চমৎকার ‘কান্না’র জন্য মরিয়ম মান্নান ‘পুরস্কার’ পেতে যাচ্ছেন!

চমৎকার ‘কান্না’র জন্য মরিয়ম মান্নান ‘পুরস্কার’ পেতে যাচ্ছেন!

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:৫৫

দেশজুড়ে আলোচনার তুঙ্গে থাকা ‘চরিত্র’ মরিয়ম মান্নান প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। যা অল্প সময়েই টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছিলো। এই চমৎকার অভিনয়ের জন্য তিনি ‘পুরস্কার’ পেতেই পারেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেদনে ওই ঘটনা নিয়ে উঠে এসেছে তার ‘চিত্রনাট্যের’ তথ্য। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে পিবিআই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ নিয়ে সাদিত কবির’র প্রতিবেদন

‘ধারাবাহিক নাটক’ রহিমা ‘অপহরণ’: মাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সারা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন মরিয়ম মান্নান। একের পর এক ফেসবুক লাইভে সারা দেশের মানুষের আবেগকে নাড়া দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এর পেছনে যে তার রচিত ‘নাটক’ প্রদর্শন করা হয়েছে সেটাই বেরিয়ে এসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে। মূলত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে মাকে হারানোর নাটক সাজিয়েছিলেন মেয়ে মরিয়ম। রহিমা বেগম অপহরণ মামলার প্রধান আসামি মো. মহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ওই মিথ্যা মামলায় আমরা জেল খেটেছি। আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবন একেবারে তছনছ হয়ে গেছে। আমরা চাই প্রশাসন ওই মিথ্যা মামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিক। তিনি আরও বলেন, আমরা ছিলাম সন্দেহভাজন আসামি। এরপরও আমাদের এক মাসেরও বেশি জেল খাটতে হয়েছে। এখনো নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। তাহলে যারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে, তারা কেন বাইরে থাকবে। এই ধরণের ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে এমন কর্মকাণ্ডের কঠিন থেকে কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকগণ। তারা মনে করেন, গোটা জাতির সঙ্গে মিথ্যার আশ্রয় নেয়া এবং পুলিশকে মিথ্যা তথ্য ও ব্যাখ্যা দিয়ে ভিন্নদিকে ধাবিত করার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। যেন পরবর্তী সময়ে এ ধরনের ঘটনা, এ ধরনের নাটক করতে কেউ সাহস না পায়।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা

আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ: ‘অপহরণ’ নাটকের মাস্টারমাইন্ড মরিয়ম মান্নান। সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আদালতে এই বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রতিবেদনে মরিয়ম মান্নান, তার মা রহিমা বেগম ও মামলার বাদী ছোট বোন আদুরী আক্তারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে ওই মামলায় ফাঁসানো আসামিদের। খুলনা পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানিয়েছেন খুলনা পিবিআই এর পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী বাদীকে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাপারে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময় তা লিখিত আকারেও জানানো হবে। বাদী চাইলে আদালতে জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনের ব্যাপারে নারাজি দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, কিন্তু তিনি চিন্তা করতে পারেননি যে পুলিশ তার মাকে খুঁজে বের করে ফেলবে। পুলিশ সুপার বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী রহিমা বেগম, তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান এবং আরেক মেয়ে ও মামলার বাদী আদুরি আক্তারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে সুপারিশ করেছি।

ধর্মের কল বাতাসে নড়ে: ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়া থেকে রহিমা বেগম ‘নিখোঁজ’ হন বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা। তদন্তে রহিমা বেগমকে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি স্বেচ্ছায় ২৮ দিন আত্মগোপনে ছিলেন। এই ২৮ দিন তিনি বিভিন্ন স্থান পরিবর্তন করেছেন। ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে অক্ষত ও স্বাভাবিক অবস্থায় রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দীর জন্য পাঠানো হলে তিনি মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করেন। যে রাতে রহিমা বেগম নিখোঁজ হন, ওই দিন বিকেলে তাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন মরিয়ম মান্নান। ঘটনার তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টিকে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ করেছিলেন মরিয়ম মান্নান। পাশাপাশি ময়মনসিংহের ফুলপুরে ৩০ থেকে ৩২ বছর বয়সী একটি নারীর অর্ধগলিত মরদেহকে তিনি নিজের মা বলে চালিয়ে দেওয়ার নাটকও করেছিলেন। নাটকটির পেছনের কারণ ছিল যদি তাকে (নারীর মরদেহ) তার মা বলে চালিয়ে দেওয়া যেত, তাহলে প্রতিবেশীদের চিরতরে ফাঁসানো যেত এবং নিঃশেষ করা যেত।

ইউডি/এজেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading