কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘ভয়ঙ্কর’: কর্মহীন হতে পারে বিশে^র ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘ভয়ঙ্কর’: কর্মহীন হতে পারে বিশে^র ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৩ মে ২০২৩ । আপডেট ১৩:০৫

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। মানব অস্তিত্বের জন্য এআই হুমকি নাকি আর্শিবাদ তা নিয়ে চলছে বিতর্ক। তবে এর নেতিবাচক প্রভাবের দিকেই মত দিচ্ছেন গবেষকগণ। ভবিষ্যতে এআই মানুষের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে বলছেন তারা। এআই’র কারণে আগামী ৫ বছরে বিশ^জুড়ে কর্মহীন হতে পারে বিশে^র ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ। এ নিয়ে মিলন গাজী’র প্রতিবেদন

এআই’র নেতিবাচক দিক মানুষের জন্য আতঙ্ক বাড়াচ্ছে: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানব অস্তিত্বের জন্য হুমকি হবে কি না, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এখানে বিভক্ত মতামত দিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষকদের মধ্যে চালানো এক জরিপে ৪৮ শতাংশ গবেষক মত দেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার খুব খারাপ প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে। তবে ২৫ শতাংশ গবেষক মনে করেন, মানব অস্তিত্বের জন্য এআই ঝুঁকি হতে পারে এমন হার শূন্য। অন্যান্য গবেষকগণ মনে করেন, ঝুঁকির হার ৫ শতাংশ। তবে আশঙ্কার বিষয়টি হচ্ছে, উন্নত এআই সিস্টেমে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। যেমন বিষাক্ত কোনো কিছু বা ভাইরাস ছড়ানো বা মানুষকে সন্ত্রাসী কর্মকাøে প্ররোচিত করার মতো পথ বেছে নিতে পারে। গবেষকদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতের এআইয়ের নিজের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এসব উদ্দেশ্য এর নির্মাতাদের চেয়ে পৃথক কিছু হয়ে উঠতে পারে। এসব আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ধরনের উদ্দেশ্য সাধন করতে হলে বর্তমান প্রযুক্তি থেকে অনেক উন্নত হতে হবে এআইকে। এ থেকেই এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে আসতে শুরু করেছে। এখন এআই পক্ষপাত, গোপনীয়তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়িয়ে চলেছে। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ আরও বাড়বে। আরও সমস্যা সৃষ্টি হবে। মূল বিষয় হলো, ঝুঁকি মূল্যায়ন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিশ্রুতির ভারসাম্য বজায় রাখা ও মানিয়ে নিতে প্রস্তুত হওয়া।

খাল কেটে কুমির এনে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত ‘গডফাদার অব এআই’: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের ‘গডফাদার’ হিসেবে সবাই যাকে চেনে, সেই জেফ্রি হিনটন গুগলের চাকরি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন এআই নিয়ে বিপদ সংকেত দিয়ে। ৭৫ বছর বয়সী হিনটন নিউ ইয়র্ক টাইমসকে এক বিবৃতিতে বলেছেন, আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের উন্নয়নে তার যা কাজ, সেজন্য এখন তার অনুশোচনা হচ্ছে। আর বিবিসিকে তিনি বলেছেন, এআই চ্যাটবটগুলো এখন এমন বিপদজনক মাত্রায় বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে, যা রীতিমত ‘আতঙ্ক জাগানোর মত’। তিনি বলেন, আমার জানা মতে, এখনও তারা আমাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে ওঠেনি। কিন্তু আমার মনে হয়, শিগগিরই তারা আমাদের ছাড়িয়ে যাবে। ডিপ লার্নিং এবং নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে ড. হিনটনকে একজন পথিকৃৎ বিবেচনা করা হয়। তার গবেষণার পথ ধরেই চ্যাটজিপিটির মত আজকের এআই সিস্টেমগুলো তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ-কানাডিয়ান কগনিটিভ সাইকোলজিস্ট ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী জেফ্রি হিনটন এখন মনে করছেন, মানুষের মস্তিষ্ক যতটা তথ্য ধারণ করতে পারে, শিগগিরই তাকে ছাড়িয়ে যাবে চ্যাটবট। আমরা এখনই দেখতে পাচ্ছি, জিপিটি-৪ এর মত চ্যাটবটগুলো সাধারণ জ্ঞানের দিক দিয়ে মানুষকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, অনেকটা পেছনে ফেলে দিচ্ছে। যদিও যুক্তি বিচারে এরা এখনও ততটা ভালো করতে পারছে না, কিন্তু ইতোমধ্যে এরা সাধারণ যুক্তি বিচার শিখে ফেলেছে। আর যে গতিতে আমরা এদের উন্নতি দেখতে পাচ্ছি, তাতে খুব শিগগিরই এরা আরো ভালো কাজ দেখাবে। সুতরাং এটা নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ আছে। ২০১৮ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যুগান্তকারী কাজের জন্য ‘ট্যুরিং অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু এখন তার দাবি, তিনি যে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন তার পরিণতি ভয়ঙ্কর। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে হিন্টন জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে চলেছে সমাজের একাংশ। ভুয়ো ছবি এবং খবর তৈরিতে যে ভাবে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হিন্টন। হিন্টন কর্মসংস্থানের উপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কুপ্রভাব নিয়েও উদ্বিগ্ন। তিনি স্বীকার করেছেন, এআই-এর নিজস্ব ভাবে কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে। এমনকি মানুষের বুদ্ধিমত্তাকেও ছাপিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। ফলে বিশ্বব্যাপী ধীরে ধীরে বিভিন্ন সংস্থায় কর্মীছাঁটাই বাড়তে পারে। চাকরির অভাব দেখা দিতে পারে।

চাকুরির বাজার নিয়ে ডব্লিউইএফ’র পূর্বাভাস উদ্বেগজনক: ইতিমধ্যে বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে শুরু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই’র প্রয়োগ। ক্রমশ এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর শুধু এ কারণেই আগামী ৫ বছরে বিশ্ব জুড়ে কাজ হারাতে পারেন প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ। এমনটাই জানাচ্ছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম বা ডব্লিউইএফের রিপোর্ট। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রতি বছরই বিশ্বনেতাদের নিয়ে একটি আলোচনাসভার আয়োজন করে। এ বারের আলোচনায় উঠে এসেছিল, ২০২৭ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে ৬ কোটি ৯ লক্ষ নতুন চাকরি হবে। কিন্তু একই সঙ্গে ৮ কোটি ৩ লক্ষ মানুষ কর্মহীনও হয়ে পড়বেন। সমীক্ষা বলছে, আগামী ৬ বছর শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বহুল ব্যবহারে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষের কাজ চলে যাবে। যা বর্তমান কর্মসংস্থানের প্রায় ২ শতাংশ। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সময় থেকেই শুরু হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী অন্তত ৫ বছর বিশ্বে চাকরির বাজারে চলবে টালমাটাল পরিস্থিতি। নতুন চাকরির তুলনায় ছাঁটাই হবে বেশি। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সাম্প্রতিক রিপোর্টে এমনটাই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।‘ফিউচার অফ জবস’ শীর্ষক ওই রিপোর্ট জানাচ্ছে, আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বে চাকরি হারাতে পারেন প্রায় ৮ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ। অন্য দিকে, ওই সময়সীমার মধ্যে ৬ কোটি ৯০ লক্ষ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। মোট ৮০৩টি কর্পোরেট সংস্থার মূল্যায়ন করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ডব্লিউইএফ। বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে আগামী ৫ বছরের অনিশ্চয়তার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে তাতে। বলা হয়েছে, চাকরি হারানো এবং নতুন চাকরি পাওয়াদের সংখ্যা সামগ্রিক ভাবে পৌঁছতে পারে চাকরির বাজারের ২৩ শতাংশে। ওই সময়সীমার মধ্যে বিশ্বে ১০.২ শতাংশ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্য দিকে, ছাঁটাই হবে প্রায় ১২.৩ শতাংশ পদ। অন্য দিকে, আগামী ৫ বছরে ইন্ডিয়ায় ছাঁটাই হওয়া এবং চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের মোট সংখ্যা হবে চাকরির বাজারের প্রায় ২২ শতাংশ।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নজর এআইয়ে: বাড়ছে কর্মী ছাটায়ের সংখ্যা: এ বার বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তার (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) উপর জোর দিতে শুরু করেছে। ফলে কর্মীদের উপর যে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে চলেছে, বহু কর্মী যে কর্মহীন হতে চলেছেন, তা বলাইবাহুল্য। আমেরিকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস করপোরেশন (আইবিএম) এ বার সেই পথেই হাঁটা শুরু করেছে। নতুন করে কর্মী নিয়োগ তো নয়ই, বরং কর্মী ছাঁটাই করে সেই জায়গায় কৃত্রিম মেধাকে ব্যবহার করা চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে। ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইবিএমের কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন যে, কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। অন্ততপক্ষে ৭,৮০০ জন কর্মীকে সরিয়ে আগামী দিনে কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করা হতে পারে। গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে নেমেছে। সম্প্রতি অ্যামাজনও বেশ কিছু কর্মী ছাঁটাই করেছে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। সেই একই পথে হাঁটতে চলেছে আইবিএমও। এ বছরের শুরুতেই খরচ কমাতে সংস্থাটি ঘোষণা করেছিল যে, খুব শীঘ্রই ৪,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে। এক সাক্ষাৎকারে আইবিএম সিইও অরবিন্দ কৃষ্ণ জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সংস্থার ৩০ শতাংশ কাজ করানো কৃত্রিম মেধার সাহায্যে। আইবিএমে কাজ করেন ২৬ হাজার কর্মী। সে ক্ষেত্রে ৭,৮০০ জনকে সরিয়ে সেই জায়গা দখল করবে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা! সংস্থাটির নিজস্ব ২৬ হাজার কর্মী ছাড়াও সফ্টঅয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং কাস্টমার সার্ভিসের জন্য বহু কর্মী ‘হায়ার’ করে আইবিএম। সিইও-র দাবি, কর্মী ছাঁটাই যেমন হয়েছে, ঠিক একই ভাবে প্রথম তিন মাসে ৭০০০ কর্মীকে নিয়োগও করা হয়েছে।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিতে হবে যেসব পদক্ষেপ: যে ভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে, বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার উন্নয়ন ঘটছে, তাতে কর্মক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিভিন্ন সংস্থায় কর্মী সঙ্কোচন হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তারা এ-ও বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বহুল ব্যবহারের ভাল দিক যেমন আছে, তেমনই রয়েছে নেতিবাচক কিছু বিষয়। তার মধ্যে অন্যতম হল কর্মীসঙ্কোচন। কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের জন্য সংস্থাগুলি যেমন কিছু কর্মী নিয়োগ করবে, তেমনই এর ব্যবহারের ফলে পুরনো অনেক কর্মীর আর প্রয়োজন বোধ করবে না সংস্থাগুলো। সেখান থেকেই আসতে পারে কর্মী সঙ্কোচন। চ্যাটজিপিটির মতো সাম্প্রতিক প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই দশকের প্রথম দিকে স্বয়ংক্রিয় শক্তির ব্যবহার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণা বলছে, এখন যে সমস্ত বহুজাতিক ব্যবসায়িক সংস্থা কাজের প্রায় ৩৪ শতাংশ মেশিন দিয়ে করছে। ক্রমশ তা আরও বাড়বে। অতীতে যন্ত্র মূলত মানুষের শ্রমকে প্রতিস্থাপন করত। যেমন ক্যালকুলেটর ও কম্পিউটারের মাধ্যমে গণনা করা যায়, তবে চিন্তা করে মানুষই। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শক্তি ও চিন্তা-দুই জায়গায় মানুষকে সরাসরি প্রতিস্থাপন করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণ ছাড়া মানুষের পেশি ও মগজের প্রয়োজন পড়বে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন। পুরো ব্যাপারই নির্ভর করবে আদতে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির ওপর। যেমন প্রাচীন রোমে চাকার পরিবর্তে শ্রমিকের পেশি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ছিল রাজনৈতিক। এমনকি কয়েক দশক আগেও আমাদের এই তল্লাটে চাকার বদলে পালকি ব্যবহƒত হতো। আমাদের গবেষণায় সুস্পষ্টভাবে দেখাতে সক্ষম হই যে সবচেয়ে আধুনিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক প্রযুক্তির উপস্থিতি সত্ত্বেও তা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে সব সময় গ্রহণযোগ্য হয় না।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি না থাকলে প্রযুক্তি পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বেকারত্ব আগামী দিনে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। শ্রমিক-কর্মীদের প্রস্তুত হতে হবে নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়ে। আর নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল নিয়ে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কারণে যারা কাজ হারাবেন, তাদের জন্য বাড়তি মুনাফার একটি অংশ বরাদ্দ রাখতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা, সর্বজনীন মূল আয়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বেকার ভাতার মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। শ্রমিকদেরও নিজেদের অধিকার আদায়ে নতুন ধরনের শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। টাইপসেটারদের আন্দোলন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাদরে বড় অংশই কোনো আইনি সহায়তা পায়নি। এই বিষয়েও প্রস্তুতি থাকা জরুরি। প্রাণী হিসেবে মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা চিন্তা ও কল্পনা করার সক্ষমতা; কায়িক শ্রম নয়। কিন্তু বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তির সহায়তা পেয়ে আমাদের চিন্তা ও কল্পনার জায়গা অনেকটাই সরল ও সংকীর্ণ হয়েছে। এ কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহজেই আমাদের চিন্তা ও কল্পনার সীমা ধরে ফেলতে পারছে। মানুষের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা খাপ খাইয়ে নিতে পারা। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকলে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যে চ্যালেঞ্জ, তা মোকাবিলা করে মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকাতেই রাখতে পারবে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading