এক্সপ্রেসওয়ে দুর্ঘটনা: ৩৩ ঘণ্টার বেশি সময় বাস চালিয়ে চালক ক্লান্ত ছিলেন
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ২২:০০
মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের ১৯ যাত্রী নিহতের ঘটনায় চালকের ক্লান্তি এবং ঘুম দায়ী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে হাইওয়ে পুলিশ।
দুর্ঘটনা কবলিত ইমাদ পরিবহনের বাসটির চালক জাহিদ হাসান (৪৫) ঘটনার আগে সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৩৩ ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাঈম মো. মোফাজ্জেল হক।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জেনেছি ইমাদ পরিবহনের বাসটির চালক কোনো বিশ্রাম না নিয়েই বাসটি চালাচ্ছিলেন। দীর্ঘ ৩৩ ঘণ্টা ধরে গাড়ি চালানোয় তিনি ক্লান্ত ছিলেন। সকালে ঘুম চোখে বাস চালানোয় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাদী হয়ে ইমাদ পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। চালক বেঁচে থাকলে তার বিরুদ্ধেও মামলা হতো।’
বাসটির ফিটনেসে ও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল বলেও জানিয়েছেন ফরিদপুর জোনের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মাহাবুবুল হাসান ।
বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল বলেও জানান বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা।
ওই ঘটনায় নিহত বাসচালক জাহিদ হাসানের ছেলে রাতুল হাসান জানান, তার বাবা বৃহস্পতিবার ঢাকার ধোলাইরপাড়ের বাসা থেকে বের হন। ওই দিন রাতেই যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ে যান পিরোজপুরে। পরের দিন শুক্রবার সকালে পিরোজপুর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ছুটে আসেন। শুক্রবার বিকেলে আবার যাত্রী নিয়ে ছুটে যান পিরোজপুরে। রাতে পিরোজপুর পৌঁছে পরের দিন শনিবার সকালে আবার যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ছুটে আসেন। ঢাকা থেকে শনিবার দুপুরে আবার ছুটে যান খুলনায়। রাতে বাসের মধ্যে তিন থেকে চার ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে রোববার ভোর চারটায় খুলনার ফুলতলা থেকে বাসটি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। এভাবে তিনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় বাস চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন।’
রাতুল হাসান বলেন, ‘বাবা সপ্তাহে এক দিন বাসায় আসার সুযোগ পান। গাড়ি চালিয়ে তিনি সব সময় ক্লান্ত থাকেন। বৃহস্পতিবার বাসা থেকে বের হয়ে ঢাকা, পিরোজপুর, খুলনা রুটে পাঁচটি ট্রিপে বাস চালিয়েছেন। বাবা শনিবার রাতে ফোনে জানান, তিনি খুব ক্লান্ত ছিলেন। রোববার ঢাকায় ফিরে বাসায় এক দিন বিশ্রাম নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বাবা আমাদের ফাঁকি দিয়ে চির বিশ্রামে চলে গেলেন।’
এ বিষয়ে ইমাদ পরিবহনের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) ওয়াহিদুল ইসলাম একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কোম্পানির বাস যারা চালান, তাদের বিশ্রামের জন্য প্রতিটি জায়গায় আমাদের ঘর রাখা আছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির চালক জাহিদ ক্লান্ত ছিলেন, তিনি এমন কথা আমাদের কাউকে জানাননি।’
খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ইমাদ পরিবহনের বাসটি রোববার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিবচরের পাঁচ্চর পার হয়ে কুতুবপুর সংলগ্ন এক্সপ্রেসওয়েতে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের আন্ডারপাসের পাশে সংযোগ সড়কে আছড়ে পড়ে। এ সময় বাসটির একটি অংশ আন্ডারপাসের উপর এবং অন্য অংশ এক্সপ্রেসওয়ের ঢালুতে ঝুলে ছিল। ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৪ জন। শিবচর হাসপাতালে তিনজন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়।
ইউডি/এ

