ইন্ডিয়ান-আমেরিকান নাগরিক অজয়কে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট করলেন বাইডেন
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৮:১৫
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদে এবার একজন ইন্ডিয়ান-আমেরিকান নাগরিককে নিয়োগ দিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। রীতি অনুযায়ী, এই পদে মনোনয়ন দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। সেই রীতি অনুযায়ী এবার অজয় বাঙ্গাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইন্ডিয়ান সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানায়, এ মাসেই বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ম্যালপাসের পদত্যাগের ঘোষণার পর তার স্থলে অজয় বাঙ্গাকে বেছে নেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
ট্রাম্প জমানায় আমেরিকান অর্থ বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ম্যালপাস। এরপর ২০১৯ সালের এপ্রিলে তিনি বিশ্বব্যাংকের দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি এক দশকের বেশি সময় অধুনালুপ্ত বিনিয়োগ ব্যাংক বিয়ার স্টার্নসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ছিলেন।
সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন ডেভিড ম্যালপাস। আমেরিকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ট্রাম্পই বিশ্বব্যাংকের প্রধান হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি অস্বীকার করা ও আরও কিছু কারণে বেশ সমালোচিত ব্যক্তি তিনি।
২০১৯ সালের এপ্রিলে বিশ্বব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ডেভিড ম্যালপাসের পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৪ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। এর প্রায় এক বছর আগেই তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার অজয় বাঙ্গার মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু এখনই তিনি দায়িত্ব পাচ্ছেন না। মে মাসের শুরুর দিকে তিনি দায়িত্বভার পেতে পারেন।
অজয় বাঙ্গার বয়স ৬৩ বছর। বর্তমানে তিনি আমেরিকার ইকুইটি প্রতিষ্ঠান জেনারেল আটলান্টিকের ভাইস চেয়ারম্যান পদে কর্মরত। এর আগে তিনি মাস্টারকার্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন।
অজয় বাঙ্গা ইন্ডিয়ার পুনেতে জন্মগ্রহণ করেন। দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস কলেজ থেকে তিনি অর্থনীতিতে স্নাতক করেন এবং তারপর আহমেদাবাদের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
পড়াশোনা শেষ করে অজয় বাঙ্গা নেস্লে ইন্ডিয়ায় কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি আমেরিকার সিটি ব্যাংকের ইন্ডিয়া ও মালয়েশিয়া শাখায় কাজ করেন।
১৯৯৬ সালে তিনি আমেরিকায় চলে যান। এরপর ১৩ বছর তিনি পেপসিকোর বিভিন্ন পদে কাজ করেন। তিনি পেপসিকোর ভারত ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সিইও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইউডি/এ

