কারাবন্দী অবস্থায় মারা গেছেন।
২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আসেন। সেখান থেকে যশোরে ফিরে যাওয়ার পথে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে কলারোয়ায় বিএনপি অফিসের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার ওপরে রেখে তার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। হামলায় আওয়ামী লীগের এক ডজন নেতাকর্মী আহত হন।
এই ঘটনায় করা হামলার মামলায় ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তালা-কলারোয়ার বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ বিএনপির ৫০ জন নেতাকর্মীকে চার থেকে ১০ বছর মেয়াদে সাজা প্রদান করেন সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবির।
এছাড়া গত বছরের ১৪ জুন অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের অপর দুটি মামলায় চার্জ গঠন করা হয়। আসামিপক্ষ ২৩ জন সাফাই সাক্ষ্য দিতে আদালতে আবেদন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার আমানুল্লাহ আমানের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।
ইউডি/এ

