বয়স ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মেকআপ মিলছে তো?

বয়স ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মেকআপ মিলছে তো?

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩ । আপডেট ১৩:০০

পার্টিতে যাওয়ার জন্য অনেক সময় নিয়ে গ্ল্যাম মেকআপ লুক ক্রিয়েট করেছে ত্রয়ী। কিন্তু মেকআপ শেষে আয়নায় নিজেকে দেখতেই ত্রয়ীর মনে হলো তার বয়স বুঝি অনেক বেড়ে গেছে, আর ফেইসে কোনো ন্যাচারাল গ্লো নেই! শুধুমাত্র ত্রয়ীরই নয়, এই সমস্যাটি কিন্তু অনেকেরই! আপনার বয়স ও পারসোনালিটির সঙ্গে মেকআপ স্যুট করছে কি না, সেটা খেয়াল করুন আগে। অনেক সময় দেখা যায়, মেকআপের সবগুলো স্টেপ ফলো করার পরেও ফেইস বয়সের চেয়ে বেশি ম্যাচিউরড দেখাচ্ছে। ইয়ুথফুল মেকআপ লুক ক্রিয়েট করার কিছু ইজি ট্রিকস সম্পর্কে আজ বিস্তারিত জানাবো। চলুন শুরু করা যাক।

বয়স ও পারসোনালিটির সাথে মেকআপের সামঞ্জস্যতা: মেকআপ আমাদের ফেসিয়াল ফিচারকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। আসলে মেকআপের মাধ্যমে নিজের ন্যাচারাল বিউটি এনহ্যান্স করা হয়। না বুঝে আমরা এমন কিছু মেকআপ মিসটেকস করি যা বাড়িয়ে দেয় আমাদের বয়স। কোন ধরনের মেকআপ আপনার বয়স ও পারসোনালিটির সাথে পারফেক্টলি স্যুট করবে, সেটা নিয়ে কনফিউজড? চলুন জেনে নেই তাহলে।

ধীরে ধীরে ফাউন্ডেশনের কভারেজ বিল্ড আপ করুন: ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করার সময় আমাদের অনেকেরই টেন্ডেন্সি থাকে একবারে ফেইসে অনেকখানি ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করে তারপর ব্লেন্ড করা! এতে বেইজ মেকআপ বেশ হেভি হয়ে যায় এবং দেখতেও কেকি লাগে। তখনই কিন্তু ফেইস বয়সের চেয়ে ম্যাচিউরড দেখায়। এই কারণে কখনোই একবারে খুব বেশি পরিমাণে ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করবেন না। বরং প্রথমে এক লেয়ার অ্যাপ্লাই করে স্মুথলি ব্লেন্ড করুন, তারপর যদি প্রয়োজন হয় তাহলে ধীরে ধীরে কভারেজ বিল্ড আপ করুন।

সঠিক শেইডের কনসিলার বেছে নিন: আমরা সবাই চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল হাইড করার জন্য কনসিলার ইউজ করি। তবে অনেকেই ডার্ক সার্কেলে নিজের স্কিন শেইডের চেয়ে কয়েক শেইড লাইট কনসিলার অ্যাপ্লাই করেন। এতে দেখতে আনন্যাচারাল লাগে এবং বেশি ম্যাচিউরড মনে হয়। তাই সাজেশন থাকবে, নিজের স্কিন টোনের সাথে ম্যাচ করে এমন শেইডের কনসিলার অ্যাপ্লাই করুন। যদি আন্ডার আই এরিয়া পপ আপ বা হাইলাইট করতে চান, সেক্ষেত্রে স্কিনটোনের চেয়ে এক বা দু’ শেইড লাইট কনসিলার বেছে নিন। তবে যদি ডার্ক সার্কেল থাকে, তাহলে অরেঞ্জ কালার কারেক্টর আগে অ্যাপ্লাই করে নিতে হবে, এরপর কনসিলার! আশা করি এবার কনফিউশনগুলো ক্লিয়ার হয়েছে।

আইব্রোর ন্যাচারাল শেইপ মেনটেইন করুন: আইব্রোর আসল শেইপের চেয়ে চিকন ও ডার্ক করে আইব্রো ড্র করলে তা দেখতে আনন্যাচারাল দেখায়। যখন এই ধরনের মিসটেকগুলো হয়, বয়স ও পারসোনালিটির সাথে মেকআপ লুক তখনই কনফ্লিক্ট করে। তাই আপনার ফেইস আপলিফটেড ও ইয়াংগার লুকিং দেখাতে সবসময় আইব্রোর ন্যাচারাল শেইপ মেনটেইন করে আইব্রো ড্র করুন। হেয়ার কালারের সাথে ম্যাচ করে আইব্রো জেল বা পেন্সিলের শেইড চুজ করতে হবে।

ক্রিম ফর্মুলার আইশ্যাডো অ্যাপ্লাই করুন: পাউডার ফর্মুলার আইশ্যাডো সবাই প্রিফার করে, তাই না? অনেকেরই কিন্তু আইলিডে রিংকেলস থাকে, যেটা জেনেটিক্যালি বা বয়স বৃদ্ধি- যেকোনো কারণেই হতে পারে। এক্ষেত্রে পাউডার আইশ্যাডো অ্যাপ্লাই করলে ক্রিজিংয়ের ভয় থাকে। তাই আইলিডে এজিং সাইনস দেখা দিলে ক্রিম ফর্মুলার আইশ্যাডো বেছে নিতে পারেন। কারণ এই আইশ্যাডোগুলো খুব ইজিলি ব্লেড হয়ে যায় এবং ক্রিজ করে না।

সঠিক লিপস্টিক শেইড পিক করুন: লিপস্টিক ছাড়া তো মেকআপ লুক কমপ্লিট হয় না, রাইট? অনেকেই অভিযোগ করেন, লিপস্টিক দেওয়ার পর সেটি ছড়িয়ে যাচ্ছে বা স্ম্যাজ হচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতে লিপস্টিক অ্যাপ্লাইয়ের আগে সেইম শেইডের লিপলাইনার ইউজ করুন। এতে আপনার ঠোঁটের শেইপ ডিফাইনড হবে, লিপস্টিক স্ম্যাজ করার চান্স কমে যাবে। আর বয়স ও পারসোনালিটির সাথে ম্যাচ করে, এমন শেইডস পিক করুন। যেমন টিনেজে কালারফুল ভাইব্রেন্ট শেইডস বেশ স্যুট করলেও ৩০-৪০ বছরে এসে ন্যুড, ব্রাউন, কফি এই লিপ কালারগুলো ভালো মানাবে। কোন প্রফেশনে আছেন, কোন অকেশনে অ্যাটেন্ড করছেন বা কী ধরনের পোশাক পরেছেন, সেগুলো মাথায় রেখেই কালার কসমেটিকস চুজ করুন।

আই শেইপ বুঝে লাইনার ও কাজল অ্যাপ্লাই করুন: আইলাইনার ও কাজল মেকআপের গেইম চেঞ্জার। নিজেকে ইয়াং দেখাতে সবসময় নিজের আই শেইপ বুঝে তারপর আইলাইনার ইউজ করুন। যেমন ধরুন, আপনার হুডেড আই হলে থিক ও ড্রামাটিক উইংড লাইনার না দিয়ে চিকন করে উইংড লাইনার দিন। এতে চোখ দু’টো দেখতে বেশি সুন্দর লাগবে। বয়স ও পারসোনালিটির সাথে আই মেকআপ যাতে মানানসই হয়, সেটা খেয়াল রাখবেন। এখন কালারফুল আইলাইনারের ট্রেন্ড চলছে, আউটফিটের কালারের সাথে ম্যাচ করে আপনিও ট্রাই করতে পারেন।

ও হ্যাঁ, আপনার আই শেইপ যেমনই হোক, চোখের উপরের ওয়াটারলাইনে কাজল দিয়ে খুব সাবধানে লাইন করে নিতে ভুলবেন না। এতে চোখ দু’টো লিফটেড মনে হয়, যা ইয়াংগার লুকিং দেখাতে হেল্প করে। লোয়ার ওয়াটার লাইনে ন্যুড কাজল ব্যবহার করুন, এতে আই শেইপ বড় দেখাবে। ২০ বছরে ডার্ক ও বোল্ড স্মোকি আইলুকে সুন্দর দেখাবে, কিন্তু ৪০ বছরে ঐ সেইম আইলুক কিন্তু নাও মানাতে পারে। তাই বয়স, ফেইস ফিচার সব কিছু বিবেচনায় রেখে মেকআপ লুক কমপ্লিট করুন।

সঠিক টেকনিক ফলো করে ব্লাশ অ্যাপ্লাই করুন: ফেইসে ব্লাশ অ্যাপ্লাই করার অনেকগুলো টেকনিক রয়েছে। তবে ফেইস যেন বয়সের চেয়ে বেশি ম্যাচিউরড না দেখায় সেজন্য সবসময় আপনার চিকে আপওয়ার্ড মোশনে ব্লাশ ব্লেন্ড করুন৷ খুব বেশি পরিমাণে ব্লাশ অ্যাপ্লাই করবেন না। পিচ, কোরাল, অরেঞ্জ, বেবি পিংক, বাবলগাম পিংক – এই শেইডগুলোতে বেশ প্রাণবন্ত দেখাবে আপনাকে।

বয়স ও পারসোনালিটির সাথে মেকআপ পারফেক্টলি স্যুট করলে সেটার জন্য আপনি অবশ্যই কমপ্লিমেন্ট পাবেন। আর আপনার কনফিডেন্স লেভেলও কিন্তু আগের থেকে বেড়ে যাবে। নিজেকে প্রেজেন্টেবল ও কনফিডেন্ট রাখতে এই ট্রিকগুলো মাস্ট ফলো করুন।

লিখেছেন: সুমাইয়া দোলা

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading