সরকার পতনের খেলা সময় মতো: মান্না
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৬:৩০
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীনরা দেশের জনগণের সব সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভোট দেওয়ার অধিকার এমনকি নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকারও হরণ করেছে। অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেশকে মহাবিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের রাজনৈতিক সব অধিকার খর্ব করে আওয়ামী সরকার দেশে কর্তৃত্ববাদী স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এই চেষ্টা সফল হবে না। সরকার পতনের খেলাটি সময় মতো হবে। তখন আর সরকার ক্ষমতায় টিকতে পারবে না।’
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, ‘সরকারের নির্বাহী আদেশে গ্যাস এবং বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে। এরপরও লোডশেডিং বাড়ছে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। টাকার মূল্যমান আশংকাজনক অবনমন এবং ডলারের অস্থিতিশীল ও অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির কারণে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ বাড়ছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘অগণতান্ত্রিক ক্ষমতাসীনরা গত ১৪ বছরের শাসনামলে বিরোধী মত এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের দমনের জন্য নানা কালাকানুন ব্যবহার করে আসছে। এর একটি হল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এই আইনে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য এমনকি সরকারি দলের নেতাদের নিয়ে ফেসবুক বা অনলাইনে মত প্রকাশের কারণে মামলা, গ্রেপ্তার এমনকি রিমান্ডে নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবছর এই হার বাড়ছে।’
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১৯১টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এই ব্যবস্থায় জনগণের পাশাপাশি গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এই আইন মৌলিক মানবাধিকার এবং বাক স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণভাবে হরণ করবে।’
মান্না বলেন, ‘সরকার এখন দেশ চালানোর জন্য বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর কাছে হাত পাতছে। সরকারের বহুল প্রতীক্ষিত আইএমএফ এর ঋণের কিস্তি পাওয়ার পরেও সরকারি হিসেবেই দেশে ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। চলতি অর্থবছর থেকেই শুরু হবে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ।
‘দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থপাচার এবং দুঃশাসনের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশংকাজনক হারে কমেছে। তবে নাগরিক ঐক্য দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই অব্যাহত রেখেছে। আমরা প্রত্যাশা করি, জনগণের যৌগিক, সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আমরা বিজয়ী হব’, বলেণ তিনি।
ইউডি/এ

