শীতজনিত রোগে দেশে মারা গেছেন ১০০ জন
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১১:৪৫
এবারের শীতে ঠাণ্ডাজনিত কারণে মারা গেছেন ১০০ জন। এর মধ্যে ৪৯ জনই কক্সবাজার জেলায়।
এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শীতকাল যেহেতু এখনও চলছে তাই এই সময়ে শিশুদের আর বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান চিকিৎসকদের।
এবারের কনকনে শীতে কেঁপেছে গোটা দেশ। বিভিন্ন অঞ্চলে বয়ে যায় কয়েকটি শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শীতে অনেকটাই বিপর্যস্ত ছিল জনজীবন। ফলে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগীর বাড়তি চাপ ছিল হাসপাতালগুলোতে।
১৪ নভেম্বর থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি এই আটাশি দিনে সারাদেশে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১০০ জন। যার ৪৯ জন কক্সবাজারে, ২৭ জন ময়মনসিংহে, ১৯ জন খাগড়াছড়ি এবং দুই জন করে মারা গেছেন ভোলা ও চুয়াডাঙ্গায়। আর এক জন রাঙামাটিতে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফেরদৌস বলেন, ‘অনেক সময় বাচ্চা ঘেমে যায়, তারপর ঠাণ্ডা লাগে। এখান থেকেই তাদের সর্দি-কাশি এবং ইনফেকশনগুলো হয়।
‘অনেক সময় তাদের যে অভিভাবক আছেন তাদের অসেচতনতার কারণে দেখা যায় যে তারা কখন ডাক্তারের কাছে নিবেন সে বিষয়টা পুরোপুরি বুঝতে পারেন না। যেগুলো চিকিৎসা দেওয়ার মতো- আমরা সব চিকিৎসা দিয়ে দেই’, বলেন তিনি।
চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের সময় ঝুঁকিতে থাকে শিশু আর বয়স্করা। তাদের মৃত্যুর হারই বেশি।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আয়েশা আক্তার বলেন, ‘বাচ্চাদের নিউমোনিয়া বেশি হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটা একটু কম হয়। আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়াটা হয়ে লাঞ্চটা ডেমেজড হয়ে যায়। কারণ তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম হয়।
‘শীতের সময় নিউমোনিয়ার প্রকোপটা বেশি থাকে। আর সঠিক সময়ে যদি চিকিৎসা না পাওয়া যায় তাহলে রোগী মারা যায়। অনেকে চিকিৎসা করতেও আসে না, ভুল চিকিৎসা নিচ্ছে তখন রোগী মারা যায়। সবকিছু মিলে বাচ্চা ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার ঝুঁকিটা বেশি থাকে। তাই মৃত্যুর ঝুঁকিটাও বেশি’, যোগ করেন আয়েশা আক্তার।
তাই শীতকালে ঝুঁকিতে থাকা এই জনগোষ্ঠীকে পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ যত্ন নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ইউডি/এ

