ইবি ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: অভিযোগ শুনবেন হাইকোর্ট

ইবি ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: অভিযোগ শুনবেন হাইকোর্ট

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:৩৮

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীকে রাতভর মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের ঘটনা হাইকোর্টের নজরে আনা হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় সময় নির্ধারণ করেছেন।

গত শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ও রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা’ হলে রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত প্রায় তিনটা পর্যন্ত শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী।

র‌্যাগিংয়ের সময় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রীরা তার বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করে রাখে বলে অভিযোগ তার। পরদিন সোমবার সকালে ভয় পেয়ে হল ছেড়ে বাসায় চলে যান ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। পরে মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) র‌্যাগিংয়ের নামে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে প্রক্টর ও ছাত্র-উপদেষ্টা দপ্তর বরাবর লিখিত দেন ভুক্তভোগী।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, ‘গত ৮ ফেব্রুয়ারি আমার ওরিয়েন্টেশন ক্লাস শুরু হওয়ার জন্য আমি গত ৭ ফেব্রুয়ারি ‘‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা’’ হলের ৩০৬ নং রুমে আমার এলাকার (পাবনা) পরিচিত এক আপুর রুমে গেষ্ট হিসেবে উঠি। যথাযথভাবে সবাইকে সম্মান পূর্বক রুমে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করি।

‘১১ ও ১২ তারিখে দুই দফায় আমি ওই হলের আবাসিক ছাত্রী ও পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা আপুর নেতৃত্বে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী তাবাচ্ছুমসহ নাম না জানা আরও অন্তত ৭-৮ জনের মাধ্যমে র‌্যাগিংয়ের নামে চরমভাবে আমি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হই। তারা আমাকে বিবস্ত্র করে আমার গোপন ভিডিও ধারণ করে রাখেন। এমনকি তারা আমাকে জীবননাশের হুমকিও প্রদান করেন।’

অভিযোগপত্রে ভয়ঙ্কর অভিযোগের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, ‘গত ৯ ফেব্রুয়ারি আমাকে ডিপার্টমেন্টের ২০২০-২১ এর তাবাসসুম নামের ওই সিনিয়র আপুর রুমে দেখা করতে বলা হয়। আমি অসুস্থ থাকায় যথাসময়ে আপুর রুমে যেতে পারিনি। এরপর থেকেই তারা আমার ওপর চড়াও হতে থাকে এবং পরবর্তীতে তাদের রুমে গেলে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন এবং হল থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। তারা অভিযোগ করতে থাকেন তাদের না জানিয়ে কেন হলে উঠেছি। অথচ হলে আমি আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, গেস্ট হিসেবে সাময়িক সময়ের জন্য রুমে উঠেছিলাম।

‘কিন্তু প্রথম দফায় শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে আমার ওপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং হল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। পরে গত রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার সময় হল প্রভোষ্ট এবং সহকারী প্রক্টরের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিমাংসা হয়। কিন্তু রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১ টার সময় অন্তরা আপুসহ ৭-৮জন আমাকে একটি গণরুমে নিয়ে যান এবং রুমে নিয়ে গিয়ে কথায় কথায় ওনারা ৭-৮ জন মিলে এলোপাতাড়িভাবে চড় থাপ্পড় মারতে থাকেন। আপু, আপনারা আমাকে কেন মারছেন বলতে গেলে উনারা আমার মুখ চেপে ধরেন এবং সজোরে চোয়ালে থাপ্পড় মারতে থাকেন।’

‘একপর্যায়ে তারা একটা ময়লা গ্লাস আমাকে দিয়ে চেটে পরিষ্কার করিয়ে নেয় এবং সেটার ভিডিও ধারণ করে। তারপর তারা বলতে থাকেন জামা খোল, আমি জামা খুলতে না চাইলে তারা আমাকে আবার মারা শুরু করেন এবং আমার জামা খুলে জোর করে আমাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওগুলো তাদের কাছে সংরক্ষণ করা আছে’, বলেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী।

‘তারপর আমাকে বলে, যদি বাইরের কাউকে একথা বলিস, তাহলে তোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দিব। যাতে তুই কাউকে মুখ দেখাতে না পারিস। অন্তরা আপু বলেন, তুই যদি প্রশাসনের কাছে কোনো অভিযোগ দিস, তাহলে তোকে মেরে কুত্তা দিয়ে খাওয়াবো, যা বলেছি তা মনে থাকে! টর্চার শেষে রাত আনুমানিক রাত সাড়ে ৩টার পর আমাকে অন্য একটি গণরুমে পাঠিয়ে দেয়। আর সবাই বলেন মুখ খুললেই কিন্তু খবর খারাপ হয়ে যাবে।
‘পরদিন সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) খুব সকালে জীবন বাঁচাতে আমি হল থেকে পালিয়ে গ্রামের বাড়ি পাবনাতে চলে যাই। তারপর সকালে আমাকে হলে না পেয়ে অন্তরা আপু সহ ওই ৭-৮ জন সবাই আমাকে একাধিকবার ফোন দেন, কিন্তু ভয়ে আমি কারো ফোনই রিসিভ করিনি। পরে আমি বাসায় এসে আমার পরিবারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট অভিযোগ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেই’, যোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা বলেন, ‘ওই ছাত্রীর সঙ্গে এরকম কোনো কিছু ঘটেনি। ওই ছাত্রীর পরিচিত এক ভাই ফোন দিয়ে আমাকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়।’

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading