জুলাই মাসে ৫১১টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫৭৩ জন

জুলাই মাসে ৫১১টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫৭৩ জন

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০৭ আগস্ট ২০২৩ । আপডেট ১৮:০০

গত জুলাই মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫১১টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫৭৩ জন এবং আহত হয়েছে ১২৫৬ জন মানুষ। জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি দুর্ঘটনা পর্যালোচনা ও মন্তব্যে বলেছে গত জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন নিহত হয়েছিল ১৭.২ জন। জুলাই মাসে গড়ে প্রতিদিন নিহত হয়েছে ১৮.৪৮ জন। এই হিসাবে জুলাই মাসে প্রাণহানি বেড়েছে ৭.৪৪ শতাংশ।

সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ১৮৮ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৮৩ জন। এই সময়ে ১৪ নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ২৩ আহত এবং ১১ জন নিখোঁজ রয়েছে। ৩৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যু এবং ১২ জন আহত হয়েছে।সোমবার (০৭ আগস্ট) সংবাদ মাধ্যমে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো জুলাই মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহত হওয়ার চিত্রে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৮৩ জন; ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ৩৬ জন; প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ আরোহী ২৩ জন; থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ১০৩ জন; স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র-লাটাহাম্বা) ২২ জন এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান আরোহী ১১ জন নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ৯৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২১৭টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৪৪টি পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৩৩টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৯টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। সেখানে ১৭৪টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২০টি দুর্ঘটনায় ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি ৪২টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত হয়েছে। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে শরীয়তপুর ও বান্দরবান জেলায়। এই ২টি জেলায় সামান্য মাত্রার ৫টি দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত এবং ৩৭ জন আহত হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো হচ্ছে— ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ-যুবাদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি; গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

ইউডি/এজেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading