বাস্তুচ্যুত ৭১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ
কিফায়েত সুস্মিত । শনিবার, ০৬ মে ২০২৩ । আপডেট ০৮:০০
বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়লে তা কতটা আশঙ্কাজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে, বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিশ্বজুড়ে নানা সংঘাত ও পাকিস্তানের বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া বিশ্বব্যাপী মোট মানুষের সংখ্যা ২০২২ সালে রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাপী গত বছর অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৭১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি মনিটরিং সেন্টারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আমরা বলতে চাই, বিশ্ব নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্টদের এটা আমলে নেওয়া দরকার, যদি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হন ৭১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ, তবে তা কতটা আশঙ্কাজনক এবং ভীতিপ্রদ বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। এ ছাড়া এটাও বিবেচনায় নিতে হবে, যেহেতু যুদ্ধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে এমন অবস্থায় করণীয় নির্ধারণ সাপেক্ষে এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।
উলেস্নখ্য, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি মনিটরিং সেন্টারের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে অভূতপূর্বভাবে ৭১.১ মিলিয়ন মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে নিবন্ধিত হয়েছেন। যা এক বছর আগের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। একদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ অন্যদিকে পাকিস্তানে গত বছরের বিপর্যয়কর বন্যাও বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে বলে জানা যাচ্ছে। লক্ষণীয়, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি মনিটরিং সেন্টার (আইডিএমসি) এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) যৌথ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালে ৬০.৯ মিলিয়ন মানুষ সম্পূর্ণ নতুন করে অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতির শিকার হয়েছেন বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। এসব মানুষের মধ্যে বেশকিছু লোক বছরের মধ্যে একাধিকবার তাদের অবস্থান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। এটাও আমলে নেওয়া দরকার, নতুন অভ্যন্তরীণ এই স্থানচ্যুত মানুষের সংখ্যা সর্বকালের সর্বোচ্চ এবং ২০২১ সালে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন স্থানচ্যুতির তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি। সঙ্গত কারণেই যেভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে তা সহজ করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
প্রসঙ্গত আমরা এটাও বলতে চাই, বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদেরও বাস্তুচ্যুত মানুষের বিষয়টি আমলে নিতে হবে এর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কেননা, এটা মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়ায় প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো দুর্যোগ আঘাত হানে। দুর্যোগের কারণে অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। খাদ্য, সুপেয় পানি সংকটসহ বাসস্থানের সংকট দেখা যায়। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশের মানুষ বাস্তুহারা হওয়ার ঘটনা ঘটছে- এমন বিষয় বিভিন্ন সময়েই সামনে এসেছে।
বলা দরকার, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি মনিটরিং সেন্টার প্রধান বলেছেন ‘অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতির এই ঘটনার বেশির ভাগ বৃদ্ধি অবশ্যই ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে হয়েছে। তবে পাকিস্তানের বন্যা, বিশ্বজুড়ে নতুন ও আগে থেকে চলমান সংঘাতের কারণে এবং অনেক আকস্মিক ও ধীরে ধীরে শুরু হওয়া বিপর্যয়ের কারণেও এই বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।’
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সংঘাত এবং সহিংসতার কারণে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত বিশ্বব্যাপী মোট মানুষের সংখ্যা ৬২ মিলিয়নেরও বেশি, যা ২০২১ সালের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। সিরিয়ায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর সংঘাতের কারণেও ৬৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বন্যা ও দুর্ভিক্ষের মতো দুর্যোগের কারণে বছরের শেষে তাদের দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৮.৭ মিলিয়নে পৌঁছেছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ২০২১ সালের তুলনায় বিশ্বব্যাপী অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা মোট ৭১.১ মিলিয়ন হয়ে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা বলতে চাই, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি বলতে এমন মানুষকে বোঝায়, যারা তাদের নিজস্ব সীমানার অভ্যন্তরে চলে যেতে বাধ্য হয়। যখন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া বিশ্বব্যাপী মানুষের সংখ্যা ২০২২ সালে রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে- তখন তা এড়ানোর সুযোগ নেই। সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে বিশ্ব নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্টরা এর ভয়াবহতা অনুধাবন করবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোগ নেবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

