নারী শিক্ষা বন্ধে ইরানে ‘বিষ হামলা’
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:০৫
ইরানের রাজধানী তেহরানের দক্ষিণের শহর কওম-এ ছাত্রীদের শরীরে বিষক্রিয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দেশটির উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেউ বা কারা ইচ্ছা করে ছাত্রীদের বিষ খাইয়েছেন। তার ভাষ্য, ইরানে নারী শিক্ষা বন্ধে এ ধরণের ‘বীষ হামলা’ করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখে এর নেপথ্যে কারা তা বের করার জন্য গোয়েন্দাসহ দেশটির সরকারের বিভিন্ন বিভাগ কার্যক্রম শুরু করেছে। এ নিয়ে আসাদ এফ রহমান’র প্রতিবেদন
নারী শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করার অপকৌশল: নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইরানে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে নতুন করে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। ইরান থেকে নারী শিক্ষা পুরোপুরি বন্ধের চেষ্টায় লীপ্ত ‘একটি গোষ্ঠী’ (স্পষ্ট নয়)। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে রাজধানী তেহরানের দক্ষিণের শহর কওমের স্কুলগুলোতে ছাত্রীদের বিষপ্রয়োগ করিয়েছে। ইরানের উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনেস পানাহি এমন খবর প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশটির নারীদের পড়াশোনা বন্ধ করতে বিষপ্রয়োগের পন্থা অবলম্বন করেছেন কেউ কেউ। উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ইচ্ছাকৃত ভাবেই ছাত্রীদের বিষ খাওয়ানো হয়েছে। নারীদের পড়াশোনা বন্ধ করার জন্য জড়িতরা এই কৌশল বেছে নিয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন,কওম শহরের স্কুলগুলোতে বহু ছাত্রীর বিষক্রিয়ার খবর পাওয়ার পর তদন্ত করে দেখা গিয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। যারা এটা করেছেন, তারা চান সমস্ত স্কুল, বিশেষত মেয়েদের স্কুল বন্ধ হয়ে যাক। কারা এই কাজ করে থাকতে পারেন, কাদের দিকে সন্দেহের তীর, সেসব বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য জানাননি। এই ঘটনায় এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই ঘটনায় ইরানে নারী অধিকার নিয়ে যে আন্দোলন হচ্ছে তা আরও বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ।
নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে তদন্তের নির্দেশ ইরানের: গত নভেম্বর থেকে ইরানের রাজধনাী হেরানের কওম শহরে একাধিক ছাত্রীর শরীরে বিষক্রিয়ার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া, কওম শহরের বাইরেও এই কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে। অনেককে ভর্তি করানো হয়েছে হাসপাতালেও। ইরানের উপশিক্ষামন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের যেসব বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে তা যুদ্ধে ব্যবহৃত কোন রাসায়নিক নয় এবং এর জন্য মারাত্মক কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। এর বেশিরভাগ অংশই চিকিৎসাযোগ্য। বিষক্রিয়ায় ভুগতে থাকা ছাত্রীদের অভিভাবকরা গত ১৪ ফেব্রুয়ারি স্ব স্ব স্কুলগুলোর সামনে জড়ো হয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চান। পরবর্তীতে ইরান সরকারের মুখপাত্র আলি বাহাদোরি জাহরোমি জানান, দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ এবং শিক্ষামন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। কীভাবে ছাত্রীদের শরীরে বিষ ঢুকল, তার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এরপরই গতসপ্তাহে প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মদ জাফর মোনতাজেরি ঘটনাটির বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।

মাসা আমিনি থেকে বিষপ্রয়োগের ঘটনা ইরানে হচ্ছেটা কি: কুর্দি নারী মাসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকেই নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে উত্তপ্ত ইরান। যার রেশ ইরান থেকে ছড়িয়ে পড়ে বহু দেশে। এমন এক মুহূর্তে দেশটির নারী শিক্ষা বন্ধের পায়তারা করছে কেউ কেউ। ইরান সরকার বিষয়টি নিয়ে কথা বললেও এর নেপথ্যে কারা তা স্পষ্ট করে নি। ইরানে নারী শিক্ষার জন্য এক অশনিসংকেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকগণ। ইরানে স¤প্রতি তারুণ্যের উত্থানের পেছনের ঘটনাটি মোটামুটি এখন সবারই জানা। গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানে কুর্দিস্তান অঞ্চলের তরুণী মাসা আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো, মাসা আমিনির বেশভ‚ষা আইন অনুসারে সঠিক ছিল না। নীতি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর ১৬ সেপ্টেম্বর ওই নারীর মৃত্যু হয়। পুলিশের ‘অত্যাচারে’ মাসা আমিনির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ইরানের উঠে প্রতিবাদের ঝড়। নারীরা প্রকাশ্যে চুল কেটে, হিজাব পুড়িয়ে প্রতিবাদে শামিল হন। ইসলামি রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে সেই প্রতিবাদের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছিল সারাবিশ্বে। বিক্ষোভকারীরা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও নারী অধিকার দাবি করেন। বিক্ষোভ রুখতে দমনপীড়ন চালায় ইরান সরকার। ইরান সরকার অবশ্য কঠোর হাতে এই প্রতিবাদী নাগরিকদের দমন করেছে। এখন মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধে বিষপ্রয়োগের বিষয়টি সামনে এল।
ইউডি/এজেএস

