অর্থনৈতিক সংকট: পাকিস্তানে পদদলিত হয়ে ১০ দিনে নিহত ২০
বিদ্যমান ঋণ পরিশোধের জন্য দেশটির কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন প্রয়োজন। দেশটির বৈদেশিক রিজার্ভ কমে গেছে এবং রুপির দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দরিদ্র পাকিস্তানি নাগরিকদের অর্থনৈতিক মন্দার যন্ত্রণা ব্যাপক বেড়ে গেছে।
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ১৩:১৫
পাকিস্তানে গত ১০ দিনে পদদলিত হয়ে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার করাচির সিন্ধু ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মীদের পরিবারের মধ্যে জাকাত বিতরণের সময় পদদলিত হয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ওই ঘটনায় আহত হন আরও পাঁচজন।
ইন্ডিয়ান সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
প্রতিবদেনে বলা হয়, আর্থিক সংকটে থাকা পাকিস্তানে গত মার্চে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৩৭ শতাংশে, যা গত পাঁচ দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশটির সরকার এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ করে ঋণ নিতে হিমশিম খাচ্ছে।
দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের চেয়ে মার্চে দেশটির মূল্যস্ফীতি তিন দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে। দেশটিতে গত বছর গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ২৭ দশমিক ২৬ শতাংশ।
করাচিভিত্তিক বিশ্লেষক শাহিদা উইজারাত বলেন, ‘পাকিস্তানে যেভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, আমার মনে হয় দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।’
বছরের পর বছর ধরে চলা আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি দেশটিতে গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
বিদ্যমান ঋণ পরিশোধের জন্য দেশটির কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন প্রয়োজন। দেশটির বৈদেশিক রিজার্ভ কমে গেছে এবং রুপির দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দরিদ্র পাকিস্তানি নাগরিকদের অর্থনৈতিক মন্দার যন্ত্রণা ব্যাপক বেড়ে গেছে। পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২২ কোটি।
অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে জরুরি ঋণসহায়তা (বেইল আউট) চেয়েছে ইসলামাবাদ। এই বেইল আউট পাওয়ার জন্য আইএমএফের অন্যতম শর্ত হলো, ভর্তুকি কমাতে হবে।
এবারের সংকটকে আরও গভীর বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের অনেকে। কারণ, এবার জিনিসপত্রের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে আয়কর। এতে করে শিক্ষিত পেশাজীবীদের ওপরও বড় ধাক্কা এসেছে।
তাদের অনেকে বলেছেন, জীবন চালাতে প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস তালিকা থেকে বাদ দিতে হয়েছে।
ইউডি/এ

