অস্কারের মঞ্চে দীপিকা, কাঁধে ‘৮২°ই’ ট্যাটু
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৩ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১৯:৩০
উন্মুক্ত কাঁধ। সেই কাঁধ বেয়ে পিছলে পড়ছে অস্কার মঞ্চের আলো। অস্কারের আলো আঁধারি মঞ্চে ইন্ডিয়ান অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন এসে দাঁড়ালেন সেই আলো গায়ে মেখেই। এই প্রথম অস্কারের মঞ্চে আসা ‘পাঠানি’র। এই প্রথম আরও অনেক কিছুই দেখা গেল দীপিকার অস্কার-অবতারে।
কালো রঙের লুই ভিত্তোঁর গাউন পরেছিলেন দীপিকা। লম্বা ঝুলের পা ঢাকা পোশাক। তবে কাঁধ খোলা। ‘বিপদসীমা’য় থমকে যাওয়া নিচু গলা। পিঠও নিরাবরণ।
শরীরে জড়িয়ে থাকা এই পোশাকের নাম ‘অফ শোল্ডার মারমেড গাউন’। মৎস্যকন্যার মতো আকৃতি তাই এমন নাম। ফ্যাশন দুনিয়ায় কালো রঙের এই ধরনের পোশাককে ‘ক্লাসিক’ বা ধ্রুপদী বলে মানা হয়। দীপিকা ওই পোশাকের সঙ্গে পরেছিলেন কালো ভেলভেটের অপেরা গ্লাভস। সঙ্গে কার্টিয়ারের হিরের গয়নাও। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা।

অনেকেই বলছেন হলিউডের ফ্যাশনকে কিছুটা অনুকরণের চেষ্টা করেছেন দীপিকা। তাঁর বেছে নেওয়া পোশাক-গহনা থেকে শুরু করে সাজগোজের অনেকটাই হলিউড ক্লাসিক বলে পরিচিত ‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফনি’জ়’ ছবিতে অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্ন অনুপ্রাণিত। হাতে গ্লাভস, হিরার গয়না, মাথায় হালকা হাতে বাঁধা খোঁপা, হালকা গোলাপি লিপস্টিক, গোলাপি আইশ্যাডো, উইঙ্গড আইলাইনার, গলায় হিরার হার— সবই যেন অড্রের সাজের আধুনিক রূপ।
দীপিকার সাজগোজ অস্কারের ফ্যাশন সমালোচকদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ইন্ডিয়ান সিনেমার প্রতিনিধি হিসেবে দীপিকা যে নজর কেড়েছেন, তার প্রমাণ আন্তর্জাতিক ফ্যাশন পত্রিকাগুলিতে দীপিকার পোশাক চয়ন নিয়ে আলোচনা।

এসব আলোচনার সারমর্ম হলো, দীপিকার পোশাকে ছিল মার্জিত গ্ল্যামারের ধ্রুপদী প্রদর্শন। গত ভাঙা পোশাকে বহুবার দেখা গিয়েছে দীপিকাকে। নিয়মিত কান চলচ্চিত্রোৎসবে তার উপস্থিতি নজর টানে ফ্যাশন দুনিয়ার। তবে এমন হলিউডি ঢঙের ক্লাসিক গাউনে তাকে বড় একটা দেখা যায়নি।
এর আগে অস্কার পরবর্তী পার্টিতে ২০১৭ সালে হাজির হয়েছিলেন দীপিকা। সেবার বেছে নিয়েছিলেন কাঁধ খোলা পোশাক। কালো এবং ঝলমলে সোনালির মিশেল ছিল তাঁর গাউনে। খোলা অবিন্যস্ত চুলে সেই দীপিকাও ছিলেন গ্ল্যামারগার্ল। তবে ২০২৩ সালে প্রথম অস্কারের মঞ্চে উঠলেন দীপিকা। প্রেজেন্টার হিসাবে। ফ্যাশন দুনিয়ার নজরদাররা বলছেন, এই দীপিকার সাজ পোশাক অনেক বেশি পরিণত।

সোমবার এই মঞ্চে দীপিকার মতোই প্রেজেন্টার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হ্যাল বেরি, নিকোলে কিডম্যান, ডোয়েন জনসনের মতো হলিউডের খ্যাতনামী অভিনেতা-অভিনেত্রী। তাদের পাশে ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে উঠে আসা দীপিকার উপর তাই আলাদা নজর ছিল। দীপিকা মঞ্চে এসে এক গাল হেসে কালো ভেলভেটের গ্লাভস পরা হাত দু’টি সামনে রেখে বক্তৃতা শুরু করেন।
অল্প কথাতেই শেষ করেন দীপিকা। তবে সেই অল্প সময়েই ছবির নেপথ্য কাহিনি থেকে শুরু করে ইউটিউব এবং টিকটকে গানটি কতবার দেখা হয়ে গিয়েছে, তার হিসেবও দিয়ে দেন অভিনেত্রী। বলেন, ‘নাটু নাটু’ প্রথম ইন্ডিয়ান সিনেমার গান, যা অস্কারের জন্য মনোনীত হল। পাশাপাশি উপস্থিত হলিউডের খ্যাতনামী অতিথিদের উদ্দেশে দীপিকাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘এখনও যদি ‘নাটু’কে না চিনে থাকেন, তবে এ বার চিনে নেওয়ার সময় এসেছে।’’
দীপিকার বক্তৃতা চলাকালীনই বার বার হাততালির শব্দ শোনা যেতে থাকে গ্যালারি থেকে। দীপিকা প্রত্যেকটি হাততালির শব্দে থামেন। এক গাল হাসি ফিরিয়ে দিয়ে আবার বলতে শুরু করেন। দীপিকার ওই বক্তৃতার একটি ভিডিও এই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ‘নাটু নাটু’র মতো তাঁর বক্তৃতাও লক্ষ লক্ষ বার দেখা হয়ে গিয়েছে।
কাঁধে নতুন ট্যাটু
নতুন ট্যাটুটি ঘারের বাঁ পাশে। আগের ট্যাটুর থেকে আকারে ছোট। কয়েকটি সংখ্যা এবং অক্ষরের সমাহার। দীপিকার ঘাড়ে কালো রঙে লেখা ‘৮২°ই’।
৮২°ই আসলে একটি দ্রাঘিমা রেখা। যা ইন্ডিয়াকে আড়াআড়ি চিরে জুড়েছে সুমেরু এবং কুমেরুকে। তবে দীপিকার ট্যাটুর অর্থ বোধ হয় শুধু সেই দ্রাঘিমা রেখার নাম নয়। দীপিকার ত্বক পরিচর্যার ব্র্যান্ডের নামও ‘৮২°ই’। দীপিকা নিজের নতুন ট্যাটুতে সম্ভবত সেই ব্র্যান্ডের প্রচারও করেছেন অস্কারের মঞ্চে।

তবে অস্কারে দীপিকাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্কও। অস্কারে উপস্থিত এক ব্রাজিলিয়ান মডেলকে দীপিকা ভেবে ভুল করে এএফপি এবং গেটির মতো চিত্রসংবাদ সংস্থা। এমনকি, ফ্যাশন পত্রিকা ‘ভোগ’ও।
ইউডি/এ

