মা ও নবজাতকের করুণ মৃত্যু: এই দায়িত্বহীনতার কে নেবে দায়?

মা ও নবজাতকের করুণ মৃত্যু: এই দায়িত্বহীনতার কে নেবে দায়?

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৯ জুন ২০২৩ । আপডেট ১৫:৫০

রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে নবজাতকের পর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ‘মা’ মাহবুবা রহমান আঁখিও। চিকিৎসকদের অবহেলা ও হাসপাতালের ব্যবসার বলি হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের উদাসীনতায় ঘটছে বারংবার। এ নিয়ে মিলন গাজী’র প্রতিবেদন

আলোচনায় সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসায় গাফিলতি

রাজধানীর গ্রিন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসায়’ নবজাতকের মৃত্যুর পর প্রসূতি মাহবুবা রহমান আঁখিও মারা গেছেন। রবিবার (১৮ জুন) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে মারা যান তিনি। গত তিন মাস ধরে রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন সন্তানসম্ভবা মাহবুবা রহমান আঁখি। তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল বলে চিকিৎসক জানিয়েছিলেন। নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমেই সন্তান প্রসব সম্ভব বলে তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন ডা. সংযুক্তা সাহা। প্রসব ব্যথা ওঠায় গত শুক্রবার (০৯ জুন) রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হসপিটালে ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে ভর্তি করা হয় আঁখিকে। তখন ডা. সংযুক্তা সাহা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না। তারপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি আছেন এবং ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) কাজ করছেন। এ বিষয়ে আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী বলেন, আমার স্ত্রীকে যখন ওটিতে ঢোকানো হয় এবং নরমাল ডেলিভারির জন্য চেষ্টা শুরু করা হয়, তখনও আমি সংযুক্তা সাহা হাসপাতালে আছেন কি না জানতে চাই। কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি আছেন এবং তিনি চেষ্টা চালাচ্ছেন। পরে জানতে পেরেছি ডা. সংযুক্তা সাহা ছিলেন না এবং তারা রোগীর কোনোরকম চেক-আপ ছাড়াই ডেলিভারির কাজ শুরু করে দেন। একপর্যায়ে ইয়াকুবকে জানানো হয়, তার স্ত্রীর চিকিৎসা করা আর সেখানে সম্ভব নয়। তাকে অন্য হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে। পরে স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে শনিবার (১০ জুন) ধানমন্ডির ল্যাবএইড হসপিটালে আঁখিকে ভর্তি করান ইয়াকুব। এরপর সেন্ট্রাল হসপিটালে এসে জানতে পারেন তার নবজাতক হসপিটালের এনআইসিইউতে মারা গেছে। এ ঘটনায় বুধবার (১৪ জুন) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমন্ডি থানায় সেন্ট্রাল হসপিটাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন ইয়াকুব আলী। মামলার আসামিরা হলেন, সেন্ট্রাল হাসপাতালের ডা. মুনা সাহা (২৮), ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা (৩৮), অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার সহকারী মো. জমির, ডা. এহসান, ডা. মিলি ও সেন্ট্রাল হসপিটালের ম্যানেজার পারভেজসহ আরও অজ্ঞাত ৫-৬ জন। এর মধ্যে বুধবার এজাহারনামীয় দুই আসামি ডা. মুনা সাহা ও ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিদের বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) আদালতে তুললে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

জাহিদ মালেক

আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, সেন্ট্রাল হসপিটালের ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। সেখানে একজন প্রসূতি মায়ের মৃত্যু খুবই দুঃখজনক।রবিবার (১৮ জুন) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সেন্ট্রাল হসপিটালে আমরা টিম পাঠিয়েছিলাম, কী কী জিনিসের ঘাটতি ছিল সেখানে গিয়ে তারা সার্বিক অবস্থা দেখেছে। অপারেশনসহ কিছু কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে পর্যন্ত তাদের ঘাটতিগুলো পূরণ না হবে সে পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, সেন্ট্রাল হসপিটালের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এখন তো বিষয়টি পুরোপুরি আইনের হাতে চলে গেছে। এখন যা ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটা আইনানুযায়ী নেওয়া হবে। এর আগে, রাজধানীর গ্রিন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে সব ধরনের অপারেশন (অস্ত্রোপচার) বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেইসঙ্গে চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহাকে আপাতত হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রমের বাইরে রাখারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জুন) এমন সিদ্ধান্তসহ সাত দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। চিকিৎসাজনিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একটি পরিদর্শন দল ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনে আইসিইউতে রোগীর রাখার উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়া যায়নি। এজন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষ বন্ধ করে দেওয়াসহ কয়েকদফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা অবহেলাসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের তাগিদ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে আইন আছে। বাংলাদেশে চিকিৎসা অবহেলার প্রতিকার পাওয়ার জন্য সাংবিধানিক, দেওয়ানি, ফৌজদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান আইনি ব্যবস্থায় নানা ধরনের সমস্যা বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চিকিৎসা অবহেলার প্রতিরোধ বা প্রতিকারের জন্য সরকারের আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চিকিৎসায় সতর্কতা অবলম্বনের মান নির্ধারণ, অবহেলার প্রকৃতি, প্রকার এবং তা পরিমাপ ও নিরসনের কার্যকর পদ্ধতি ঠিক করে সমস্যাটি যথাযথভাবে মোকাবেলার জন্য একটি পরিপূর্ণ আইন প্রণয়ন করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞগণ। বাংলাদেশে চিকিৎসা অবহেলার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আইন এখন পর্যন্ত প্রণয়ন করা হয়নি। তাই সরকারের উচিত চিকিৎসা অবহেলাসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট আইন দ্রæত প্রণয়ন করা। চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যেসব পেশাজীবী জড়িত তাদের জবাবদিহির অভাব রয়েছে। ২০১৬ সালে ‘রোগী এবং স্বাস্থ্যসেবা দানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন’ নামে একটি আইন প্রস্তাব করে সরকার। কিন্তু আইনটি এখনো পাস হয়নি। ভুল চিকিৎসার অভিযোগে রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে চিকিৎসকদের নানা সময়ে যে বিবাদ, ভাংচুরের ঘটনা ঘটে, সে বিষয়টিই নজর পেয়েছে বেশি। আইনটি এখনো সংশোধনীর মধ্যেই আটকে রয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলা হচ্ছে পেশাদারদের মাধ্যমে প্রতিশ্রুত স্বাস্থ্য অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অবহেলার সঙ্গে চিকিৎসাসংক্রান্ত ত্রæটিও জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা অবহেলাসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন ও বিধিমালা তৈরি জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ডাক্তারদের ভুল ও অবহেলার প্রশ্ন ওঠে যখন কোনো রোগীর চিকিৎসার এক পর্যায়ে জটিলতা বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় শুধু তখনই। চিকিৎসায় ‘অবহেলা’ বা ভুলজনিত কারণে রোগীর মৃত্যুর বেশকিছু অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। বরাবরের মতো এ নিয়ে রোগীর লোকদের সঙ্গে হাসপাতাল বা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গোলযোগ, হাতাহাতি ঘটেছে, থানা পুলিশ জড়িত হয়েছে এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও নার্সদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। কিন্তু এতে সমস্যা আরো জটিল আকার ধারণ করেছে।

ডা. সংযুক্তা সাহা

দায় নেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বলেছেন ডা. সংযুক্তা সাহা

আঁখির ঘটনায় ব্যাপক সমালোচিত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহা বলেন, রোগীর পরিবার অনেক কিছুই বলতে পারে, কারণ তারা স্বজন হারিয়েছেন। কিন্তু বাঁচা-মরা তো আল্লাহর ইচ্ছা। আমরা তো ইচ্ছা করে কাউকে মেরে ফেলি না। এ ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান। ডা. সংযুক্তা সাহা বলেন, চিকিৎসক হিসেবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটাই করে থাকি। তারপরও অনেক সময় রোগীকে বাঁচাতে পারি না, চিকিৎসক কখনোই জেনে-বুঝে রোগীকে সমস্যায় ফেলতে পারেন না।
তিনি বলেন, আমি সে সময় সেন্ট্রাল হসপিটালে ছিলাম না। যা ঘটেছে সেটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুঝবে। সেন্ট্রাল হসপিটাল আমার নয়, আমিএই প্রতিষ্ঠানকে ‘ওউন’ করি না। তাছাড়া আমি সেখানে পার্মানেন্টলি কাজ করি না। আমি সেখানকার অ্যাপয়েন্টেড কোনো ডাক্তারও নই। সেদিনের ডেলিভারিতে আমার অনুপস্থিতিতে যারা ছিল সবাই তাদের নিজস্ব ডাক্তার-নার্স। সুতরাং যদি রোগীর পরিবারের সঙ্গে কিছু হয়ে থাকে, সেটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুঝবে।

আঁখির মৃত্যুর কারণ নিয়ে যা বলছে ল্যাবএইড হাসপাতাল

আঁখির মৃত্যুর কারণ জানিয়েছে ল্যাবএইড হাসপাতাল। হাসপাতালের পক্ষ থেকে ল্যাবএইড গ্রæপের জনসংযোগ কর্মকর্তা চৌধুরী মেহের এ খোদা বলেন, ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় রোগীর প্রসবজনিত জটিলতা ছিল, মায়ের অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ এবং হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর ল্যাবএইড হাসপাতালে আনা হয়। এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত¡াবধানে সিসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তিনি আরও বলেন, রোগীর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১২ জুন ছয় সদস্য বিশিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। সেই বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা অব্যাহত ছিল। রোগীর ইউরিন আউটপুট একেবারেই বন্ধ ছিল, যার কারণে ডায়ালাইসিস করা হচ্ছিল। সব প্রচেষ্টার পর রোগীর কোনও প্রকার উন্নতি হয়নি। আজ (রবিবার) দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে হƒদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ এবং হƒদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১৯ জুন ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা

আমার স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে, আঁখির স্বামীর অভিযোগ

স্ত্রীর মৃত্যুকে সেন্ট্রাল হাসপাতালের হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন স্বামী ইয়াকুব আলী সুমন। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী মারা যায়নি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। ইয়াকুব আলী বলেন, আমার স্ত্রী ডা. সংযুক্তা সাহার ভিডিও দেখে নরমাল ডেলিভারি করাতে ঢাকা সেন্ট্রাল হসপিটালে আসে। যদিও কুমিল্লার ডাক্তার বলেছিল তার সিজার লাগবে। কিন্তু সেন্ট্রাল হসপিটালে এসে আমি প্রতারিত হয়েছি। তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর ভুল চিকিৎসায় জড়িত সেন্ট্রাল হসপিটালের প্রত্যেকের আমি বিচার চাই। সংযুক্তা সাহাও সেই দায় এড়াতে পারেন না। আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় ডা. সংযুক্তা সাহার গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ইডেন কলেজে অধ্যয়নরত আখিঁর সহপাঠীরা। একইসঙ্গে সেন্ট্রাল হসপিটালের লাইসেন্স বাতিল করে একদিনের মধ্যে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তারা আরও বলেন, সেন্ট্রাল হসপিটাল কর্তৃপক্ষ লোক পাঠিয়ে আমাদেরকে হুমকি দেয়। বলে, কিছু দিন পর সবাই ভুলে যাবে, তোমাদের কত টাকা হইছে। কিছু দিন পর সব ঠিক হয়ে গেলে তোমাকে দেখে নেব। এভাবে আমাদের শিশুকে হত্যা ও আমাদের বোনকে হত্যা করার পর আমাদেরও হুমকি দিচ্ছে। আমরা সেন্ট্রাল হসপিটালের কাছে যাব, আমাদেরও মেরে ফেলুক।

ইউডি/এজেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading